ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে ফিরলেই শেখ হাসিনাকে জেলে যেতে হবে: শামা ওবায়েদ লভ্যাংশ না নিয়ে আয়ের ওপর নেওয়া হয়েছে টাকা : সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি ডলারের দরপতনে প্রভাব স্বর্ণের দামে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো গেলে দুর্নীতির সুযোগ কমবে : অর্থমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়েও বর্তমান সরকার দেশকে খারাপ দিকে নিয়ে যাচ্ছে : চরমোনাই পীর ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলায় ক্ষোভ ঝাড়লেন পরীমনি হারানো অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান, তথ্য দিলে পুরস্কার ভারত-বাংলাদেশের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল নিয়ে সুখবর গাজীপুরে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে রোগীর চাপ

গাজীপুরে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে রোগীর চাপ

গাজীপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোয় বাড়ছে চাপ। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত বেড পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত রোগীদের বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে থাকতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত বেড ও মশারির ব্যবস্থা না থাকায় গরমের মধ্যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা। সরজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চারটি ওয়ার্ড ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত বেড পূর্ণ থাকায় অনেক রোগীকে বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে জায়গা নিতে হয়েছে। এসব স্থানে পর্যাপ্ত বেড, ফ্যান ও মশারির ব্যবস্থা না থাকায় মশার উপদ্রবের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে তাদের।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা জানান, ‘আশপাশে কোথাও মশা-মাছি মারার বা ডেঙ্গুর জন্য ওষুধ ছিটাতে দেখিনি। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু একটি বেডে দুজন করে রোগী থাকছেন। এখানে থাকাও অনেক কষ্টকর। বাইরে-ভেতরে অনেক রোগী।’
সফিপুর থেকে আসা এক রোগীর স্বজন জানায় , হাসপাতালে আসার পর ভেতরে কোনো বেড খালি পাননি। তাই তাদের বাইরে থাকতে দেয়া হয়েছে। ফ্যান ও মশারি না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

কাপাসিয়ার পিরোজপুর গ্রামের বাসিন্দা আজিম খান ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রোববার ভোরে হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ নিয়ে চলতি বছর এখানে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন) ডা. শেখ কামরুল করিম বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালে ১১৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ১৩০। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। বেডের তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।’ জ্বরের রোগীদের পরীক্ষায় ২০-২৫ শতাংশের ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শুধু এ হাসপাতালেই নয়, জেলার অন্যান্য হাসপাতালেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. নিয়াজ জানান, সেখানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১৬ শয্যার একটি কর্নার চালু করা হয়েছে। তবে গতকাল ওই কর্নারেই ভর্তি ছিল ৬৫ জন রোগী।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, রোববার জেলার দুটি সরকারি হাসপাতাল ও পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫৩টি পরীক্ষায় ৪১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে পাওয়া ২৭৬টি পরীক্ষার প্রতিবেদনের মধ্যে ৫৩ জন পজিটিভ। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৫২৯টি পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন ৯৪ জন। ওইদিন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিল ২০১ ডেঙ্গু রোগী।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পাশাপাশি মাইকিং ও মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবে নাগরিকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হয় না। ফলে মশার প্রজনন বাড়ছে।’

জনসচেতনতা ও কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার না করা হলে গাজীপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে ফিরলেই শেখ হাসিনাকে জেলে যেতে হবে: শামা ওবায়েদ

গাজীপুরে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে রোগীর চাপ

আপডেট সময় ০৪:১৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোয় বাড়ছে চাপ। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত বেড পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত রোগীদের বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে থাকতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত বেড ও মশারির ব্যবস্থা না থাকায় গরমের মধ্যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা। সরজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চারটি ওয়ার্ড ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত বেড পূর্ণ থাকায় অনেক রোগীকে বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে জায়গা নিতে হয়েছে। এসব স্থানে পর্যাপ্ত বেড, ফ্যান ও মশারির ব্যবস্থা না থাকায় মশার উপদ্রবের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে তাদের।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা জানান, ‘আশপাশে কোথাও মশা-মাছি মারার বা ডেঙ্গুর জন্য ওষুধ ছিটাতে দেখিনি। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু একটি বেডে দুজন করে রোগী থাকছেন। এখানে থাকাও অনেক কষ্টকর। বাইরে-ভেতরে অনেক রোগী।’
সফিপুর থেকে আসা এক রোগীর স্বজন জানায় , হাসপাতালে আসার পর ভেতরে কোনো বেড খালি পাননি। তাই তাদের বাইরে থাকতে দেয়া হয়েছে। ফ্যান ও মশারি না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

কাপাসিয়ার পিরোজপুর গ্রামের বাসিন্দা আজিম খান ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রোববার ভোরে হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ নিয়ে চলতি বছর এখানে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন) ডা. শেখ কামরুল করিম বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালে ১১৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ১৩০। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। বেডের তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।’ জ্বরের রোগীদের পরীক্ষায় ২০-২৫ শতাংশের ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শুধু এ হাসপাতালেই নয়, জেলার অন্যান্য হাসপাতালেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. নিয়াজ জানান, সেখানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১৬ শয্যার একটি কর্নার চালু করা হয়েছে। তবে গতকাল ওই কর্নারেই ভর্তি ছিল ৬৫ জন রোগী।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, রোববার জেলার দুটি সরকারি হাসপাতাল ও পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫৩টি পরীক্ষায় ৪১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে পাওয়া ২৭৬টি পরীক্ষার প্রতিবেদনের মধ্যে ৫৩ জন পজিটিভ। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৫২৯টি পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন ৯৪ জন। ওইদিন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিল ২০১ ডেঙ্গু রোগী।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পাশাপাশি মাইকিং ও মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবে নাগরিকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হয় না। ফলে মশার প্রজনন বাড়ছে।’

জনসচেতনতা ও কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার না করা হলে গাজীপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।