ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলীনকিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ সীমান্তের ১৮০০ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি, খোলা হচ্ছে ১৮ বেস ক্যাম্প বিয়ানীবাজার সীমান্তে ইয়াবাসহ আটক ১, ট্রাক্টর জব্দ ডাক ও ডিজিটাল আর্থিক সেবায় অবদান, সম্মাননা পেলেন ৬ জন অপরিকল্পিত নগরায়ণে কমছে আবাদি জমি, সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা ‘মাই হ্যাপিনেস’ লিখে সুখের রহস্য জানালেন পরীমনি এক যুগ ধরে জরাজীর্ণ মহেশখালীর পুরোনো আদালত ভবন, ভাড়া ভবনে চলছে বিচারিক কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, ৩ আসামি রিমান্ডে কুমিল্লায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনা দুর্গাপূজা ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৬:১৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১৯ বার পড়া হয়েছে

আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর হোটেল অবকাশে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিচারপ্রাপ্তি সহজ করার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে হবে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব করে বিচারব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব হলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। এ লক্ষ্যে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কর্মকর্তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করার এবং তাদের জীবন ও বাস্তবতা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এ অভিজ্ঞতা তাদের পেশাগত জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে, যা ভবিষ্যতে বিচারিক দায়িত্ব পালনের সময় আরও কার্যকর ও মানসম্মত রায় প্রদানে সহায়ক হবে।’

তিনি বলেন, ‘জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অর্জিত অভিজ্ঞতাই প্রকৃত শিক্ষা। আইনগত সহায়তা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের সমস্যা ও বাস্তবতা সম্পর্কে যে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, তা তাদের বিচারিক উপলব্ধিকে আরও গভীর করবে।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিচারকগণ রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে, আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তির পথে বাধা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো সম্ভব হলে বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ হবে।’

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। যানবাহনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। কর্মকর্তাদের ছুটিসংক্রান্ত বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের সাফল্য মূল্যায়নে শুধু কার্যক্রম পরিচালনা নয়, এর মাধ্যমে অর্জিত ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ কার্যক্রমের অর্জন ও অগ্রগতির একটি ইতিবাচক চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জনসেবার মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদেরও জনগণের সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।’

আইনমন্ত্রী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সহযোগিতার জন্য জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থাকে (জাইকা) ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের শ্রম, মেধা, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইডের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) JICA Access to Justice Project-এর প্রধান উপদেষ্টা তাকুরো ফুজিওকা এবং আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এসএম এরশাদুল আলম।

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের জন্য প্রথমবারের মতো আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ৩৩ জন অংশগ্রহণ করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আলীনকিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ

আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:১৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর হোটেল অবকাশে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিচারপ্রাপ্তি সহজ করার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে হবে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব করে বিচারব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব হলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। এ লক্ষ্যে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কর্মকর্তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করার এবং তাদের জীবন ও বাস্তবতা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এ অভিজ্ঞতা তাদের পেশাগত জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে, যা ভবিষ্যতে বিচারিক দায়িত্ব পালনের সময় আরও কার্যকর ও মানসম্মত রায় প্রদানে সহায়ক হবে।’

তিনি বলেন, ‘জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অর্জিত অভিজ্ঞতাই প্রকৃত শিক্ষা। আইনগত সহায়তা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের সমস্যা ও বাস্তবতা সম্পর্কে যে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, তা তাদের বিচারিক উপলব্ধিকে আরও গভীর করবে।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিচারকগণ রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে, আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তির পথে বাধা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো সম্ভব হলে বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ হবে।’

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। যানবাহনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। কর্মকর্তাদের ছুটিসংক্রান্ত বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের সাফল্য মূল্যায়নে শুধু কার্যক্রম পরিচালনা নয়, এর মাধ্যমে অর্জিত ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ কার্যক্রমের অর্জন ও অগ্রগতির একটি ইতিবাচক চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জনসেবার মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদেরও জনগণের সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।’

আইনমন্ত্রী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সহযোগিতার জন্য জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থাকে (জাইকা) ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের শ্রম, মেধা, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইডের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) JICA Access to Justice Project-এর প্রধান উপদেষ্টা তাকুরো ফুজিওকা এবং আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এসএম এরশাদুল আলম।

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের জন্য প্রথমবারের মতো আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ৩৩ জন অংশগ্রহণ করেন।