ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুর্নীতির দায়ে পদাবনতি, এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক আরিফুল ইসলাম জুয়েল দুই হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু, ওয়াসার গাড়িচালক তাজুলের পাঁচতলা ভবনে ১৭ ফ্ল্যাট ডেঙ্গু ঠেকাতে নাগরিকদের বাসাবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৯০ কোটি টাকার খালি চেক দেওয়ার অভিযোগে দুদকের নজরে খুলনা ওয়াসার রেজাউল ইসলাম বিমান মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ দেশের জন্য গর্বের বিষয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামলার আশঙ্কায় পিছিয়ে গেল রোনালদোদের ম্যাচ শেখ হাসিনার দুপুরের খাবারের খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায় নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান ছাত্রলীগের পদের জন্য প্রতিদিন সাদ্দাম-ইনানের পা চাটত সারজিস: রাশেদ খান

মাকে হারাল ১ মাসের শিশু, গৃহবধূর মৃত্যুতে স্বামী-দেবর হেফাজতে

বরিশালের বাবুগঞ্জে ঐশী আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী সোহেল খান (২৮) ও দেবর তানভীর খানকে (২২) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঐশীর মৃত্যুর ঘটনায় মাত্র ১ মাস ১০ দিন বয়সী একটি শিশু মাকে হারিয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঐশীকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত ঐশী আক্তার বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর সাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে। তাঁর স্বামী সোহেল খান কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাদের খানের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের জেরে ঘটনার চার দিন আগে সোহেল তাঁর স্ত্রীর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাঁকে মারধরও করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। এতে ঐশীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত ঐশীর বড় বোন অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই সোহেল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঐশীর ওপর নির্যাতন করে আসছিলেন। এক মাস আগে সন্তান জন্ম দিলেও তাঁকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঐশী স্বামীর বাড়িতে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে সোমবার সকালে তাঁকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঐশীর বড় বোন আরও জানান, সোহেলের আগের একটি বিয়ে রয়েছে। সেই সংসারে তাঁর একটি কন্যাসন্তান আছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে মনিরুল ইসলাম জানান, মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ঐশীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে আসার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঐশীর মৃত্যুর খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাঁর স্বামী সোহেল খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর দেবর তানভীর খানকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বরিশাল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঐশীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতির দায়ে পদাবনতি, এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক আরিফুল ইসলাম জুয়েল

মাকে হারাল ১ মাসের শিশু, গৃহবধূর মৃত্যুতে স্বামী-দেবর হেফাজতে

আপডেট সময় ০৭:৫৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জে ঐশী আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী সোহেল খান (২৮) ও দেবর তানভীর খানকে (২২) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঐশীর মৃত্যুর ঘটনায় মাত্র ১ মাস ১০ দিন বয়সী একটি শিশু মাকে হারিয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঐশীকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত ঐশী আক্তার বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর সাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে। তাঁর স্বামী সোহেল খান কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাদের খানের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের জেরে ঘটনার চার দিন আগে সোহেল তাঁর স্ত্রীর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাঁকে মারধরও করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। এতে ঐশীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত ঐশীর বড় বোন অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই সোহেল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঐশীর ওপর নির্যাতন করে আসছিলেন। এক মাস আগে সন্তান জন্ম দিলেও তাঁকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঐশী স্বামীর বাড়িতে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে সোমবার সকালে তাঁকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঐশীর বড় বোন আরও জানান, সোহেলের আগের একটি বিয়ে রয়েছে। সেই সংসারে তাঁর একটি কন্যাসন্তান আছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে মনিরুল ইসলাম জানান, মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ঐশীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে আসার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঐশীর মৃত্যুর খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাঁর স্বামী সোহেল খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর দেবর তানভীর খানকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বরিশাল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঐশীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।