ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে বিলম্ব, টিএ-ডিএ বিল ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তায়েবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো জবাবদিহি না থাকার অভিযোগও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ। কিন্তু বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন সময়ে বেতন পরিশোধে বিলম্বের কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে টিএ-ডিএ বিল প্রস্তুত, অনুমোদন ও পরিশোধের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদ প্রকাশেও ‘কিছু যায় আসে না’?
অভিযোগকারীদের দাবি, বেতন-ভাতা ও টিএ-ডিএ বিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ করলেও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আচরণে তাতে কোনো ধরনের উদ্বেগ দেখা যায়নি।
এমনকি ‘সাংবাদিকরা লেখালেখি করলেও কিছু যায় আসে না’—এমন মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, সংবাদ প্রকাশের কারণে তাঁকে অন্যত্র বদলি করা যায় কি না—এমন অনুরোধ সংশ্লিষ্ট মহলে করা হয়েছে বলেও
অভিযোগকারীদের দাবি।
তবে এসব বক্তব্য ও অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য এবং প্রশাসনিক নথিপত্র পর্যালোচনা ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
টিএ-ডিএ বিল নিয়ে আসলে কী হচ্ছে?
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিএ-ডিএ বিল নির্ধারিত সরকারি বিধি ও অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসারে পরিশোধের কথা। সেখানে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিল, ভ্রমণসূচি, অনুমোদন, উপস্থিতি ও অন্যান্য আর্থিক নথি পরীক্ষা করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—কোন কর্মকর্তা কখন কোথায় সরকারি কাজে ভ্রমণ করেছেন, সেই ভ্রমণের বিপরীতে কত টাকা টিএ-ডিএ দাবি করা হয়েছে, কে বিল অনুমোদন করেছেন এবং কোন প্রক্রিয়ায় অর্থ পরিশোধ হয়েছে—এসব তথ্য কি নিয়মিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে?
বেতন বিলম্বের কারণ কী?
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে বিলম্ব হয়ে থাকলে তার প্রশাসনিক কারণও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এটি যদি হিসাব সংক্রান্ত জটিলতা, অনুমোদন প্রক্রিয়া কিংবা অন্য কোনো কারিগরি কারণে হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নথিতেই তার প্রমাণ থাকার কথা।
আর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘সংবাদে কিছু যায় আসে না’—এমন মনোভাব কতটা গ্রহণযোগ্য?
সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন। কোনো সংবাদে ভুল তথ্য থাকলে সংশোধনী, প্রতিবাদ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার সুযোগও রয়েছে।
কিন্তু কোনো অভিযোগ বা সংবাদকে গুরুত্ব না দিয়ে তা এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহির প্রশ্নটি সামনে আসে। বিশেষ করে যেখানে সরকারি অর্থের ব্যবস্থাপনা এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত, সেখানে অভিযোগ উঠলেই নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত সত্য
বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেতন-ভাতা ও টিএ-ডিএ সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একটি নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।
তদন্তে গত কয়েক বছরের বেতন বিল, টিএ-ডিএ বিল, সংশ্লিষ্ট অনুমোদন, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি, হিসাবরক্ষণ রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি আছে কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে।
অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন।
কারণ উদ্দেশ্য কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করা নয়; বরং সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তায়েবুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানা গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
রিয়াজ ফরাজী 





















