ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুর্নীতির দায়ে পদাবনতি, এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক আরিফুল ইসলাম জুয়েল দুই হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু, ওয়াসার গাড়িচালক তাজুলের পাঁচতলা ভবনে ১৭ ফ্ল্যাট ডেঙ্গু ঠেকাতে নাগরিকদের বাসাবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৯০ কোটি টাকার খালি চেক দেওয়ার অভিযোগে দুদকের নজরে খুলনা ওয়াসার রেজাউল ইসলাম বিমান মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ দেশের জন্য গর্বের বিষয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামলার আশঙ্কায় পিছিয়ে গেল রোনালদোদের ম্যাচ শেখ হাসিনার দুপুরের খাবারের খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায় নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান ছাত্রলীগের পদের জন্য প্রতিদিন সাদ্দাম-ইনানের পা চাটত সারজিস: রাশেদ খান

বিদ্যালয়ের ৫০ শতক জমির হিসাব ২৯ বছরেও মেলেনি, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার নানকর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে দান করা ৫০ শতক জমির আয়-ব্যয়ের হিসাব দীর্ঘ ২৯ বছরেও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মুন্নাফ মণ্ডলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জমিটি বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের আওতায় না এনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভোগদখলে রেখেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৭ সালের ৩ জুলাই দলিল নম্বর ১০৪১৬ মূলে বিদ্যালয়ের নামে ৫০ শতক জমি দান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে ওই জমি থেকে প্রাপ্ত কোনো আয় বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি। অবসর গ্রহণের পরও জমিটি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর না করে তিনি নিজেই ভোগদখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে জমিটি পুনরায় তাঁর নিজের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ হোসেন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “কোনো প্রধান শিক্ষক বা ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রতিষ্ঠানের জমি নিজেদের নামে লিখে নিতে পারে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির আয় প্রতিষ্ঠানকে না দেওয়ার অভিযোগ আমরা তদন্ত করে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে দান করা সম্পত্তি ব্যক্তিগতভাবে ভোগদখলে রাখা বা এর হিসাব না দেওয়া হলে তা উদ্বেগজনক। তাঁরা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে দান করা সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতির দায়ে পদাবনতি, এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক আরিফুল ইসলাম জুয়েল

বিদ্যালয়ের ৫০ শতক জমির হিসাব ২৯ বছরেও মেলেনি, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার নানকর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে দান করা ৫০ শতক জমির আয়-ব্যয়ের হিসাব দীর্ঘ ২৯ বছরেও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মুন্নাফ মণ্ডলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জমিটি বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের আওতায় না এনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভোগদখলে রেখেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৭ সালের ৩ জুলাই দলিল নম্বর ১০৪১৬ মূলে বিদ্যালয়ের নামে ৫০ শতক জমি দান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে ওই জমি থেকে প্রাপ্ত কোনো আয় বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি। অবসর গ্রহণের পরও জমিটি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর না করে তিনি নিজেই ভোগদখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে জমিটি পুনরায় তাঁর নিজের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ হোসেন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “কোনো প্রধান শিক্ষক বা ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রতিষ্ঠানের জমি নিজেদের নামে লিখে নিতে পারে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির আয় প্রতিষ্ঠানকে না দেওয়ার অভিযোগ আমরা তদন্ত করে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে দান করা সম্পত্তি ব্যক্তিগতভাবে ভোগদখলে রাখা বা এর হিসাব না দেওয়া হলে তা উদ্বেগজনক। তাঁরা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে দান করা সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।