ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর ‘সাংবাদিকের লেখায় কিছু যায় আসে না!’ বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেতন-টিএ-ডিএ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শরীয়তপুরে কু’প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদে নি’র্যা’তন, গ্রে’প্তার ২ কুমিল্লায় মোহনা টেলিভিশন অফিসে লুট: দুই আসামি গ্রেপ্তার সোনামসজিদ বন্দরে অবকাঠামো সংকট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, সরকারের দৃষ্টি কামনা” আব্দুল ওয়াহেদর জুলাই যোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশকে নতুন করে স্বাধীন করেছে – গৃহায়ণমন্ত্রী কুমিল্লায় এসএন মার্কেটে দোকান দখলের চেষ্টার অভিযোগ,নিরাপত্তার দাবি ভুক্তভোগীদের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করতে চাই : আফরোজা খানম কালিহাতীতে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে মারধর, চার দিন পর আহত ব্যক্তির মৃত্যু

কৃষি ডিপ্লোমা পাসের ৩ বছর আগেই শিক্ষক নিয়োগ: গাংনীতে চাঞ্চল্য

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় কৃষি ডিপ্লোমা পাসের তিন বছর আগেই সহকারী শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবুল কালাম আজাদ নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার হিন্দা গ্রামে অবস্থিত **এইচ.এম.এইচ.ভি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে** এই ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার বিবরণ:
নথিপত্র ও সনদ যাচাই করে দেখা গেছে, শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার এমএস জোহা কৃষি কলেজে ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে ৩ বছর মেয়াদী কৃষি ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন (রোল: ১০৬২৫৭, রেজি: ১৯৭৪৯৭)। তিনি ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং তার সনদটি ইস্যু করা হয় ২০০৯ সালের ২৪ মে।
বিস্ময়কর তথ্য হলো, শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের প্রায় ৩ বছর পূর্বেই অর্থাৎ **১০ জানুয়ারি ২০০৫ তারিখে** তিনি উক্ত বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে যোগদান করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য:
এ বিষয়ে মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সে সময় অনেক বিদ্যালয়েই ডিপ্লোমা পাসের আগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হতো। আমাকেও ৩ বছরের ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার শর্তে ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগ দিয়েছিল। শিক্ষা অধিদপ্তরের তৎকালীন পরিপত্র অনুযায়ী আমার সকল কাগজপত্র যাচাই করেই বেতন-ভাতার (এমপিও) ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।”
প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য:
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হালিম জানান, ২০০৫ সালে একটি পরিপত্র ছিল যেখানে বলা হয়েছিল—কৃষি ডিপ্লোমার ৬টি সেমিস্টারের মধ্যে ৩টি সম্পন্ন করলেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, “তৎকালীন সভাপতি ও শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই বিষয়টি জানতেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া একক সিদ্ধান্তে হয় না; কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে অনেক সময় অনিয়মও মেনে নিতে হয়।”
উপজেলা শিক্ষা অফিসের মন্তব্য:
গাংনী উপজেলা অতিরিক্ত শিক্ষা অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, “আমার জানামতে ২০০৫ সালে শর্তসাপেক্ষে (৩ সেমিস্টার সম্পন্নকারী) নিয়োগের একটি পরিপত্র ছিল। তবে নিয়োগ যদি সেই পরিপত্রের বাইরে গিয়ে হয়, তবে তা অবশ্যই বিধি মোতাবেক হয়নি।”
বর্তমান প্রশাসনের পদক্ষেপ:
বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান। তিনি বলেন, **”তদন্তে যদি নিয়োগটি বিধি-বহির্ভূত প্রমাণিত হয়, তবে প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। সেখান থেকেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান

কৃষি ডিপ্লোমা পাসের ৩ বছর আগেই শিক্ষক নিয়োগ: গাংনীতে চাঞ্চল্য

আপডেট সময় ০৮:৫৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় কৃষি ডিপ্লোমা পাসের তিন বছর আগেই সহকারী শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবুল কালাম আজাদ নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার হিন্দা গ্রামে অবস্থিত **এইচ.এম.এইচ.ভি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে** এই ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার বিবরণ:
নথিপত্র ও সনদ যাচাই করে দেখা গেছে, শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার এমএস জোহা কৃষি কলেজে ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে ৩ বছর মেয়াদী কৃষি ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন (রোল: ১০৬২৫৭, রেজি: ১৯৭৪৯৭)। তিনি ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং তার সনদটি ইস্যু করা হয় ২০০৯ সালের ২৪ মে।
বিস্ময়কর তথ্য হলো, শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের প্রায় ৩ বছর পূর্বেই অর্থাৎ **১০ জানুয়ারি ২০০৫ তারিখে** তিনি উক্ত বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে যোগদান করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য:
এ বিষয়ে মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সে সময় অনেক বিদ্যালয়েই ডিপ্লোমা পাসের আগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হতো। আমাকেও ৩ বছরের ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার শর্তে ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগ দিয়েছিল। শিক্ষা অধিদপ্তরের তৎকালীন পরিপত্র অনুযায়ী আমার সকল কাগজপত্র যাচাই করেই বেতন-ভাতার (এমপিও) ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।”
প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য:
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হালিম জানান, ২০০৫ সালে একটি পরিপত্র ছিল যেখানে বলা হয়েছিল—কৃষি ডিপ্লোমার ৬টি সেমিস্টারের মধ্যে ৩টি সম্পন্ন করলেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, “তৎকালীন সভাপতি ও শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই বিষয়টি জানতেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া একক সিদ্ধান্তে হয় না; কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে অনেক সময় অনিয়মও মেনে নিতে হয়।”
উপজেলা শিক্ষা অফিসের মন্তব্য:
গাংনী উপজেলা অতিরিক্ত শিক্ষা অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, “আমার জানামতে ২০০৫ সালে শর্তসাপেক্ষে (৩ সেমিস্টার সম্পন্নকারী) নিয়োগের একটি পরিপত্র ছিল। তবে নিয়োগ যদি সেই পরিপত্রের বাইরে গিয়ে হয়, তবে তা অবশ্যই বিধি মোতাবেক হয়নি।”
বর্তমান প্রশাসনের পদক্ষেপ:
বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান। তিনি বলেন, **”তদন্তে যদি নিয়োগটি বিধি-বহির্ভূত প্রমাণিত হয়, তবে প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। সেখান থেকেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।