ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না: চিফ হুইপ নির্ঘুম রাতে আচমকা গাছ ভেঙে মৃত্যু গৃহবধূর, প্রাণে বাঁচলেন স্বামী-শি’শু ভেড়ামারায় পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশি রিভলবার ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি ডিজিটাল দক্ষতা ও প্রযুক্তি অংশীদারত্ব নিয়ে বাংলাদেশ ও গুগলের আলোচনা আত্রাইয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক ও বাল্যবিবাহ রোধে জোরালো পদক্ষেপের তাগিদ ভোলাহাট সীমান্তে বিজিবির উদ্যোগে মাসব্যাপী ইলেকট্রিক্যাল প্রশিক্ষণ শুরু মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষ: সিটি করপোরেশনের ৩ গাড়িতে আগুন, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, শাহাবুদ্দিন-মামুনের বিরুদ্ধে

বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতের নতুন শুল্ক, টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১১:৪২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, টুইন ও বস্তাসহ বিভিন্ন পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন এ শুল্ক কার্যকর করেছে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা কম দামে পণ্য সরবরাহ করায় ভারতের স্থানীয় পাটশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৩৬টি পাট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্যে টনপ্রতি ৫৯ থেকে ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত নয়—এমন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পাটের সুতা বা টুইন আমদানি করলে প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক দিতে হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তা রপ্তানিতে প্রতি টনে ১২০ ডলার শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ক্ষেত্রে টনপ্রতি ৫৯ ডলার শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।

তবে নতুন ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান সব ধরনের পাটপণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস শুধু পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পর গত বছরের জুনে এই পর্যালোচনা শুরু করে ডিজিটিআর। তদন্তে বাংলাদেশের ৫৪টি পাটকলের কাছে তথ্য চাওয়া হলে ৩৮টি প্রতিষ্ঠান তথ্য দেয়।

ডিজিটিআরের দাবি, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ২০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে ১৩ শতাংশ। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে নেমে আসে।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক ভারতের নতুন শুল্ককে একতরফা ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ বর্তমানে পাটের সুতা, টুইন ও বস্তা রপ্তানিতে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ভারতের বাজারে রপ্তানি সাময়িক কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক আঁশভিত্তিক পণ্যের চাহিদা থাকায় সামগ্রিক রপ্তানি কমার আশঙ্কা নেই।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১১৬ কোটি ডলারের পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি করেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৮২ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

নতুন শুল্কের ফলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পাটপণ্যের প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব

বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতের নতুন শুল্ক, টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার

আপডেট সময় ১১:৪২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, টুইন ও বস্তাসহ বিভিন্ন পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন এ শুল্ক কার্যকর করেছে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা কম দামে পণ্য সরবরাহ করায় ভারতের স্থানীয় পাটশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৩৬টি পাট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্যে টনপ্রতি ৫৯ থেকে ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত নয়—এমন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পাটের সুতা বা টুইন আমদানি করলে প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক দিতে হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তা রপ্তানিতে প্রতি টনে ১২০ ডলার শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ক্ষেত্রে টনপ্রতি ৫৯ ডলার শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।

তবে নতুন ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান সব ধরনের পাটপণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস শুধু পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পর গত বছরের জুনে এই পর্যালোচনা শুরু করে ডিজিটিআর। তদন্তে বাংলাদেশের ৫৪টি পাটকলের কাছে তথ্য চাওয়া হলে ৩৮টি প্রতিষ্ঠান তথ্য দেয়।

ডিজিটিআরের দাবি, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ২০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে ১৩ শতাংশ। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে নেমে আসে।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক ভারতের নতুন শুল্ককে একতরফা ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ বর্তমানে পাটের সুতা, টুইন ও বস্তা রপ্তানিতে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ভারতের বাজারে রপ্তানি সাময়িক কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক আঁশভিত্তিক পণ্যের চাহিদা থাকায় সামগ্রিক রপ্তানি কমার আশঙ্কা নেই।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১১৬ কোটি ডলারের পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি করেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৮২ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

নতুন শুল্কের ফলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পাটপণ্যের প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।