ট্টগ্রাম নগরীর বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) অফিসে দুর্নীতি এখন লাগামহীন। কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দালালচক্রের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে আঙুল উঠেছে জেলা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সলিম উল্যাহর দিকে, যিনি বিআরটিএ-তে এখন ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে গত কয়েক বছরে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন মো. সলিম উল্যাহ। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নগরীর লালখান বাজার এলাকায় তার দুটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। এছাড়া স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি। বিভিন্ন ব্যাংকে স্ত্রীর নামে মোটা অঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের মতে, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন কিংবা রুট পারমিট—ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলই নড়ে না এখানে। অফিসের বাইরে দালালদের মাধ্যমে চলে এই প্রকাশ্য লেনদেন। ঘুষের একটি নির্দিষ্ট রেট চার্টও যেন নির্ধারিত হয়ে গেছে এই অফিসে:
-
রুট পারমিট: নতুন বাসের জন্য ১০ হাজার এবং নবায়নে ৩-৪ হাজার টাকা।
-
মালিকানা পরিবর্তন: প্রতি গাড়িতে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা।
-
ফিটনেস: সিএনজির জন্য ১৫০০-১৮০০ টাকা, ট্রাকের জন্য ১৮০০-২০০০ টাকা এবং হিউম্যান হলারে ৪-৫ হাজার টাকা।
-
ড্রাইভিং লাইসেন্স: নতুন লাইসেন্সের জন্য ৪-৫ হাজার টাকার চুক্তি বাধ্যতামূলক। টাকা না দিলে পরীক্ষায় ‘ফেল’ করানো হয় বলে অভিযোগ পরীক্ষার্থীদের।
এক পরিবহন শ্রমিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সলিম উল্যাহ এই অফিসের পুরনো গডফাদার। অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তার সব অপকর্ম বারবার ধামাচাপা পড়ে যায়।”
দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অনিয়ম ও হয়রানির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিআরটিএ’র এই বিভাগীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায়ের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।
দুদকের চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জানান, “সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সলিম উল্যাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. সলিম উল্যাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।
সাধারণ গ্রাহকদের দাবি, কেবল অভিযান নয়, বিআরটিএকে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে এই সিন্ডিকেটের হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























