ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ লাইনের ছোবলে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কক্সবাজারে দগ্ধ নির্মাণশ্রমিক কাজল। ডিপিডিসি’র এমডি নিয়োগে বিতর্কিত মানদন্ড উত্তরায় রাস্তা নির্মাণের আড়ালে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ দুলাল-ইব্রাহিম চক্রের প্রতারণার জাল কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার কৌশল কৃষকলীগ নেতা মাকসুদ ও সোহেলকে ঘিরে ভুয়া ‘প্রাচীন পিলার-কয়েন’ প্রতারণা ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ব্যাংক-বিশ্ববিদ্যালয় সাম্রাজ্য এম এ কাসেমের পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৪ জনের, অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যু বিয়ের নামে প্রতারণা, ওসির বিরুদ্ধে নারী সার্জেন্টের অভিযোগ ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ২৫ বিলিয়ন ডলার

উত্তরায় রাস্তা নির্মাণের আড়ালে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

তুরাগ থানায় একটি লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে রাজধানীর বামনারটেক এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং বসতবাড়ি ও সম্পত্তি ভাঙচুরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী আবুল হাসনাত রাসেল (৩৭) তার এজাহারে দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তাকে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অর্থ আদায় ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার তাকে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং চাঁদা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া, সম্পত্তি ধ্বংস করা ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে বামনারটেক এলাকায় তার নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ চলাকালীন সময়ে একদল লোক সংঘবদ্ধভাবে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। অভিযোগে বলা হয়, ওই দলে সোহেল রানা ওরফে কিলার সোহেল (৪৩), মো. দিদার (৪০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি ছিল। তারা সেখানে গিয়ে প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে এবং নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় বলে দাবি করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, চাঁদা না পাওয়ার পরপরই তারা নির্মাণাধীন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। লোহার রড ও হাতুড়ি ব্যবহার করে ইটের গাঁথুনি এবং গেট ভেঙে ফেলা হয়, এতে প্রায় এক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে অভিযোগকারীকে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে কিল-ঘুষি মারা হয়, জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তার পকেটে থাকা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সোহেল রানা ওরফে কিলার সোহেল তাকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং বলে, দাবি করা ১০ লাখ টাকা না দিলে তাকে যেকোনো সময় হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগেও একই ব্যক্তিকে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে যখন অভিযুক্তরা অভিযোগকারীর গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। এতে তার গলায় আঘাত লাগে এবং লাল দাগ পড়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার সাবল নিক্ষেপ করে, তবে তিনি কোনোভাবে সরে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে বলে দাবি করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা শুধু হামলা বা চাঁদাবাজিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তারা আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে অভিযোগকারীর বাড়ির সম্পত্তি লুটপাট করার জন্যও উসকানি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় তাকে টঙ্গীর আহসানউল্লাহ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, যার মেডিকেল সার্টিফিকেট এজাহারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিয়মিত হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তরা প্রায়ই এলাকায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং সামাজিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা হিসেবে সোহেল রানা এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পূর্বের ঘটনার জের ধরে চলমান ভয়ভীতি ও হুমকির মধ্যেই সর্বশেষ একটি নতুন ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল সকালে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযোগকারী জরুরি প্রয়োজনে বাইরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা রাস্তা সংস্কারের অজুহাত দেখিয়ে কোনো ধরনের নোটিশ বা আইনগত অনুমতি ছাড়াই তার বাড়িঘর, দোকানঘর, পানির ট্যাংক এবং সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে বলে দাবি করা হয়। এতে আনুমানিক ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, এসব ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তাকে বিভিন্ন সময় থানা পুলিশের সহায়তা নেওয়া থেকে বিরত রাখতে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং পূর্বে অভিযোগ করায় তার ওপর ক্ষোভ বাড়ে, যার ফলে পুনরায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, সোহেল রানা এলাকায় একটি প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছে এবং তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এবং তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, একাধিকবার এমন পরিস্থিতির শিকার হওয়ার পরও তারা সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে কোনো স্থায়ী সমাধান পাননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাগুলোর পর স্থানীয়ভাবে কিছু লোকজন মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হুমকি ও চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগকারী বলেন, তিনি বাধ্য হয়ে বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান, যাতে দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারী আবুল হাসনাত রাসেল তার এজাহারে শেষ পর্যন্ত বলেন, তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং তাকে ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান করবে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ লাইনের ছোবলে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কক্সবাজারে দগ্ধ নির্মাণশ্রমিক কাজল।

