সংবাদ শিরোনাম ::
আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী কুলির চরিত্রে পর্দায় ফিরছেন ওমর সানী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উসকানির আভাস পাচ্ছি : রিজভী গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নওগাঁ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশন গঠন সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন

ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যে অতিষ্ঠ যাত্রীরা

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বিনা টিকিটের যাত্রীদের আইনি প্রক্রিয়ায় দণ্ড দেওয়ার পরিবর্তে সেখানে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা যাত্রীদের জিম্মি করে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারালেও আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে স্টেশনের একদল অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের ছোঁয়া লাগলেও বিমানবন্দর স্টেশনের চিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অভিযোগ উঠেছে, স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন এবং সিআই সালাউদ্দিনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রছায়ায় এখানে দুর্নীতির এক ‘স্বরাজ্য’ কায়েম হয়েছে।

স্টেশনের ২ নং গেটে গলায় রেলওয়ের ফিতা ঝুলিয়ে সাদা পোশাকে নিয়মিত অবস্থান করতে দেখা যায় পয়েন্টম্যান জাহাঙ্গীর, কাশেম, রুবেল এবং পোর্টার লিটন ও সাদ্দামসহ নাম না জানা আরও অনেককে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সিপাহী রুবেলসহ নামফলকহীন বেশ কিছু সদস্যও এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত। তাদের প্রধান কাজ হলো ট্রেন থেকে নামা যাত্রীদের টিকিট তল্লাশি করা। কোনো যাত্রীর কাছে টিকিট না পেলে তাকে আইনিভাবে জরিমানা করার পরিবর্তে জেল ও মামলার ভয় দেখিয়ে নির্জনে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনাও ঘটছে। শেষ পর্যন্ত রসিদ ছাড়াই মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হয়, যা সরাসরি এই সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে।

সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, টিকিট পরীক্ষক (টিটি ও টিসি) এবং আরএনবি সদস্যদের যোগসাজশে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন অজুহাতে জরিমানা আদায়ের নামে হয়রানি করা হচ্ছে। বিনা রসিদে টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও স্টেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এর কোনো প্রতিকার করছেন না। বরং অভিযোগ রয়েছে, এই লুটপাটের টাকার ভাগ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পৌঁছায়।

একজন ভুক্তভোগী যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “রেলপথ হলো সাধারণ মানুষের বাহন। কিন্তু এখানে নিরাপত্তা ও সেবার পরিবর্তে আমাদের প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে। স্টেশন মাস্টার সব জেনেও চুপ করে থাকেন।

রেলপথের মতো রাষ্ট্রীয় জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে এমন নৈরাজ্য চললে যাত্রীসেবা ধসে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ যাত্রীদের দাবি, অনতিবিলম্বে স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন ও সিআই সালাউদ্দিনসহ জড়িত সকল অসাধু সদস্যের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় সরকারের রাজস্ব ঘাটতি যেমন বাড়বে, তেমনি রেলওয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যে অতিষ্ঠ যাত্রীরা

আপডেট সময় ০৪:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বিনা টিকিটের যাত্রীদের আইনি প্রক্রিয়ায় দণ্ড দেওয়ার পরিবর্তে সেখানে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা যাত্রীদের জিম্মি করে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারালেও আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে স্টেশনের একদল অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের ছোঁয়া লাগলেও বিমানবন্দর স্টেশনের চিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অভিযোগ উঠেছে, স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন এবং সিআই সালাউদ্দিনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রছায়ায় এখানে দুর্নীতির এক ‘স্বরাজ্য’ কায়েম হয়েছে।

স্টেশনের ২ নং গেটে গলায় রেলওয়ের ফিতা ঝুলিয়ে সাদা পোশাকে নিয়মিত অবস্থান করতে দেখা যায় পয়েন্টম্যান জাহাঙ্গীর, কাশেম, রুবেল এবং পোর্টার লিটন ও সাদ্দামসহ নাম না জানা আরও অনেককে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সিপাহী রুবেলসহ নামফলকহীন বেশ কিছু সদস্যও এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত। তাদের প্রধান কাজ হলো ট্রেন থেকে নামা যাত্রীদের টিকিট তল্লাশি করা। কোনো যাত্রীর কাছে টিকিট না পেলে তাকে আইনিভাবে জরিমানা করার পরিবর্তে জেল ও মামলার ভয় দেখিয়ে নির্জনে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনাও ঘটছে। শেষ পর্যন্ত রসিদ ছাড়াই মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হয়, যা সরাসরি এই সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে।

সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, টিকিট পরীক্ষক (টিটি ও টিসি) এবং আরএনবি সদস্যদের যোগসাজশে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন অজুহাতে জরিমানা আদায়ের নামে হয়রানি করা হচ্ছে। বিনা রসিদে টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও স্টেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এর কোনো প্রতিকার করছেন না। বরং অভিযোগ রয়েছে, এই লুটপাটের টাকার ভাগ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পৌঁছায়।

একজন ভুক্তভোগী যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “রেলপথ হলো সাধারণ মানুষের বাহন। কিন্তু এখানে নিরাপত্তা ও সেবার পরিবর্তে আমাদের প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে। স্টেশন মাস্টার সব জেনেও চুপ করে থাকেন।

রেলপথের মতো রাষ্ট্রীয় জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে এমন নৈরাজ্য চললে যাত্রীসেবা ধসে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ যাত্রীদের দাবি, অনতিবিলম্বে স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন ও সিআই সালাউদ্দিনসহ জড়িত সকল অসাধু সদস্যের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় সরকারের রাজস্ব ঘাটতি যেমন বাড়বে, তেমনি রেলওয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে।