ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাফল্যের সুতোয় স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়ের পথে উইন্ডি গ্রুপ যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদেরকে নজরদারিতে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডেমরায় বাড়ি থেকে ২ বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার জাপানে ভারি বৃষ্টিতে ৮ জনের মৃত্যু, টোকিও বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী মোংলা নদীতে দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ হবে : নৌপরিবহনমন্ত্রী যারা পালিয়ে যায়, তার আর দেশে ফিরতে পারে না: রিজভী শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে; কালিহাতীতে তীব্র ক্ষোভ বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যা সমাধানে অন্তত দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী বংশালে হেলমেটের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট অনার্স পর্যন্ত নারীদের ফ্রিতে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

যারা পালিয়ে যায়, তার আর দেশে ফিরতে পারে না: রিজভী

ফ্যাসিস্ট হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কোনো ফ্যাসিস্টের তুলনা চলে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, মুসোলিনি, হিটলারের সঙ্গেও শেখ হাসিনার তুলনা চলে না। তাদের অন্তত নিজস্ব দেশপ্রেম ছিল। তারা জার্মানি বা ইতালিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। আর শেখ হাসিনা নিজের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে হলেও ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেট হলে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা চেয়েছেন, জনগণের ওপর যত পারো অত্যাচার করো, যত পারো রক্ত ঝরাও, তাতে তার কিছু যায় আসে না। শুধু তাকে সমর্থন করতে হবে। সেই কারণেই তিনি কাউকে পাত্তা দিতে চাননি। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ক্ষমতায় টিকে থাকা। এই টিকে থাকার জন্য তিনি এত রক্তের বন্যা বইয়েছেন। জনগণের মধ্যে এত বড় শক্তি থাকতে পারে, তা তিনি টের পাননি।

রিজভী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রবল প্রতাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী দলের কোনো জায়গা ছিল না। কথা বলারও কোনো সুযোগ ছিল না। এ কারণে ভিন্নমত পোষণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আক্রান্ত হয়েছেন। আসিফ নজরুলের চেম্বারে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর করেছে। আরও অনেক শিক্ষক শুধু কথা বলার কারণে চাকরি হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিই ছিল দুঃশাসনের নমুনা।

তিনি বলেন, শিক্ষকরা চাকরি করে যে বেতন পান, তা দিয়েই সংসার চালান। অথচ কথা বলার কারণে শিক্ষকসহ অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। এভাবে ক্ষোভ জমতে জমতে তার বিস্ফোরণ ঘটেছে জুলাইয়ে। জুলাই হচ্ছে দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

জুলাইয়ের চেতনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, চেতনা হচ্ছে হৃদয়ের বন্ধন। আমাদের বহুদলীয় ও বহুমাত্রিক গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যাতে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের আগমন না ঘটে। এখনো অনেকে বলেন, তারাই ভালো ছিলেন। ফ্যাসিবাদের লোকজন এখনো বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করছে। তাদের প্রচুর অর্থ রয়েছে এবং তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

রিজভী বলেন, ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে শুধু এটুকু বলতে চাই, এ ধরনের পতিত স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তন হয় না। এই চেতনাকে ধারণ করে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। আমরা যদি ভুল করি, একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ করতে না পারি, একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে ফ্যাসিবাদ আবার অন্য কোনো পথ বা চোরাগলি দিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে, তারা যা যা করেছে, আমরা তার বিপরীত করব। তারা দলীয়করণ করেছে, আওয়ামীকরণ করেছে, দেশের রাজকোষ শূন্য করেছে, ব্যাংক লুটপাট করেছে এবং দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। এসবের বিপরীত কাজ করতে পারলেই আমরা সফল হব। তাহলেই গণতন্ত্র আমাদের মাটির গভীরে প্রোথিত হবে এবং রাষ্ট্র একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

