ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর খানের শতকোটি টাকার সম্পদ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন আনোয়ারা উপজেলায় ৩ বছরের বেশি মৎস্য কর্মকর্তা, ৭,৭৪৪ মৎস্যজীবীর তালিকা যাচাই ও প্রকাশের দাবি ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ নোয়াখালীতে কান্না করায় ১৪ দিনের শিশুকে পানির ড্রামে ফেলে হত্যা, মা গ্রেপ্তার ঢাকা ইপিজেডের রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্রের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদের অভিযোগ ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ফাইল আটকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কেন্দ্রে প্রধান প্রকৌশলী আবদুল আউয়াল বিআইডব্লিউটিএ চিলমারী শাখার সহকারী পোর্ট অফিসারের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ নষ্ট ও দুর্নীতির অভিযোগ বেতন-ভাতা তুলছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীম চসিক সচিবের কণ্ঠ নকল করে অডিও ছড়ানোর অভিযোগ
ঘাটে বাঁধা স্পিডবোট, মাসে ৫০ হাজার টাকা "তেল খরচ" উত্তোলন

বিআইডব্লিউটিএ চিলমারী শাখার সহকারী পোর্ট অফিসারের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ নষ্ট ও দুর্নীতির অভিযোগ

চিলমারী-কুড়িগ্রাম ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবহেলায় পড়ে আছে কোটি টাকার সরকারি স্পিডবোট। অথচ সেই বোট নদীতে না চালিয়েই প্রতি মাসে “তেল খরচ” বাবদ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে বিআইডব্লিউটিএ চিলমারী শাখার সহকারী পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া স্পিডবোটটি চিলমারী নৌ-ঘাটে দড়ি দিয়ে বাঁধা। বোটের গায়ে ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা জমে গেছে। দেখাশোনার কোনো ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, বোটটি মাঝে মাঝে ভাড়ায়ও চালানো হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি বরাদ্দকৃত এই স্পিডবোটটির কোনো চলাচল না থাকলেও প্রতি মাসে তেল খরচের নামে ৫০ হাজার টাকা বিল উত্তোলন করছেন ওই কর্মকর্তা। বোট দেখাশোনার জন্য তিনি পিয়ন, টার্মিনাল গার্ডসহ রবিন, সাবিরুল, হাফিজুর ও আরও একজন মোট ৪ জন কর্মচারী নিয়োগ করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই ৪ জন কর্মচারীকে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা বেতন দিয়ে স্পিডবোটটি পাহারার কাজে নিয়োগ দিলেও বোটটি দিয়ে সরকারের কোনো রাজস্ব আসছে না। উপরন্তু অভিযুক্ত কর্মকর্তা ভুয়া ভাউচার বানিয়ে প্রতি মাসের তেল খরচের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র রায় রাগান্বিত হয়ে বলেন, “আমার চেয়ারম্যানকে গিয়ে বলেন।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার নামে বরাদ্দকৃত সরকারি সম্পদ এভাবে অযত্ন-অবহেলায় ফেলে রাখা এবং তার বিপরীতে অর্থ উত্তোলন রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও দুর্নীতির শামিল।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও নৌ-শ্রমিকরা দ্রুত তদন্ত করে দোষী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্পিডবোটটি জনস্বার্থে ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন।

বিআইডব্লিউটিএর বক্তব্য: এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ও বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর খানের শতকোটি টাকার সম্পদ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন

ঘাটে বাঁধা স্পিডবোট, মাসে ৫০ হাজার টাকা "তেল খরচ" উত্তোলন

বিআইডব্লিউটিএ চিলমারী শাখার সহকারী পোর্ট অফিসারের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ নষ্ট ও দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:১৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

চিলমারী-কুড়িগ্রাম ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবহেলায় পড়ে আছে কোটি টাকার সরকারি স্পিডবোট। অথচ সেই বোট নদীতে না চালিয়েই প্রতি মাসে “তেল খরচ” বাবদ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে বিআইডব্লিউটিএ চিলমারী শাখার সহকারী পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া স্পিডবোটটি চিলমারী নৌ-ঘাটে দড়ি দিয়ে বাঁধা। বোটের গায়ে ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা জমে গেছে। দেখাশোনার কোনো ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, বোটটি মাঝে মাঝে ভাড়ায়ও চালানো হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি বরাদ্দকৃত এই স্পিডবোটটির কোনো চলাচল না থাকলেও প্রতি মাসে তেল খরচের নামে ৫০ হাজার টাকা বিল উত্তোলন করছেন ওই কর্মকর্তা। বোট দেখাশোনার জন্য তিনি পিয়ন, টার্মিনাল গার্ডসহ রবিন, সাবিরুল, হাফিজুর ও আরও একজন মোট ৪ জন কর্মচারী নিয়োগ করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই ৪ জন কর্মচারীকে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা বেতন দিয়ে স্পিডবোটটি পাহারার কাজে নিয়োগ দিলেও বোটটি দিয়ে সরকারের কোনো রাজস্ব আসছে না। উপরন্তু অভিযুক্ত কর্মকর্তা ভুয়া ভাউচার বানিয়ে প্রতি মাসের তেল খরচের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র রায় রাগান্বিত হয়ে বলেন, “আমার চেয়ারম্যানকে গিয়ে বলেন।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার নামে বরাদ্দকৃত সরকারি সম্পদ এভাবে অযত্ন-অবহেলায় ফেলে রাখা এবং তার বিপরীতে অর্থ উত্তোলন রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও দুর্নীতির শামিল।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও নৌ-শ্রমিকরা দ্রুত তদন্ত করে দোষী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্পিডবোটটি জনস্বার্থে ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন।

বিআইডব্লিউটিএর বক্তব্য: এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ও বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।