বরিশালের রূপাতলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ের বহুনির্বাচনি পরীক্ষায় ভুল সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত পরীক্ষায়। এতে অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সরকার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস নির্ধারণ করা হয়েছিল। কারণ, এসব শিক্ষার্থী শুধুমাত্র ১০ম শ্রেণিতে এক বছর পড়াশোনা করেই এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা দুই বছর সময় পেয়ে সম্পূর্ণ বই থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল। আর সে অনুযায়ী প্রশ্ন করা হয়েছিল ২০২৫ সালে। কিন্তু বরিশালের ওই কেন্দ্রে ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০২৫ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুযায়ী ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ের বহুনির্বাচনি প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে শিক্ষার্থীদের এমনসব অধ্যায় থেকে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে, যা তাদের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
শিক্ষার্থীদের দাবি, পরীক্ষা শুরুর পর বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেন্দ্র সচিব মর্জিনা আক্তার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ফোন করে বলেন, “২০২৫ ও ২০২৬ সালের সিলেবাস একই, শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না।” তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বাস্তবে দুই বছরের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস এবং এক বছরের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস এক নয়। ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে কয়েকজন শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেও জানান অভিভাবকরা।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ফলাফলের বিষয়ে বিশেষ বিবেচনারও দাবি তোলেন তারা।
এদিকে কেন্দ্র সচিব মর্জিনা আক্তারকে ঘিরেও বিভিন্ন বিতর্কের কথা স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মর্জিনা আক্তারের এ প্রভাবের অন্যতম কারণ তিনি প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান ওমরের ভাগ্নী। অভিযোগ আছে, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের ছবি সকল সরকারি দপ্তর থেকে নামিয়ে ফেলা হলেও মর্জিনা আক্তার সংশ্লিষ্ট কয়েকজন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের প্রভাব খাটিয়ে শেখ হাসিনা ফেরার আশায় স্কুলের লাইব্রেরিতে শেখ মুজিবের ছবি ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত টাঙিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের প্রবল আপত্তি ও আন্দোলনের মুখে সে বছরই ১৮ই অক্টোবর ছবিগুলো নামিয়ে ফেলতে বাধ্য হন।
এ বিষয়ে জানতে মর্জিনা আক্তারকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কথা না বলে কেটে দেন।
স্টাফ রিপোর্টার: 

