রিজভী আরও বলেন, গত ১৭ বছর দেশে প্রকৃত অর্থে লেখাপড়া হয়নি এবং অদ্ভুতভাবে মেধা ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে। সাংবাদিকরা এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় বিভিন্ন অভিভাবকের মতামত জানতে চেয়েছেন। তারা বলেছেন, ফলাফল যথার্থ প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সত্যকে প্রকাশ না করে নিজের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য কোনো বিষয়কে বাড়িয়ে দেখালে সর্বনাশ হয়ে যাবে। গত ১৭ বছর এমন কাজই করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী খাতায় কিছু না লিখে প্রশ্নপত্র লিখে এলেও তাকে পাস করানো হয়েছে, জিপিএ ৫ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যার যতটুকু মেধা, তার ফলাফল ততটুকুই হওয়া উচিত। এটি নিশ্চিত করতে হবে। যুগে যুগে এটাই হয়ে এসেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমুল হোসাইন প্রমুখ।

এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফ্যাসিস্ট হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কোনো ফ্যাসিস্টের তুলনা চলে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

রবিবার দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেট হলে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, মুসোলিনি, হিটলারের সঙ্গেও শেখ হাসিনার তুলনা চলে না। তাদের অন্তত নিজস্ব দেশপ্রেম ছিল। তারা জার্মানি বা ইতালিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। আর শেখ হাসিনা নিজের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে হলেও ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা চেয়েছেন, জনগণের ওপর যত পারো অত্যাচার করো, যত পারো রক্ত ঝরাও, তাতে তার কিছু যায় আসে না। শুধু তাকে সমর্থন করতে হবে। সেই কারণেই তিনি কাউকে পাত্তা দিতে চাননি। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ক্ষমতায় টিকে থাকা। এই টিকে থাকার জন্য তিনি এত রক্তের বন্যা বইয়েছেন। জনগণের মধ্যে এত বড় শক্তি থাকতে পারে, তা তিনি টের পাননি।

রিজভী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রবল প্রতাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী দলের কোনো জায়গা ছিল না। কথা বলারও কোনো সুযোগ ছিল না। এ কারণে ভিন্নমত পোষণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আক্রান্ত হয়েছেন। আসিফ নজরুলের চেম্বারে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর করেছে। আরও অনেক শিক্ষক শুধু কথা বলার কারণে চাকরি হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিই ছিল দুঃশাসনের নমুনা।

তিনি বলেন, শিক্ষকরা চাকরি করে যে বেতন পান, তা দিয়েই সংসার চালান। অথচ কথা বলার কারণে শিক্ষকসহ অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। এভাবে ক্ষোভ জমতে জমতে তার বিস্ফোরণ ঘটেছে জুলাইয়ে। জুলাই হচ্ছে দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

জুলাইয়ের চেতনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, চেতনা হচ্ছে হৃদয়ের বন্ধন। আমাদের বহুদলীয় ও বহুমাত্রিক গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যাতে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের আগমন না ঘটে। এখনো অনেকে বলেন, তারাই ভালো ছিলেন। ফ্যাসিবাদের লোকজন এখনো বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করছে। তাদের প্রচুর অর্থ রয়েছে এবং তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

রিজভী বলেন, ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে শুধু এটুকু বলতে চাই, এ ধরনের পতিত স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তন হয় না। এই চেতনাকে ধারণ করে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। আমরা যদি ভুল করি, একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ করতে না পারি, একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে ফ্যাসিবাদ আবার অন্য কোনো পথ বা চোরাগলি দিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে, তারা যা যা করেছে, আমরা তার বিপরীত করব। তারা দলীয়করণ করেছে, আওয়ামীকরণ করেছে, দেশের রাজকোষ শূন্য করেছে, ব্যাংক লুটপাট করেছে এবং দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। এসবের বিপরীত কাজ করতে পারলেই আমরা সফল হব। তাহলেই গণতন্ত্র আমাদের মাটির গভীরে প্রোথিত হবে এবং রাষ্ট্র একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

রিজভী আরও বলেন, গত ১৭ বছর দেশে প্রকৃত অর্থে লেখাপড়া হয়নি এবং অদ্ভুতভাবে মেধা ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে। সাংবাদিকরা এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় বিভিন্ন অভিভাবকের মতামত জানতে চেয়েছেন। তারা বলেছেন, ফলাফল যথার্থ প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সত্যকে প্রকাশ না করে নিজের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য কোনো বিষয়কে বাড়িয়ে দেখালে সর্বনাশ হয়ে যাবে। গত ১৭ বছর এমন কাজই করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী খাতায় কিছু না লিখে প্রশ্নপত্র লিখে এলেও তাকে পাস করানো হয়েছে, জিপিএ ৫ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যার যতটুকু মেধা, তার ফলাফল ততটুকুই হওয়া উচিত। এটি নিশ্চিত করতে হবে। যুগে যুগে এটাই হয়ে এসেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমুল হোসাইন প্রমুখ।
এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাফল্যের সুতোয় স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়ের পথে উইন্ডি গ্রুপ

