ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গুলশানে স্পা, র অন্তরালে ,,বাহার , ম্যানেজার রানা, সুমন, ব্ল্যাকমেলই সহ মাদক বাণিজ্য নারী দিয়ে ফাঁদ আত্রাইয়ের বান্দাইখাড়া বয়তুল্ল্যাহ সেতুর উত্তর পাশে ধস: যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা উত্তরা ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তরার সড়কে শিক্ষার্থীরা আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেন পঞ্চগড়ের কৃতী সন্তান আব্দুল মালেক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্তির নয়ন মিয়ার প্রতিবাদ ঢাকা পরিচ্ছন্ন করতে দল-মতহীন ঐক্য চান মির্জা ফখরুল বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা এমডি মুজিবুরের জনতা ব্যাংকে লুটপাট বরগুনার গৌরীচন্নায় প্রাথমিকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলো তিন জমজ বোন মেরামতের নামে কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুলের বিরুদ্ধে

মদনে টিসিবির ডিলার নিয়োগে অনিয়ম

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলার নিয়োগে নেত্রকোনার মদনে সরকারের দেওয়া নীতিমালা মানা হয়নি। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে ডিলার নিয়োগ করায় ব্যাপক অনিয়মের উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী সায়েদুজ্জামান। তিনি ইউএনওসহ বিভিন্ন দপ্তরে সোমবার এমন অভিযোগ দায়ের করেন।

ডিলার হতে আগ্রহী কয়েকজন আবেদনকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মদন কাইটাইল ইউনিয়নে একজন টিসিবির ডিলার নিয়োগ করা হবে। একটি ডিলারের বিপরীতে ১৬ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেন। সেই আবেদন যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করার জন্য উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবিরকে ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব দেন ইউএনও। যাচাই-বাছাই ও তদন্ত শেষে ১৬টি আবেদনের মধ্যে লাবিব এন্টারপ্রাইজ, জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোরের আবেদন যোগ্য বলে ইউএনওর মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। শুরু থেকেই জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোর-এ দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তবে ডিলার নিয়োগে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে, ‘আবেদনকারীকে প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ী হতে হবে। এর সঙ্গে থাকতে হবে ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র’।

অভিযোগ, নীতিমালা তোয়াক্কা না করে জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোর-এই দুই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বলে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোর নামের প্রতিষ্ঠান দুটি মুদি ব্যবসায়ী নয়। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার
সরেজমিন গেলে দেখা যায় ‘জিসান এন্টারপ্রাইজ’ নামে কোনো মুদি ব্যবসায়ী নেই, আশরাফুল নামের মুদি ব্যবসায়ীর দোকানের সামনে একটি সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে ছবি তুলে দায় সারে, পরে আবার সাইন বোর্ড সরিয়ে নেয়। ‘মায়ের দোয়া স্টোর’-এ বিক্রি হচ্ছে হাঁস-মুরগির খাবার ও গো-খাদ্য। ডিলারের জন্য আবেদনকারী মুদি ব্যবসায়ী কাজী আলম জানান, আমি বাররী বাজারে ১৯৯৮ সাল থেকে মুদি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমি আবেদন করেছিলাম। আমাকে বাদ দিয়ে যারা মুদি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না তাদেরকে বাছাই করেছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ‘জিসান এন্টারপ্রাইজ’ নামে যে মুদি দোকান দেখানো হয়েছে এটির মালিক আশরাফুল। তার দোকানে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অভিনব কায়দায় ছবি তুলে অফিসারদের দেখানো হয়েছে।

বাররী বাজার কমিটির সহ-সভাপতি ও ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন জানান, ‘মায়ের দোয়া স্টোর’ মূলত হাঁস-মুরগি এবং গরু-ছাগলের খাবারের দোকান। পাশাপাশি পশুর ওষুধ বিক্রি করে। জানতে চাইলে ‘মায়ের দোয়া স্টোর’-এর মনির হোসাইন জানান, আমি হাঁস-মুরগির খাবারের পাশাপাশি মুদি ব্যবসাও করি। ‘জিসান এন্টারপ্রাইজ’-এর খালেকুজ্জামান হিরণ জানান, যেখানে সাইনবোর্ড টানানো দেখছেন ওটা আমার ঘর, আমার ঘর আমার দোকান। তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মদন শাখা ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির জানান, ‘আমি ইউএনও স্যারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এ নিয়ে আপনাদের কাছে মন্তব্য দিতে রাজি নই। ইউএনও নাদীর হোসেন শামীম জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুলশানে স্পা, র অন্তরালে ,,বাহার , ম্যানেজার রানা, সুমন, ব্ল্যাকমেলই সহ মাদক বাণিজ্য নারী দিয়ে ফাঁদ

