ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে : শফিকুর রহমান আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার এক ভিকটিম ব্রাহ্মণপাড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কালিহাতীতে ২১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহীর শীর্ষ মাদককারবারি গ্রেপ্তার বড়লেখায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ফাইল আটকে ঘুষ দাবি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফুল

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-১১, ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, ফাইল আটকে রাখা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বিভাগটির অধীনে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা আদায়ের একটি অলিখিত প্রথা চালু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ই/এম বিভাগ-১১-এ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম প্রতিটি প্রকল্পের রানিং বিল ও ফাইনাল বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে মোট বরাদ্দের নির্দিষ্ট অংশ কমিশন হিসেবে দাবি করেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই অর্থ প্রদান না করলে সংশ্লিষ্ট ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয় এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কমিশনের দাবি মেনে না নিলে তাদের ফাইলে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা, অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা কাগজপত্রের ঘাটতির বিষয় তুলে ধরা হয়। ফলে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও বিল প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়তে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ঠিকাদার জানান, সময়মতো বিল না পাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ, ধার-দেনা কিংবা ব্যক্তিগত উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রশাসনিক চাপ ও আর্থিক ক্ষতি এড়াতে অনেকে বাধ্য হয়ে অনৈতিক দাবির কাছে নতি স্বীকার করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের কারণে শুধু ঠিকাদাররাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, বরং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নও বিলম্বিত হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, সরকারি দপ্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগোতে পারছে না।

খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, সরকারি প্রকল্পে অযৌক্তিক বিলম্ব একদিকে যেমন প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি করে, অন্যদিকে জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত সেবাও বাধাগ্রস্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি প্রশাসনিক দক্ষতা ও জবাবদিহিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অনলাইন ফাইল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং বিল অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অধিকতর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে কোনো কর্মকর্তা এককভাবে ফাইল আটকে রাখার সুযোগ না পান। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা, সংশ্লিষ্টদের দায় এবং প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

ফাইল আটকে ঘুষ দাবি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফুল

আপডেট সময় ০৫:১১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-১১, ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, ফাইল আটকে রাখা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বিভাগটির অধীনে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা আদায়ের একটি অলিখিত প্রথা চালু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ই/এম বিভাগ-১১-এ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম প্রতিটি প্রকল্পের রানিং বিল ও ফাইনাল বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে মোট বরাদ্দের নির্দিষ্ট অংশ কমিশন হিসেবে দাবি করেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই অর্থ প্রদান না করলে সংশ্লিষ্ট ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয় এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কমিশনের দাবি মেনে না নিলে তাদের ফাইলে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা, অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা কাগজপত্রের ঘাটতির বিষয় তুলে ধরা হয়। ফলে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও বিল প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়তে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ঠিকাদার জানান, সময়মতো বিল না পাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ, ধার-দেনা কিংবা ব্যক্তিগত উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রশাসনিক চাপ ও আর্থিক ক্ষতি এড়াতে অনেকে বাধ্য হয়ে অনৈতিক দাবির কাছে নতি স্বীকার করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের কারণে শুধু ঠিকাদাররাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, বরং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নও বিলম্বিত হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, সরকারি দপ্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগোতে পারছে না।

খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, সরকারি প্রকল্পে অযৌক্তিক বিলম্ব একদিকে যেমন প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি করে, অন্যদিকে জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত সেবাও বাধাগ্রস্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি প্রশাসনিক দক্ষতা ও জবাবদিহিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অনলাইন ফাইল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং বিল অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অধিকতর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে কোনো কর্মকর্তা এককভাবে ফাইল আটকে রাখার সুযোগ না পান। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা, সংশ্লিষ্টদের দায় এবং প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।