সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ঋণ পরিশোধ না করে হজ করলে কি হজ হবে?

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৩৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ৬০৫ বার পড়া হয়েছে

প্রশ্ন: ঋণ পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরও ঋণ পরিশোধ করেনি, কিন্তু হজ করতে যাচ্ছে, এই ব্যক্তির হজ কি শুদ্ধ হবে?

উত্তর: ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ না করে হজ করলে তার হজ শুদ্ধ হবে যদি হজের রোকন ও শর্তগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করা হয়। হজে যে সম্পদ ব্যয় হয়, ওই সম্পদের উৎসের সাথে বা ঋণগ্রস্ত হওয়ার সাথে হজের শুদ্ধতার সম্পর্ক নেই।

তবে যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত এবং ঋণ পরিশোধ করলে হজ করার সামর্থ্য থাকবে না, তার ওপর হজ ফরজ নয়। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে তার কর্তব্য হলো আগে ঋণ পরিশোধ করা, তারপর সামর্থ্য থাকলে হজ করা।

ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকলে ঋণ পরিশোধের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই বা নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করা জরুরি। ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকার পরও ঋণ পরিশোধ করতে গড়িমসি করা জুলুম। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সক্ষম ব্যক্তির টালবাহানা করা অত্যাচারের শামিল। (সহিহ মুসলিম: ৩৮৫৬)

দুনিয়াতে বেঁচে থাকতে ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকার পরও ঋণ পরিশোধ না করলে পরকালে নিজের আমল দিয়ে এবং ঋণদাতার গুনাহের বোঝা নিজের কাঁধে নিয়ে ওই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। বান্দার হক আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করলেও ঋণ মাফ হয় না। নবীজি (সা.) বলেছেন, আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গকারী শহীদের সব পাপ ক্ষমা করা হলেও অপরিশোধিত ঋণ ক্ষমা করা হয় না। (সহিহ মুসলিম: ৪৯৯১)

আরেকটি হাদিসে, রাসুল (সা.) বলেন, কারো উপর তার ভাইয়ের কোনো দাবি থাকলে সে যেন তা থেকে মুক্ত হয়। কারণ কেয়ামতের দিন পাওনা পরিশোধের জন্য টাকা-পয়সা থাকবে না। তখন অন্যায়ের সমপরিমাণ সওয়াব পাওনাদারের জন্য নিয়ে নেওয়া হবে। সওয়াব না থাকলে পাওনাদারের গুনাহগুলো তার উপরে চাপিয়ে দেওয়া হবে। (সহিহ বুখারি ৬৫৩৪)

তাই ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে হেলাফেলা করা কোনো মুসলমানের কাজ হতে পারে না। ঋণ পরিশোধকে নফল হজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

ঋণ পরিশোধ না করে হজ করলে কি হজ হবে?

আপডেট সময় ০৯:৩৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

প্রশ্ন: ঋণ পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরও ঋণ পরিশোধ করেনি, কিন্তু হজ করতে যাচ্ছে, এই ব্যক্তির হজ কি শুদ্ধ হবে?

উত্তর: ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ না করে হজ করলে তার হজ শুদ্ধ হবে যদি হজের রোকন ও শর্তগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করা হয়। হজে যে সম্পদ ব্যয় হয়, ওই সম্পদের উৎসের সাথে বা ঋণগ্রস্ত হওয়ার সাথে হজের শুদ্ধতার সম্পর্ক নেই।

তবে যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত এবং ঋণ পরিশোধ করলে হজ করার সামর্থ্য থাকবে না, তার ওপর হজ ফরজ নয়। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে তার কর্তব্য হলো আগে ঋণ পরিশোধ করা, তারপর সামর্থ্য থাকলে হজ করা।

ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকলে ঋণ পরিশোধের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই বা নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করা জরুরি। ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকার পরও ঋণ পরিশোধ করতে গড়িমসি করা জুলুম। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সক্ষম ব্যক্তির টালবাহানা করা অত্যাচারের শামিল। (সহিহ মুসলিম: ৩৮৫৬)

দুনিয়াতে বেঁচে থাকতে ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকার পরও ঋণ পরিশোধ না করলে পরকালে নিজের আমল দিয়ে এবং ঋণদাতার গুনাহের বোঝা নিজের কাঁধে নিয়ে ওই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। বান্দার হক আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করলেও ঋণ মাফ হয় না। নবীজি (সা.) বলেছেন, আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গকারী শহীদের সব পাপ ক্ষমা করা হলেও অপরিশোধিত ঋণ ক্ষমা করা হয় না। (সহিহ মুসলিম: ৪৯৯১)

আরেকটি হাদিসে, রাসুল (সা.) বলেন, কারো উপর তার ভাইয়ের কোনো দাবি থাকলে সে যেন তা থেকে মুক্ত হয়। কারণ কেয়ামতের দিন পাওনা পরিশোধের জন্য টাকা-পয়সা থাকবে না। তখন অন্যায়ের সমপরিমাণ সওয়াব পাওনাদারের জন্য নিয়ে নেওয়া হবে। সওয়াব না থাকলে পাওনাদারের গুনাহগুলো তার উপরে চাপিয়ে দেওয়া হবে। (সহিহ বুখারি ৬৫৩৪)

তাই ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে হেলাফেলা করা কোনো মুসলমানের কাজ হতে পারে না। ঋণ পরিশোধকে নফল হজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।