দেশের ব্যাংকিং ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক সিদ্ধান্তে একক আধিপত্য এবং স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে আলোচিত নাম এম এ কাসেম। আগের পর্বগুলোতে ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য, জমি ক্রয় এবং তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এলেও চতুর্থ পর্বে উঠে এসেছে আরও গভীর ও কাঠামোগত কিছু প্রশ্ন—কীভাবে দুটি বড় প্রতিষ্ঠানে একটি অদৃশ্য ক্ষমতা বলয় তৈরি হলো, কীভাবে সেই বলয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করে, কেন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান, এবং কীভাবে ব্যক্তি নির্ভর ব্যবস্থাপনা ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কাঠামোকে দুর্বল করে তুলছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, সাউথইস্ট ব্যাংক ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কাঠামো থাকলেও বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে সমান্তরাল এক প্রভাব ব্যবস্থা কাজ করছে। বোর্ড সভা, সিন্ডিকেট বৈঠক, বিভাগীয় সভা কিংবা ব্যবস্থাপনা কমিটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের বাইরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনাই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাগজে-কলমে যে নীতিমালা অনুসরণের কথা বলা হয়, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা পাশ কাটিয়ে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ঋণ অনুমোদন, বড় অঙ্কের ব্যয়, গুরুত্বপূর্ণ শাখায় পদায়ন, ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদন, আইটি প্রকল্প, পরামর্শক নিয়োগ এবং শীর্ষ পর্যায়ের মানবসম্পদ সিদ্ধান্তের মতো বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয় এবং অনেক কর্মকর্তা বুঝে উঠতে পারেন না—কোন সিদ্ধান্তটি প্রকৃত নীতিমালার ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে, আর কোনটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রভাবের কারণে হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এই ধরনের পরিবেশে মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্য বেশি মূল্য পায়। ফলে কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা উন্নয়নের সংস্কৃতি বাধাগ্রস্ত হয়। একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “যখন কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন যে ভালো কাজ করলেই উন্নতি হবে না, বরং কার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো সেটাই বড় বিষয়—তখন প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে যায়।”
বিশ্ববিদ্যালয় অংশেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিক শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বিভাগীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, নতুন কোর্স চালু, গবেষণা বরাদ্দ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশাসনিক নিয়োগ এবং নীতিগত সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশের চেয়ে প্রভাবশালী মহলের অবস্থান বেশি গুরুত্ব পায়। এতে শিক্ষক সমাজের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্তের সংস্কৃতি দুর্বল হলে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তি নির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থা শুরুতে কার্যকর মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা বড় ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ এতে প্রতিষ্ঠান নীতিনির্ভর না হয়ে ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়ে। একজন ব্যক্তি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকলে ভিন্নমত কমে যায়, প্রশ্ন করার সংস্কৃতি দুর্বল হয়, আর ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগও সংকুচিত হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো বাইরে থেকে শক্তিশালী দেখালেও ভেতরে ভেতরে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ক্ষয়ে যেতে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, এই প্রভাব বলয় টিকিয়ে রাখতে ঘনিষ্ঠদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটি, উপদেষ্টা পদ, বিশেষ দায়িত্ব এবং প্রশাসনিক অবস্থানে বসানো হয়েছে। এতে একটি ‘বিশ্বস্ত নেটওয়ার্ক’ তৈরি হয়, যারা আবার নিজেদের মতো করে পরবর্তী স্তরে প্রভাব বিস্তার করে। এর ফলে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার পথ সংকুচিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে একই ধরণের লোকজনের আধিপত্য স্থায়ী হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো পদোন্নতি ও পদায়ন প্রক্রিয়া। অভিযোগ রয়েছে, অনেক কর্মকর্তা বছরের পর বছর ভালো পারফরম্যান্স দিলেও কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি পান না। আবার কিছু কর্মকর্তা তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতা নিয়েও দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে আসেন। এই বৈষম্য কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কর্তৃপক্ষ এ ধরনের অভিযোগ স্বীকার করেনি।
একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়োগ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড, প্রশাসনিক পদে নিয়োগ, প্রকল্পভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন কিংবা বিশেষ কমিটিতে সদস্য নির্বাচন—এসব ক্ষেত্রেও যোগ্যতার চেয়ে ঘনিষ্ঠতা বিবেচনায় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তারা মনে করেন, এমন প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে একাডেমিক মানকে দুর্বল করে।
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভয়ের সংস্কৃতি। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভিন্নমত পোষণ করলে অনেক সময় পদোন্নতি আটকে যাওয়া, কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পাঠানো, প্রশাসনিক হয়রানি বা প্রান্তিককরণের আশঙ্কা থাকে। ফলে অনেকে অনিয়ম দেখলেও নীরব থাকেন। কিছু কর্মকর্তা বলেন, “সবার পরিবার আছে, চাকরি আছে। কেউ সহজে ঝুঁকি নিতে চান না।” এই মনোভাবই নীরবতার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, যখন প্রতিষ্ঠানে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়, তখন অভ্যন্তরীণ অভিযোগ ব্যবস্থাও অকার্যকর হয়ে পড়ে। কর্মীরা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন যে অভিযোগ করলে ন্যায়বিচার মিলবে। বরং অভিযোগকারীই সমস্যায় পড়বেন—এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু তহবিল ব্যাংকে এফডিআর আকারে রাখা হয়েছে, আবার দুই প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে একই প্রভাব বলয়ের উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সম্পর্ক আইনগতভাবে অনুমোদিত হলেও সুশাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সিদ্ধান্ত যদি অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রভাবাধীন হয়, তাহলে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন উঠতে পারে।