উত্তরায় রাস্তা নির্মাণের আড়ালে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:২১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
তুরাগ থানায় একটি লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে রাজধানীর বামনারটেক এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং বসতবাড়ি ও সম্পত্তি ভাঙচুরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী আবুল হাসনাত রাসেল (৩৭) তার এজাহারে দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তাকে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অর্থ আদায় ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার তাকে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং চাঁদা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া, সম্পত্তি ধ্বংস করা ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে বামনারটেক এলাকায় তার নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ চলাকালীন সময়ে একদল লোক সংঘবদ্ধভাবে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। অভিযোগে বলা হয়, ওই দলে সোহেল রানা ওরফে কিলার সোহেল (৪৩), মো. দিদার (৪০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি ছিল। তারা সেখানে গিয়ে প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে এবং নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় বলে দাবি করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, চাঁদা না পাওয়ার পরপরই তারা নির্মাণাধীন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। লোহার রড ও হাতুড়ি ব্যবহার করে ইটের গাঁথুনি এবং গেট ভেঙে ফেলা হয়, এতে প্রায় এক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে অভিযোগকারীকে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে কিল-ঘুষি মারা হয়, জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তার পকেটে থাকা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সোহেল রানা ওরফে কিলার সোহেল তাকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং বলে, দাবি করা ১০ লাখ টাকা না দিলে তাকে যেকোনো সময় হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগেও একই ব্যক্তিকে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে যখন অভিযুক্তরা অভিযোগকারীর গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। এতে তার গলায় আঘাত লাগে এবং লাল দাগ পড়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার সাবল নিক্ষেপ করে, তবে তিনি কোনোভাবে সরে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে বলে দাবি করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা শুধু হামলা বা চাঁদাবাজিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তারা আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে অভিযোগকারীর বাড়ির সম্পত্তি লুটপাট করার জন্যও উসকানি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় তাকে টঙ্গীর আহসানউল্লাহ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, যার মেডিকেল সার্টিফিকেট এজাহারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিয়মিত হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তরা প্রায়ই এলাকায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং সামাজিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা হিসেবে সোহেল রানা এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পূর্বের ঘটনার জের ধরে চলমান ভয়ভীতি ও হুমকির মধ্যেই সর্বশেষ একটি নতুন ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল সকালে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযোগকারী জরুরি প্রয়োজনে বাইরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা রাস্তা সংস্কারের অজুহাত দেখিয়ে কোনো ধরনের নোটিশ বা আইনগত অনুমতি ছাড়াই তার বাড়িঘর, দোকানঘর, পানির ট্যাংক এবং সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে বলে দাবি করা হয়। এতে আনুমানিক ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, এসব ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তাকে বিভিন্ন সময় থানা পুলিশের সহায়তা নেওয়া থেকে বিরত রাখতে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং পূর্বে অভিযোগ করায় তার ওপর ক্ষোভ বাড়ে, যার ফলে পুনরায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, সোহেল রানা এলাকায় একটি প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছে এবং তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এবং তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, একাধিকবার এমন পরিস্থিতির শিকার হওয়ার পরও তারা সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে কোনো স্থায়ী সমাধান পাননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাগুলোর পর স্থানীয়ভাবে কিছু লোকজন মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হুমকি ও চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগকারী বলেন, তিনি বাধ্য হয়ে বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান, যাতে দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারী আবুল হাসনাত রাসেল তার এজাহারে শেষ পর্যন্ত বলেন, তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং তাকে ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান করবে।