সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাস উল্টে নিহত ১৬, আহত ২০ দুদকের চেয়ারম্যান-কমিশনার নিয়োগে আগ্রহীদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান দক্ষিণ সুরমার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলকাছ আলীর দাফন সম্পন্ন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উদযাপন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ‘নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছেড়ে দিন’, শিক্ষকদের কড়া বার্তা দিলেন মন্ত্রী গোয়াইনঘাটে ইউনিয়ন ট্যাক্সের নামে বিড়ম্বনা, সদর ইউনিয়নের ইজারাদারের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা কিয়েভে বিভীষিকার রাত, রাশিয়ার হামলায় ১৩ জনের মৃত্যু থমকে আছে উত্তরবঙ্গের ভাগ্যবদলের মেগা প্রজেক্ট তিস্তা মহাপরিকল্পনা রাজধানীর কলাবাগানে সেপটিক ট্যাংকের গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩ ৪০ ডিগ্রি গরমেও রাজপথ ছাড়েনি ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকারীরা, টানা আন্দোলনে উত্তপ্ত ভারত  

কিয়েভে বিভীষিকার রাত, রাশিয়ার হামলায় ১৩ জনের মৃত্যু

রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে গত মাস থেকে বিশেষ এক অভিযান শুরু করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। অভিযানের অংশ হিসেবে রাশিয়ার অভ্যন্তরে তেল শোধনাগার, তেল টার্মিনাল, নৌযান, অস্ত্র কারখানা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।

জেলেনস্কি নিশ্চয়ই জানতেন, ঢিল ছুড়লে পাটকেল খেতে হবে। বুধবার তিনি কিয়েভবাসীকে সতর্কও করেছিলেন। তবে রাশিয়ার ছোড়া পাটকেল কতটা ভয়াবহ হতে পারে, বুধবার দিবাগত রাতে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেলো কিয়েভবাসী।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বুধবার রাতভর চালানো রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

এক শিশু, কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীসহ আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, একটি অ্যাম্বুল্যান্স সাবস্টেশনে হামলা হওয়ায় ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা আহত হন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো বলেন, ‘আবাসিক ভবনগুলোতে সরাসরি ও অত্যন্ত মারাত্মক আঘাত হেনেছে। দুর্ভাগ্যবশত, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।

’ কিয়েভের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার এই ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা টানা ১১ ঘণ্টা ধরে চলে। এতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রায় ৩০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ভেঙে পড়া আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকগুলোতে আগুন জ্বলছে এবং উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
ইউক্রেন বেসামরিক অবকাঠামো এবং আবাসিক ভবনগুলোতে হামলার অভিযোগ করলেও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী কিয়েভসহ দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, পোলতাভা, চেরকাসি ও চেরনিহিভ অঞ্চলের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোনসহ নির্ভুল ও দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিলহা বলেছেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া দাবি করছি।

রাশিয়ার এই সন্ত্রাস থামাতে শুধু নিন্দার বাণী নয়, বরং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ প্রয়োজন।’
বুধবার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার এবং বিমান হামলার সাইরেন শোনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

তিনি সতর্ক করেন যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেশ কিছুদিন ধরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে একটি বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জেলেনস্কি লেখেন, ‘আজ রাতে ঠিক এই হুমকির মুখেই আমরা দাঁড়িয়ে আছি।’ এরপরই কিয়েভের বাসিন্দারা মেট্রো স্টেশনগুলোতে ভিড় জমান এবং একটি দীর্ঘ ও ভয়াবহ রাতের জন্য প্রস্তুতি নেন। স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে সাইরেন বাজতে শুরু করে এবং তা বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বাজতেই থাকে।

 

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাস উল্টে নিহত ১৬, আহত ২০

কিয়েভে বিভীষিকার রাত, রাশিয়ার হামলায় ১৩ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ০১:৩৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে গত মাস থেকে বিশেষ এক অভিযান শুরু করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। অভিযানের অংশ হিসেবে রাশিয়ার অভ্যন্তরে তেল শোধনাগার, তেল টার্মিনাল, নৌযান, অস্ত্র কারখানা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।

জেলেনস্কি নিশ্চয়ই জানতেন, ঢিল ছুড়লে পাটকেল খেতে হবে। বুধবার তিনি কিয়েভবাসীকে সতর্কও করেছিলেন। তবে রাশিয়ার ছোড়া পাটকেল কতটা ভয়াবহ হতে পারে, বুধবার দিবাগত রাতে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেলো কিয়েভবাসী।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বুধবার রাতভর চালানো রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

এক শিশু, কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীসহ আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, একটি অ্যাম্বুল্যান্স সাবস্টেশনে হামলা হওয়ায় ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা আহত হন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো বলেন, ‘আবাসিক ভবনগুলোতে সরাসরি ও অত্যন্ত মারাত্মক আঘাত হেনেছে। দুর্ভাগ্যবশত, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।

’ কিয়েভের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার এই ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা টানা ১১ ঘণ্টা ধরে চলে। এতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রায় ৩০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ভেঙে পড়া আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকগুলোতে আগুন জ্বলছে এবং উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
ইউক্রেন বেসামরিক অবকাঠামো এবং আবাসিক ভবনগুলোতে হামলার অভিযোগ করলেও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী কিয়েভসহ দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, পোলতাভা, চেরকাসি ও চেরনিহিভ অঞ্চলের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোনসহ নির্ভুল ও দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিলহা বলেছেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া দাবি করছি।

রাশিয়ার এই সন্ত্রাস থামাতে শুধু নিন্দার বাণী নয়, বরং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ প্রয়োজন।’
বুধবার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার এবং বিমান হামলার সাইরেন শোনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

তিনি সতর্ক করেন যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেশ কিছুদিন ধরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে একটি বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জেলেনস্কি লেখেন, ‘আজ রাতে ঠিক এই হুমকির মুখেই আমরা দাঁড়িয়ে আছি।’ এরপরই কিয়েভের বাসিন্দারা মেট্রো স্টেশনগুলোতে ভিড় জমান এবং একটি দীর্ঘ ও ভয়াবহ রাতের জন্য প্রস্তুতি নেন। স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে সাইরেন বাজতে শুরু করে এবং তা বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বাজতেই থাকে।