সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতের দাবি বেরোবি শিক্ষার্থীদের

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস—মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং ন্যায্যতার প্রতীক এই দিনটি। বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মানবিক জীবনের দাবিকে সামনে এনে প্রতি বছর পালন করা হয় দিনটি।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে শিল্প ও সেবাখাত—সব ক্ষেত্রেই শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। অথচ এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনো ন্যায্য অধিকার, সম্মানজনক জীবনযাপন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ থেকে বঞ্চিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল মালেক বলেন, “মে দিবস শুধু একটি দিবস নয়, এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি, অনেক শ্রমিক এখনো ন্যায্য মজুরি পায় না, কাজের পরিবেশও অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “শ্রমিকদের ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। কিন্তু তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ এখনো সীমিত। শ্রমিকদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুর রহমান বলেন,” শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না, যা একটি মানবিক সমাজের জন্য কাম্য নয়। শ্রমিকদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম নাঈম বলেন,”শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে ভবিষ্যতে একটি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে শুধু শ্রমিক পরিবারের জীবনমানই উন্নত হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান ফাহিম বলেন, “শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার, মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
মে দিবসে বেরোবিয়ানদের এই ভাবনা ও প্রত্যাশা শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনে শ্রমিকদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই—এমনটাই মনে করছেন তারা।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতের দাবি বেরোবি শিক্ষার্থীদের

আপডেট সময় ০১:২৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস—মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং ন্যায্যতার প্রতীক এই দিনটি। বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মানবিক জীবনের দাবিকে সামনে এনে প্রতি বছর পালন করা হয় দিনটি।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে শিল্প ও সেবাখাত—সব ক্ষেত্রেই শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। অথচ এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনো ন্যায্য অধিকার, সম্মানজনক জীবনযাপন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ থেকে বঞ্চিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল মালেক বলেন, “মে দিবস শুধু একটি দিবস নয়, এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি, অনেক শ্রমিক এখনো ন্যায্য মজুরি পায় না, কাজের পরিবেশও অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “শ্রমিকদের ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। কিন্তু তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ এখনো সীমিত। শ্রমিকদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুর রহমান বলেন,” শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না, যা একটি মানবিক সমাজের জন্য কাম্য নয়। শ্রমিকদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম নাঈম বলেন,”শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে ভবিষ্যতে একটি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে শুধু শ্রমিক পরিবারের জীবনমানই উন্নত হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান ফাহিম বলেন, “শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার, মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
মে দিবসে বেরোবিয়ানদের এই ভাবনা ও প্রত্যাশা শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনে শ্রমিকদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই—এমনটাই মনে করছেন তারা।