মদনে টিসিবির ডিলার নিয়োগে অনিয়ম

আপডেট সময় ১২:২৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলার নিয়োগে নেত্রকোনার মদনে সরকারের দেওয়া নীতিমালা মানা হয়নি। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে ডিলার নিয়োগ করায় ব্যাপক অনিয়মের উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী সায়েদুজ্জামান। তিনি ইউএনওসহ বিভিন্ন দপ্তরে সোমবার এমন অভিযোগ দায়ের করেন।

ডিলার হতে আগ্রহী কয়েকজন আবেদনকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মদন কাইটাইল ইউনিয়নে একজন টিসিবির ডিলার নিয়োগ করা হবে। একটি ডিলারের বিপরীতে ১৬ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেন। সেই আবেদন যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করার জন্য উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবিরকে ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব দেন ইউএনও। যাচাই-বাছাই ও তদন্ত শেষে ১৬টি আবেদনের মধ্যে লাবিব এন্টারপ্রাইজ, জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোরের আবেদন যোগ্য বলে ইউএনওর মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। শুরু থেকেই জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোর-এ দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তবে ডিলার নিয়োগে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে, ‘আবেদনকারীকে প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ী হতে হবে। এর সঙ্গে থাকতে হবে ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র’।

অভিযোগ, নীতিমালা তোয়াক্কা না করে জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোর-এই দুই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বলে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোর নামের প্রতিষ্ঠান দুটি মুদি ব্যবসায়ী নয়। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার
সরেজমিন গেলে দেখা যায় ‘জিসান এন্টারপ্রাইজ’ নামে কোনো মুদি ব্যবসায়ী নেই, আশরাফুল নামের মুদি ব্যবসায়ীর দোকানের সামনে একটি সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে ছবি তুলে দায় সারে, পরে আবার সাইন বোর্ড সরিয়ে নেয়। ‘মায়ের দোয়া স্টোর’-এ বিক্রি হচ্ছে হাঁস-মুরগির খাবার ও গো-খাদ্য। ডিলারের জন্য আবেদনকারী মুদি ব্যবসায়ী কাজী আলম জানান, আমি বাররী বাজারে ১৯৯৮ সাল থেকে মুদি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমি আবেদন করেছিলাম। আমাকে বাদ দিয়ে যারা মুদি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না তাদেরকে বাছাই করেছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ‘জিসান এন্টারপ্রাইজ’ নামে যে মুদি দোকান দেখানো হয়েছে এটির মালিক আশরাফুল। তার দোকানে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অভিনব কায়দায় ছবি তুলে অফিসারদের দেখানো হয়েছে।

বাররী বাজার কমিটির সহ-সভাপতি ও ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন জানান, ‘মায়ের দোয়া স্টোর’ মূলত হাঁস-মুরগি এবং গরু-ছাগলের খাবারের দোকান। পাশাপাশি পশুর ওষুধ বিক্রি করে। জানতে চাইলে ‘মায়ের দোয়া স্টোর’-এর মনির হোসাইন জানান, আমি হাঁস-মুরগির খাবারের পাশাপাশি মুদি ব্যবসাও করি। ‘জিসান এন্টারপ্রাইজ’-এর খালেকুজ্জামান হিরণ জানান, যেখানে সাইনবোর্ড টানানো দেখছেন ওটা আমার ঘর, আমার ঘর আমার দোকান। তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মদন শাখা ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির জানান, ‘আমি ইউএনও স্যারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এ নিয়ে আপনাদের কাছে মন্তব্য দিতে রাজি নই। ইউএনও নাদীর হোসেন শামীম জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।