ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চিকিৎসা শিক্ষার বিকাশে আট দশক ধরে অবদান রেখে চলেছে ঢামেক : প্রধানমন্ত্রী ১০ নম্বর জার্সি কোনোদিনই পেতেন না মেসি, কী ঘটেছিল তখন? ভূমি দখল ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত আলী আফজাল রোনালদোর বিদায়ের মধ্যেই মেসির স্ত্রীকে জর্জিনার উপহার সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে যা বললেন ভোক্তা অধিকারের জব্বার মণ্ডল সংবাদ প্রকাশের পর কালুখালীর অসহায় রাসেল মণ্ডলের পাশে উপজেলা প্রশাসন গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের মানবতার স্বীকৃতি: মুন্নু শেখের পাশে দাঁড়াল কালুখালী উপজেলা প্রশাসন চতুর্থ বিয়ের মাত্র ৪ মাসেই মা হলেন অভিনেত্রী সুস্মিতা!

মানবতার স্বীকৃতি: মুন্নু শেখের পাশে দাঁড়াল কালুখালী উপজেলা প্রশাসন

রাজবাড়ীর কালুখালী রেলওয়ে স্টেশনে টানা ছয় বছর ধরে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করিয়ে আসা মানবিক মানুষ মুন্নু শেখকে সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে কালুখালী উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিন তাঁর কার্যালয়ে মুন্নু শেখের হাতে এ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুন্নু শেখের ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। তাঁর নিঃস্বার্থ মানবসেবার স্বীকৃতি হিসেবেই এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুন্নু শেখ প্রতিদিন নিজের চটপটির দোকান কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রেখে কালুখালী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের যাত্রীদের বিনামূল্যে ঠান্ডা পানি পান করান।
এই মানবিক কাজের পেছনে রয়েছে এক বেদনাময় স্মৃতি। ২০১৮ সালে তাঁর নয় বছর বয়সী ছেলে সবুজ শেখ ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ট্রেনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াত করতে হতো। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে একসময় ছেলের জন্য এক বোতল পানি কেনার সামর্থ্যও ছিল না তাঁর। দীর্ঘ দুই বছর লড়াই শেষে ২০২০ সালে মারা যায় মুন্নু শেখের ছেলে সবুজ। এরপর থেকেই ছেলের স্মৃতিতে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করানোর অঙ্গীকার করেন মুন্নু শেখ।
ইউএনও মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “মুন্নু শেখের মতো মানুষ সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগকে সম্মান জানাতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামান্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সমাজের বিত্তবানরাও তাঁর পাশে দাঁড়ালে তিনি আরও ভালোভাবে এই সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।”
স্থানীয়দের মতে, মুন্নু শেখের এই উদ্যোগ শুধু তৃষ্ণার্ত মানুষের পিপাসাই মেটাচ্ছে না, সমাজে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও স্থাপন করছে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চিকিৎসা শিক্ষার বিকাশে আট দশক ধরে অবদান রেখে চলেছে ঢামেক : প্রধানমন্ত্রী

মানবতার স্বীকৃতি: মুন্নু শেখের পাশে দাঁড়াল কালুখালী উপজেলা প্রশাসন

আপডেট সময় ০৬:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
রাজবাড়ীর কালুখালী রেলওয়ে স্টেশনে টানা ছয় বছর ধরে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করিয়ে আসা মানবিক মানুষ মুন্নু শেখকে সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে কালুখালী উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিন তাঁর কার্যালয়ে মুন্নু শেখের হাতে এ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুন্নু শেখের ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। তাঁর নিঃস্বার্থ মানবসেবার স্বীকৃতি হিসেবেই এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুন্নু শেখ প্রতিদিন নিজের চটপটির দোকান কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রেখে কালুখালী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের যাত্রীদের বিনামূল্যে ঠান্ডা পানি পান করান।
এই মানবিক কাজের পেছনে রয়েছে এক বেদনাময় স্মৃতি। ২০১৮ সালে তাঁর নয় বছর বয়সী ছেলে সবুজ শেখ ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ট্রেনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াত করতে হতো। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে একসময় ছেলের জন্য এক বোতল পানি কেনার সামর্থ্যও ছিল না তাঁর। দীর্ঘ দুই বছর লড়াই শেষে ২০২০ সালে মারা যায় মুন্নু শেখের ছেলে সবুজ। এরপর থেকেই ছেলের স্মৃতিতে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করানোর অঙ্গীকার করেন মুন্নু শেখ।
ইউএনও মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “মুন্নু শেখের মতো মানুষ সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগকে সম্মান জানাতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামান্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সমাজের বিত্তবানরাও তাঁর পাশে দাঁড়ালে তিনি আরও ভালোভাবে এই সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।”
স্থানীয়দের মতে, মুন্নু শেখের এই উদ্যোগ শুধু তৃষ্ণার্ত মানুষের পিপাসাই মেটাচ্ছে না, সমাজে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও স্থাপন করছে।