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, একটি ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনআস্থা। আমানতকারীরা বিশ্বাস করেন বলেই ব্যাংকে অর্থ রাখেন। যদি ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম বা একক প্রভাবের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেই আস্থায় চিড় ধরতে পারে। এমনকি অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলতে থাকলে সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি দেন এই বিশ্বাসে যে তা শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামো এবং সেবার উন্নয়নে ব্যয় হবে। যদি তহবিল ব্যবস্থাপনা, জমি ক্রয়, প্রশাসনিক ব্যয় বা অপ্রয়োজনীয় কমিটি গঠনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বলয় তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো দুর্বল বোর্ড গভর্ন্যান্স। যদি বোর্ড সদস্যরা স্বাধীনভাবে মতামত দিতে না পারেন, পর্যাপ্ত তথ্য না পান, বা নির্বাহী সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে যাচাই না করেন, তাহলে কিছু ব্যক্তি সহজেই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে চলে আসেন। একইভাবে অভ্যন্তরীণ অডিট, কমপ্লায়েন্স ইউনিট এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ কার্যকর না হলে অনিয়ম ধরা পড়লেও প্রতিকার হয় না।
একজন করপোরেট গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ বলেন, “প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে হলে ব্যক্তির ওপর নয়, সিস্টেমের ওপর নির্ভর করতে হবে। সিস্টেম যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে কোনো ব্যক্তি অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন না।” তার মতে, স্বাধীন বোর্ড, শক্তিশালী অডিট কমিটি, স্বচ্ছ নিয়োগনীতি এবং হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় কমিটি গঠনকে প্রশাসনিক দক্ষতার পরিবর্তে আনুগত্য বণ্টনের উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত কমিটি, উপকমিটি, উপদেষ্টা পরিষদ বা বিশেষ সেল তৈরি হলে সেখানে অতিরিক্ত ভাতা, প্রভাব এবং পদমর্যাদার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে প্রকৃত প্রয়োজনের চেয়ে রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত ভারসাম্য রক্ষাই অগ্রাধিকার পায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের সংস্কৃতি আর্থিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণকেও জটিল করে তোলে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট, অডিট প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থার নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল—সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং ট্রাস্টি বোর্ডের জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে মনে করেন, অভিযোগ উঠলেই প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যায় না; বরং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হলে প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী হতে পারে। কারণ এতে দুর্বলতা চিহ্নিত হয়, সংস্কারের সুযোগ তৈরি হয় এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। কিন্তু অভিযোগ চাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়।
এম এ কাসেম বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নীতিগতভাবে যেকোনো অভিযোগ তদন্ত ছাড়া সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, ব্যাংকিং ও শিক্ষা খাত শুধু দুটি সেক্টর নয়—এগুলো দেশের অর্থনীতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক আস্থার ভিত্তি। একটি ব্যাংক দুর্বল হলে অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ে, একটি বিশ্ববিদ্যালয় দুর্বল হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এই খাতগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন।
তারা আরও বলছেন, ব্যক্তি কেন্দ্রিক আধিপত্যের সংস্কৃতি ভাঙতে হলে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি—স্বাধীন তদন্ত, প্রকাশ্য নিরীক্ষা প্রতিবেদন, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, বোর্ড সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ অভিযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং নিয়মিত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন। পাশাপাশি বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত, জমি ক্রয়, তহবিল স্থানান্তর এবং বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের যাচাই বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।
একাধিক শিক্ষার্থী ও আমানতকারীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য, অভিযোগ সত্য হোক বা মিথ্যা—দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তা চললে সবার ক্ষতি। দ্রুত তদন্ত, স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং তথ্য প্রকাশই আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
সব মিলিয়ে, এম এ কাসেমকে ঘিরে ব্যাংকুবিশ্ববিদ্যালয় সাম্রাজ্যের এই বিতর্ক এখন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সীমানা ছাড়িয়ে সুশাসনের বৃহত্তর প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। এখানে মূল প্রশ্ন একটাই—প্রতিষ্ঠান কি নিয়মে চলবে, নাকি প্রভাবে? সিদ্ধান্ত কি কাঠামো নেবে, নাকি ব্যক্তি? জবাবদিহিতা কি কাগজে থাকবে, নাকি বাস্তবে কার্যকর হবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলো কেবল সাময়িক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তা দেশের করপোরেট ও শিক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের সংস্কারের সূচনা করবে। এখন নজর সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা, তদন্ত কর্তৃপক্ষ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কারণ সত্য উদঘাটন যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি আস্থা পুনর্গঠনও।
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্যাংক-বিশ্ববিদ্যালয় সাম্রাজ্য এম এ কাসেমের
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ১০:৫১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
- ৫১০ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ




















