রড, বালু ও পাথরবোঝাই ট্রাক ক্যাম্পাসে ঢুকতেই বাধা—কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে চালক-হেলপারকে জিজ্ঞাসাবাদ, গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগ। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) উপাচার্যের বাসভবন নির্মাণকাজের সামগ্রীবাহী ট্রাক আটকে কথিত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের পাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের অভিযোগ। তাদের দাবি, পঞ্চগড় ও বাংলাবান্ধা থেকে পাথর, বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী নিয়ে কয়েকটি ট্রাক ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর কয়েকজন শিক্ষার্থী ট্রাকগুলো আটকে দেন। তারা ট্রাকের ফিটনেস, নির্মাণসামগ্রীর চালান ও অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান। একপর্যায়ে মালামাল নামাতে নিষেধ করা হয় এবং চালক-হেলপারদের গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন জানান, রাতভর ট্রাকগুলো আটকে থাকায় চালক-হেলপাররা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হন। তাদের ভাষ্য, একদিকে মালামাল না নামানোর জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ, অন্যদিকে মালামাল খালাস না করলে ট্রাক মালিকদের কাছ থেকে খাবার ও খোরাকি না পাওয়ার আশঙ্কা—এতে চালকেরা চরম বিপাকে পড়েন। দীর্ঘ সময় ট্রাক আটকে থাকায় নির্মাণকাজের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে বলে দাবি তাদের।
রোববার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন কয়েকটি ভবনের সামনে প্রায় ছয়টি মালবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তর্ক-বিতর্ক করতে দেখা যায়। তারা ট্রাকের কাগজপত্র ও নির্মাণসামগ্রীর চালান সম্পর্কে জানতে চান। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের কয়েকজন সেখান থেকে সরে যান। পরে রাতে ক্যাম্পাসে কোনো ট্রাক প্রবেশ না করার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের (পুরঃ) প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী
কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহরিয়ার আকিফ বলেন, শিক্ষার্থীরা রাতে ট্রাক প্রবেশ করায় তারা বিব্রত হন। তবে ট্রাক আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, এর আগেও বেরোবি শাখা ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তবে সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের তেমন ভুমিকা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
মোঃ রাকিবুল হাসান পরাগ স্টাফ রিপোর্টার 




















