ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেনটিনায় যোগ দিলেন দুই ব্রাজিল সমর্থক ৫ বছরেই দ্বিগুণ হতে পারে সোনার দাম জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো ভারতে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৮ সংবাদপত্রের কালো আইন সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৬১৬ কোটি, বাকিরা কে কত? এটা সেই দেশ, যে দেশ বারবার প্রতিরোধ করেছে, প্রতিরোধ করতে জানে: রিজভী কাজ শেষের আগেই বিল পরিশোধ, ৯২ কোটি টাকার প্রকল্প ১০৯ কোটিতে উন্নীত ফরিদপুরে জমি মাপকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকসহ পরিবারারের সদস্যদের উপর হামলা, আহত-৫  মৌলভীবাজারে একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে জেলা প্রশাসন

এটা সেই দেশ, যে দেশ বারবার প্রতিরোধ করেছে, প্রতিরোধ করতে জানে: রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্টের পতন হলে পরে তাকে ফেরত আনা যায় না। যে রক্তের আলপনা সে এঁকেছে, সেই রক্তের আলপনা মাড়িয়ে আবার সে এ দেশে রাজনীতি করবে—এটা কী করে সম্ভব? এটা সেই দেশ, যে দেশ বারবার প্রতিরোধ করেছে প্রতিরোধ করতে জানে। শেখ হাসিনা যদি এ দেশে ফেরত এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া খানের যে উত্তরসূরি আছে, টিক্কা খানের যে উত্তরসূরি আছে, তাদেরও আনতে হবে।’

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন রিজভী। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস বাস্তবায়ন কমিটি।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের কথা তুলে ধরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোনো ফ্যাসিস্ট শাসকের পতনের পর তাকে আবার ক্ষমতা বা রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় না। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে রাজনীতি করতে চাইলে তা জনগণ মেনে নেবে না।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, শিশু, কিশোর ও তরুণ হত্যার দায় কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। ইতিহাসে হিটলার কিংবা মুসোলিনির মতো শাসকদের পতনের পর তাদের রাজনৈতিক ধারাও আর ফিরে আসতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ রক্তপাত ও দমন-পীড়নের রাজনীতি মেনে নেয় না।

ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরোধী মত দমনে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, মানুষের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতারণা ও জনগণকে বিভ্রান্ত করাই তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন কেউ কেউ দেখি টক শোতে একটু একটু করে গলার আওয়াজ করছে, এই শেখ হাসিনার আমলে এই হয়েছে, সেই হয়েছে এত উন্নতি হয়েছে। কেন একটা বড় দল তাকে কেন ইয়ে (নিষিদ্ধ) দেওয়া হবে, রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না, শেখ হাসিনার চলে আসতে হবে, শেখ হাসিনা যদি এতই পাওয়ারফুল হন, তে পালালেন কেন?’

এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘মইন ইউ আহমেদ, ফখরুদ্দীন আহমদ সাহেব কত চেষ্টা করেছে, থ্রেট করেছে, হুমকি দিয়েছে, নিজে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন তবুও শেখ হাসিনার কাছে আত্মসমর্পণ করেননি, ওনার অন্যায় আবদারের কাছে মাথা নত করেননি বেগম জিয়া। আপনি তো সেই দৃষ্টান্ত রাখেননি।’

বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীরও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করা দলটির আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তার প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে সত্য, ন্যায় ও আত্মত্যাগের যে শিক্ষা রয়েছে, জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘গোটা দেশের জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে, আপনারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান করলেন ’৭১ সালে। ’৮৬ সালে আপনারা হাসিনার সঙ্গে গিয়ে এরশাদের অধীনে নির্বাচন করলেন। অথচ অঙ্গীকার ছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলনের। ৫ আগস্টের পরে বলে দিলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সব মাফ করে দেব। আবার বললেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলব।’

রাজনৈতিকভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী বারবার নিজেরাই সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে দলটির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘আপনারা (জামায়াত) সম্পর্ক গড়ে তুলুন, আপত্তি নেই। কিন্তু বলুন, আপনারা কি আমাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন? আমাদের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন? আমাদের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বিশ্বাস করেন?’

জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবেই।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রশাসক আবদুস সালাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান প্রমুখ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেনটিনায় যোগ দিলেন দুই ব্রাজিল সমর্থক

এটা সেই দেশ, যে দেশ বারবার প্রতিরোধ করেছে, প্রতিরোধ করতে জানে: রিজভী

আপডেট সময় ০৬:৩০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্টের পতন হলে পরে তাকে ফেরত আনা যায় না। যে রক্তের আলপনা সে এঁকেছে, সেই রক্তের আলপনা মাড়িয়ে আবার সে এ দেশে রাজনীতি করবে—এটা কী করে সম্ভব? এটা সেই দেশ, যে দেশ বারবার প্রতিরোধ করেছে প্রতিরোধ করতে জানে। শেখ হাসিনা যদি এ দেশে ফেরত এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া খানের যে উত্তরসূরি আছে, টিক্কা খানের যে উত্তরসূরি আছে, তাদেরও আনতে হবে।’

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন রিজভী। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস বাস্তবায়ন কমিটি।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের কথা তুলে ধরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোনো ফ্যাসিস্ট শাসকের পতনের পর তাকে আবার ক্ষমতা বা রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় না। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে রাজনীতি করতে চাইলে তা জনগণ মেনে নেবে না।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, শিশু, কিশোর ও তরুণ হত্যার দায় কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। ইতিহাসে হিটলার কিংবা মুসোলিনির মতো শাসকদের পতনের পর তাদের রাজনৈতিক ধারাও আর ফিরে আসতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ রক্তপাত ও দমন-পীড়নের রাজনীতি মেনে নেয় না।

ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরোধী মত দমনে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, মানুষের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতারণা ও জনগণকে বিভ্রান্ত করাই তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন কেউ কেউ দেখি টক শোতে একটু একটু করে গলার আওয়াজ করছে, এই শেখ হাসিনার আমলে এই হয়েছে, সেই হয়েছে এত উন্নতি হয়েছে। কেন একটা বড় দল তাকে কেন ইয়ে (নিষিদ্ধ) দেওয়া হবে, রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না, শেখ হাসিনার চলে আসতে হবে, শেখ হাসিনা যদি এতই পাওয়ারফুল হন, তে পালালেন কেন?’

এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘মইন ইউ আহমেদ, ফখরুদ্দীন আহমদ সাহেব কত চেষ্টা করেছে, থ্রেট করেছে, হুমকি দিয়েছে, নিজে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন তবুও শেখ হাসিনার কাছে আত্মসমর্পণ করেননি, ওনার অন্যায় আবদারের কাছে মাথা নত করেননি বেগম জিয়া। আপনি তো সেই দৃষ্টান্ত রাখেননি।’

বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীরও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করা দলটির আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তার প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে সত্য, ন্যায় ও আত্মত্যাগের যে শিক্ষা রয়েছে, জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘গোটা দেশের জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে, আপনারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান করলেন ’৭১ সালে। ’৮৬ সালে আপনারা হাসিনার সঙ্গে গিয়ে এরশাদের অধীনে নির্বাচন করলেন। অথচ অঙ্গীকার ছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলনের। ৫ আগস্টের পরে বলে দিলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সব মাফ করে দেব। আবার বললেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলব।’

রাজনৈতিকভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী বারবার নিজেরাই সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে দলটির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘আপনারা (জামায়াত) সম্পর্ক গড়ে তুলুন, আপত্তি নেই। কিন্তু বলুন, আপনারা কি আমাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন? আমাদের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন? আমাদের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বিশ্বাস করেন?’

জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবেই।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রশাসক আবদুস সালাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান প্রমুখ।