ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের পৃথক হামলায় দেশটির সরকারি বাহিনীর অন্তত ৩০ সৈন্য নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধ-শতাধিক। বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিভিন্ন সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তারা।
২০২২ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির পর এটাই সবচেয়ে বড় সংঘাত ও পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি। ওই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন জোগানো সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে লড়াই বন্ধ হয়েছিল।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ঘাঁটিতে হুথিদের হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে হতাহতের তথ্য জানালেও সুনির্দিষ্ট কোনও পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
হামলার বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে বিস্তারিত না জানিয়ে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি এই গোষ্ঠী বলেছে, বড় ধরনের সামরিক এক অভিযানের বিষয়ে শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে।
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই সময় হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে নেওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশটির সরকার সৌদি আরবে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হয়।
এর কয়েক মাস পর ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। তবে দীর্ঘদিনের এ যুদ্ধ পরবর্তীতে উভয় পক্ষের জন্য কোনো জয়-পরাজয় ছাড়া এক অচলাবস্থার প্রক্সি যুদ্ধে রূপ নেয়।
সূত্র: এপি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























