রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৩নং গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ইউনিয়ন পরিষদের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আটক করে মারপিট এবং ইউপি প্যাডের ফাঁকা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মকর্তা বাদী হয়ে রংপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলি আদালতে সির আর মামলা দায়ের করেছেন
অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩৬৫, ৩০৭, ৩২৩, ৩৪২, ৩৮৬, ৪২০ ও ৫০৬(২) ধারায় মামলা রুজুর আবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাত ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী উজ্জ্বল কুমার অধিকারী ১৩নং গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। গত ১৪ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার বিকাল অনুমান ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সরকারী কাজে প্রশ্ন তোলায় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশীদ তার উপর দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ ছিলেন। একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় ২নং আসামী মোঃ রবিউল ইসলাম এর সাথে যোগসাজশে চেয়ারম্যান সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৪ আগস্ট সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়িতে থাকা অবস্থায় শালিসের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে বাদীকে ইউপি অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে মোঃ মমতাজুর রহমান, সামিউল হক ও অজ্ঞাত ২/৩ জন মিলে তাকে কৌশলে আটক রাখেন।
আটক অবস্থায় ২নং আসামীর নিকট জনৈকা খাদিজা বেগমের ১০লক্ষ ৫০হাজার টাকা পাওনা আছে উল্লেখ করে সেই টাকা পরিশোধের অঙ্গীকারনামায় বাদীকে গ্যারান্টার হিসেবে স্বাক্ষর করতে চাপ দেয় আসামীরা। বাদী তাতে রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ হাত দিয়ে এলোপাতারি ভাবে তার মাথায় স্বজোরে আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এরপর তাকে টেনে তুলে চেয়ারম্যান তার পায়ের স্যান্ডেল দিয়ে নির্মমভাবে মারপিট করেন বলে অভিযোগে বলা হয়। আসামীরা মব সৃষ্টি করে বাদীকে মৃত্যুভয় দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডের ২টি ফাঁকা কাগজে একটি তে পূর্ণনাম ও অন্যটিতে সংক্ষিপ্ত স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করেন।
পুলিশ ও প্রশাসনকে অবহিত
আসামীদের কবল থেকে ছাড়া পেয়ে বাদী ১৩নং গোপালপুর ইউনিয়ন বিট পুলিশকে মোবাইল ফোনে ঘটনা জানান। পরে মিঠাপুকুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। একই সাথে তিনি বিষয়টি UNO মিঠাপুকুরকে WhatsApp এর মাধ্যমে অবহিত করেন। চিকিৎসা ও কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা শেষে তিনি রংপুর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন উক্ত আবেদনের কপি মিঠাপুকুর থানায় জমা দেন ও বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলী আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন যাহা বর্তমান মামলাটি পিবিআই তদন্তধীন আছে।
তবে এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানীতে উঠে আসে ভয়াবহ তথ্যচিত্র এক অনুসন্ধানীতে দেখা যায়, অফিসে কর্মকর্তাকে আটক করে মারপিট, ফাঁকা প্যাডে জোরপূর্বক স্বাক্ষর,উপজেলার থেকে প্রাপ্ত টি আর/ কাবিখা / কাবিটার বরাদ্দে কাজের বিল বোড কাজের স্থানে না থেকে নাম মাত্র ঝুলিয়ে নিজের লোক গুলো কে কমিটিতে রেখে ছবি তুলিয়ে চুড়ান্ত বিল উত্তোলন করেন। ছবি তোলা শেষ হলে বিলবোর্ড গুলো অফিসে সংরক্ষণ করেন।ইউনিয়ন পরিষদ এর বাগান তৈরি কাজে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় দেখিছেন টাকা আত্মসাৎ করেন। আবার ইউনিয়ন পরিষদ এর পুকুরে প্যালাসেটিং কাজে শেষ না হতেই ভেংগে যায়।পবিত্র ঈদুল ফিতরের / ২৬ ইং মাসের ভিজিএফ এর চাল এর তালিকায় চেয়ারম্যান এর তালিকায় নাম আছে কিন্তু লোক গুলো জানে না তালিকায় তাদের নাম আছে। চাল গুলো পরে ব্যপারি কে দেওয়া হয়। প্রশাসনিক কর্মকতা বাধা দিলে মোবাইলে হুমকি প্রদান করে বলে এলাকা সুত্রে জানা জায়।

বিষয়ে ভুক্তভোগী দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, এহেন অপকর্ম নেই চেয়ারম্যান করেন না চেয়ারম্যান সাহেব উপজেলা থেকে বরাদ্দ উন্নয়ন অবকাঠামোর কাজগুলো শুধু নাম্বার প্লেট দেখিয়ে বিল উত্তোলন করেন এবং ঘটনার দিন একটি একটি মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার ওপর এই অমানবিক নির্যাতন চালায় চেয়ারম্যান সহ তার লোকজন আমি বিচার চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেছি মামলাটি পিবিআই তদন্তধীন আছে নিশ্চয়ই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সত্য উদঘাটিত হবে এবং দোষীরা শাস্তি পাবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী
ব্যারিস্টার সজিব মাহমুদ বলেন, “সরকারী কর্মকর্তাকে আটক করে মারপিট ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া গুরুতর অপরাধ। এটি অপহরণ, মারপিট, চাঁদাবাজি ও জালিয়াতির শামিল। তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিঠাপুকুর থানার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, হ্যাঁ বিষয়টি শুনেছি বিজ্ঞ আদালতে মামলা হয়েছে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ উপজেলা প্রশাসন
শহীদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি 





