যারা পালিয়ে যায়, তার আর দেশে ফিরতে পারে না: রিজভী

আপডেট সময় ০৮:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ফ্যাসিস্ট হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কোনো ফ্যাসিস্টের তুলনা চলে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, মুসোলিনি, হিটলারের সঙ্গেও শেখ হাসিনার তুলনা চলে না। তাদের অন্তত নিজস্ব দেশপ্রেম ছিল। তারা জার্মানি বা ইতালিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। আর শেখ হাসিনা নিজের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে হলেও ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেট হলে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা চেয়েছেন, জনগণের ওপর যত পারো অত্যাচার করো, যত পারো রক্ত ঝরাও, তাতে তার কিছু যায় আসে না। শুধু তাকে সমর্থন করতে হবে। সেই কারণেই তিনি কাউকে পাত্তা দিতে চাননি। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ক্ষমতায় টিকে থাকা। এই টিকে থাকার জন্য তিনি এত রক্তের বন্যা বইয়েছেন। জনগণের মধ্যে এত বড় শক্তি থাকতে পারে, তা তিনি টের পাননি।

রিজভী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রবল প্রতাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী দলের কোনো জায়গা ছিল না। কথা বলারও কোনো সুযোগ ছিল না। এ কারণে ভিন্নমত পোষণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আক্রান্ত হয়েছেন। আসিফ নজরুলের চেম্বারে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর করেছে। আরও অনেক শিক্ষক শুধু কথা বলার কারণে চাকরি হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিই ছিল দুঃশাসনের নমুনা।

তিনি বলেন, শিক্ষকরা চাকরি করে যে বেতন পান, তা দিয়েই সংসার চালান। অথচ কথা বলার কারণে শিক্ষকসহ অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। এভাবে ক্ষোভ জমতে জমতে তার বিস্ফোরণ ঘটেছে জুলাইয়ে। জুলাই হচ্ছে দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

জুলাইয়ের চেতনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, চেতনা হচ্ছে হৃদয়ের বন্ধন। আমাদের বহুদলীয় ও বহুমাত্রিক গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যাতে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের আগমন না ঘটে। এখনো অনেকে বলেন, তারাই ভালো ছিলেন। ফ্যাসিবাদের লোকজন এখনো বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করছে। তাদের প্রচুর অর্থ রয়েছে এবং তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

রিজভী বলেন, ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে শুধু এটুকু বলতে চাই, এ ধরনের পতিত স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তন হয় না। এই চেতনাকে ধারণ করে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। আমরা যদি ভুল করি, একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ করতে না পারি, একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে ফ্যাসিবাদ আবার অন্য কোনো পথ বা চোরাগলি দিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে, তারা যা যা করেছে, আমরা তার বিপরীত করব। তারা দলীয়করণ করেছে, আওয়ামীকরণ করেছে, দেশের রাজকোষ শূন্য করেছে, ব্যাংক লুটপাট করেছে এবং দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। এসবের বিপরীত কাজ করতে পারলেই আমরা সফল হব। তাহলেই গণতন্ত্র আমাদের মাটির গভীরে প্রোথিত হবে এবং রাষ্ট্র একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

রিজভী আরও বলেন, গত ১৭ বছর দেশে প্রকৃত অর্থে লেখাপড়া হয়নি এবং অদ্ভুতভাবে মেধা ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে। সাংবাদিকরা এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় বিভিন্ন অভিভাবকের মতামত জানতে চেয়েছেন। তারা বলেছেন, ফলাফল যথার্থ প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সত্যকে প্রকাশ না করে নিজের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য কোনো বিষয়কে বাড়িয়ে দেখালে সর্বনাশ হয়ে যাবে। গত ১৭ বছর এমন কাজই করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী খাতায় কিছু না লিখে প্রশ্নপত্র লিখে এলেও তাকে পাস করানো হয়েছে, জিপিএ ৫ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যার যতটুকু মেধা, তার ফলাফল ততটুকুই হওয়া উচিত। এটি নিশ্চিত করতে হবে। যুগে যুগে এটাই হয়ে এসেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমুল হোসাইন প্রমুখ।

এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফ্যাসিস্ট হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কোনো ফ্যাসিস্টের তুলনা চলে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

রবিবার দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেট হলে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, মুসোলিনি, হিটলারের সঙ্গেও শেখ হাসিনার তুলনা চলে না। তাদের অন্তত নিজস্ব দেশপ্রেম ছিল। তারা জার্মানি বা ইতালিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। আর শেখ হাসিনা নিজের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে হলেও ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা চেয়েছেন, জনগণের ওপর যত পারো অত্যাচার করো, যত পারো রক্ত ঝরাও, তাতে তার কিছু যায় আসে না। শুধু তাকে সমর্থন করতে হবে। সেই কারণেই তিনি কাউকে পাত্তা দিতে চাননি। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ক্ষমতায় টিকে থাকা। এই টিকে থাকার জন্য তিনি এত রক্তের বন্যা বইয়েছেন। জনগণের মধ্যে এত বড় শক্তি থাকতে পারে, তা তিনি টের পাননি।

রিজভী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রবল প্রতাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী দলের কোনো জায়গা ছিল না। কথা বলারও কোনো সুযোগ ছিল না। এ কারণে ভিন্নমত পোষণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আক্রান্ত হয়েছেন। আসিফ নজরুলের চেম্বারে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর করেছে। আরও অনেক শিক্ষক শুধু কথা বলার কারণে চাকরি হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিই ছিল দুঃশাসনের নমুনা।

তিনি বলেন, শিক্ষকরা চাকরি করে যে বেতন পান, তা দিয়েই সংসার চালান। অথচ কথা বলার কারণে শিক্ষকসহ অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। এভাবে ক্ষোভ জমতে জমতে তার বিস্ফোরণ ঘটেছে জুলাইয়ে। জুলাই হচ্ছে দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

জুলাইয়ের চেতনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, চেতনা হচ্ছে হৃদয়ের বন্ধন। আমাদের বহুদলীয় ও বহুমাত্রিক গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যাতে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের আগমন না ঘটে। এখনো অনেকে বলেন, তারাই ভালো ছিলেন। ফ্যাসিবাদের লোকজন এখনো বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করছে। তাদের প্রচুর অর্থ রয়েছে এবং তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

রিজভী বলেন, ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে শুধু এটুকু বলতে চাই, এ ধরনের পতিত স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তন হয় না। এই চেতনাকে ধারণ করে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। আমরা যদি ভুল করি, একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ করতে না পারি, একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে ফ্যাসিবাদ আবার অন্য কোনো পথ বা চোরাগলি দিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে, তারা যা যা করেছে, আমরা তার বিপরীত করব। তারা দলীয়করণ করেছে, আওয়ামীকরণ করেছে, দেশের রাজকোষ শূন্য করেছে, ব্যাংক লুটপাট করেছে এবং দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। এসবের বিপরীত কাজ করতে পারলেই আমরা সফল হব। তাহলেই গণতন্ত্র আমাদের মাটির গভীরে প্রোথিত হবে এবং রাষ্ট্র একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

রিজভী আরও বলেন, গত ১৭ বছর দেশে প্রকৃত অর্থে লেখাপড়া হয়নি এবং অদ্ভুতভাবে মেধা ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে। সাংবাদিকরা এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় বিভিন্ন অভিভাবকের মতামত জানতে চেয়েছেন। তারা বলেছেন, ফলাফল যথার্থ প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সত্যকে প্রকাশ না করে নিজের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য কোনো বিষয়কে বাড়িয়ে দেখালে সর্বনাশ হয়ে যাবে। গত ১৭ বছর এমন কাজই করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী খাতায় কিছু না লিখে প্রশ্নপত্র লিখে এলেও তাকে পাস করানো হয়েছে, জিপিএ ৫ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যার যতটুকু মেধা, তার ফলাফল ততটুকুই হওয়া উচিত। এটি নিশ্চিত করতে হবে। যুগে যুগে এটাই হয়ে এসেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমুল হোসাইন প্রমুখ।
এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।