ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জন্মদিনের দাওয়াতের আড়ালে ‘ফাঁদ’

সমকামিতার অপবাদে ১০ লাখ টাকা দাবি-৬০ হাজারে মুক্তির অভিযোগ

  • রিয়াজ ফরাজী 
  • আপডেট সময় ১২:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৩ বার পড়া হয়েছে
ভোলার বোরহানউদ্দিনে জন্মদিনের দাওয়াতের কথা বলে এক যুবককে ডেকে নিয়ে নির্জন স্থানে মারধর, দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদকদ্রব্য সামনে রেখে ভিডিও ধারণ এবং ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন—মেহেদী হাসান পলিন ও ইমন হাওলাদার। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, মেহেদী হাসান পলিন টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ইমন হাওলাদার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-দফতর সম্পাদক।
ভুক্তভোগী মো. আল মামুন মিঠু (২৬) বোরহানউদ্দিন থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় তিন-চার মাস আগে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ১৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা তাদের ভাগনির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াতের কথা বলে তাকে মনিরাম বাজারে আসতে বলেন।
মিঠুর অভিযোগ, তিনি তাদের কথায় বিশ্বাস করে মনিরাম বাজারে গেলে অভিযুক্তরা তাদের বোনের বাসায় যাওয়ার কথা বলে তাকে সঙ্গে নিয়ে একটি নির্জন স্থানে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর হঠাৎ তার ওপর হামলা চালানো হয়। কোমরের বেল্ট দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর এবং দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এরপর তার সামনে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য রেখে ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন মিঠু।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রাণনাশের ভয় ও সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কায় তিনি অভিযুক্তদের কথামতো টাকা দিতে বাধ্য হন। তার কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা এবং তার এক বন্ধুর ব্যাংক হিসাব থেকে আরও ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। অর্থাৎ মোট ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু টাকা নয়, এ সময় তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও জোর করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন মিঠু। টাকা ও স্বর্ণের চেইন ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মিঠুর আরও অভিযোগ, ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি কাউকে জানালে কিংবা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে ‘সমকামিতার অপবাদ’ দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী। তার দাবি, তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।
পরে কোনোভাবে অভিযুক্তদের কাছ থেকে নিজেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন মিঠু। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তিনি বোরহানউদ্দিন থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান- এদের সাথে আরও বড় গ্যাং রয়েছে, এই পর্যন্ত ৪-৫ টা ঘটনা তারা ঘটিয়েছে, তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি নন। আমরা চাই এদের শেল্টার দাতা সহ সকলকে তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনা হউক।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আর সচেতন মহল বলছে, অভিযোগের প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা জরুরি।
তবে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান পলিন ও ইমন হাওলাদারের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জন্মদিনের দাওয়াতের আড়ালে ‘ফাঁদ’

সমকামিতার অপবাদে ১০ লাখ টাকা দাবি-৬০ হাজারে মুক্তির অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
ভোলার বোরহানউদ্দিনে জন্মদিনের দাওয়াতের কথা বলে এক যুবককে ডেকে নিয়ে নির্জন স্থানে মারধর, দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদকদ্রব্য সামনে রেখে ভিডিও ধারণ এবং ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন—মেহেদী হাসান পলিন ও ইমন হাওলাদার। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, মেহেদী হাসান পলিন টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ইমন হাওলাদার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-দফতর সম্পাদক।
ভুক্তভোগী মো. আল মামুন মিঠু (২৬) বোরহানউদ্দিন থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় তিন-চার মাস আগে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ১৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা তাদের ভাগনির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াতের কথা বলে তাকে মনিরাম বাজারে আসতে বলেন।
মিঠুর অভিযোগ, তিনি তাদের কথায় বিশ্বাস করে মনিরাম বাজারে গেলে অভিযুক্তরা তাদের বোনের বাসায় যাওয়ার কথা বলে তাকে সঙ্গে নিয়ে একটি নির্জন স্থানে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর হঠাৎ তার ওপর হামলা চালানো হয়। কোমরের বেল্ট দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর এবং দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এরপর তার সামনে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য রেখে ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন মিঠু।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রাণনাশের ভয় ও সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কায় তিনি অভিযুক্তদের কথামতো টাকা দিতে বাধ্য হন। তার কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা এবং তার এক বন্ধুর ব্যাংক হিসাব থেকে আরও ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। অর্থাৎ মোট ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু টাকা নয়, এ সময় তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও জোর করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন মিঠু। টাকা ও স্বর্ণের চেইন ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মিঠুর আরও অভিযোগ, ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি কাউকে জানালে কিংবা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে ‘সমকামিতার অপবাদ’ দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী। তার দাবি, তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।
পরে কোনোভাবে অভিযুক্তদের কাছ থেকে নিজেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন মিঠু। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তিনি বোরহানউদ্দিন থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান- এদের সাথে আরও বড় গ্যাং রয়েছে, এই পর্যন্ত ৪-৫ টা ঘটনা তারা ঘটিয়েছে, তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি নন। আমরা চাই এদের শেল্টার দাতা সহ সকলকে তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনা হউক।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আর সচেতন মহল বলছে, অভিযোগের প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা জরুরি।
তবে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান পলিন ও ইমন হাওলাদারের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।