ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর ‘সাংবাদিকের লেখায় কিছু যায় আসে না!’ বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেতন-টিএ-ডিএ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শরীয়তপুরে কু’প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদে নি’র্যা’তন, গ্রে’প্তার ২ কুমিল্লায় মোহনা টেলিভিশন অফিসে লুট: দুই আসামি গ্রেপ্তার সোনামসজিদ বন্দরে অবকাঠামো সংকট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, সরকারের দৃষ্টি কামনা” আব্দুল ওয়াহেদর জুলাই যোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশকে নতুন করে স্বাধীন করেছে – গৃহায়ণমন্ত্রী কুমিল্লায় এসএন মার্কেটে দোকান দখলের চেষ্টার অভিযোগ,নিরাপত্তার দাবি ভুক্তভোগীদের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করতে চাই : আফরোজা খানম কালিহাতীতে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে মারধর, চার দিন পর আহত ব্যক্তির মৃত্যু

ময়মনসিংহে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়

ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫নং সিরতা ইউনিয়নের চর আনন্দীপুর গ্রামে অবস্থিত ‘রেনেসাঁ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’।

এক সময় কয়েকশ শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর থাকা এই ক্যাম্পাসটি আজ যেন এক ভুতুড়ে জনপদ। ৪ থেকে ৫শ শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতার বিশাল চারতলা ভবনটি দাঁড়িয়ে থাকলেও, সেখানে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ২৬ জন।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীনের সীমাহীন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং একক স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই ধ্বংসের মুখে পড়েছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।
​অনিয়ম যখন নিয়ম ​অনুসন্ধানে জানা যায়, একসময় আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়ন থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এখানে পড়তে এলেও বর্তমানে চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। প্রধান শিক্ষকের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয় পরিচালনা করার ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

​অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো:​শিক্ষার্থী সংকট: ৫শ জনের স্কুলে বর্তমান শিক্ষার্থী মাত্র ২৬ জন। ​দুর্ব্যবহার: অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের অপেশাদার আচরণের কারণে অনেকেই স্কুল ছেড়ে চলে গেছে।​শিক্ষকদের আতঙ্ক: সহকারী শিক্ষকরা মুখ খুললেই চাকরি হারানোর হুমকিতে থাকেন। এমনকি নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে।
​জবাবদিহিতার অভাব: স্থানীয়দের দাবি, প্রধান শিক্ষক কারো তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমতো প্রতিষ্ঠানটি চালাচ্ছেন

​রহস্যজনক অনুপস্থিতি ​গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলছে। অথচ ওই দিনই বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সমস্যা নিয়ে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা ছিল। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন ব্যস্ততার অজুহাতে বৈঠকে আসতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন।
​প্রশাসনের বক্তব্য ও প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

​উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেলায়েত হোসেন জানান, অভিযোগগুলো নতুন নয়। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই এসব অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে এবং তদন্তে অনেক অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।”​তবে প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? কেন একটি সাজানো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে?

​এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের জোরালো দাবি, অবিলম্বে ওই প্রধান শিক্ষকের অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে রেনেসাঁ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান

ময়মনসিংহে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়

আপডেট সময় ০৩:৩০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫নং সিরতা ইউনিয়নের চর আনন্দীপুর গ্রামে অবস্থিত ‘রেনেসাঁ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’।

এক সময় কয়েকশ শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর থাকা এই ক্যাম্পাসটি আজ যেন এক ভুতুড়ে জনপদ। ৪ থেকে ৫শ শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতার বিশাল চারতলা ভবনটি দাঁড়িয়ে থাকলেও, সেখানে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ২৬ জন।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীনের সীমাহীন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং একক স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই ধ্বংসের মুখে পড়েছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।
​অনিয়ম যখন নিয়ম ​অনুসন্ধানে জানা যায়, একসময় আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়ন থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এখানে পড়তে এলেও বর্তমানে চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। প্রধান শিক্ষকের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয় পরিচালনা করার ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

​অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো:​শিক্ষার্থী সংকট: ৫শ জনের স্কুলে বর্তমান শিক্ষার্থী মাত্র ২৬ জন। ​দুর্ব্যবহার: অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের অপেশাদার আচরণের কারণে অনেকেই স্কুল ছেড়ে চলে গেছে।​শিক্ষকদের আতঙ্ক: সহকারী শিক্ষকরা মুখ খুললেই চাকরি হারানোর হুমকিতে থাকেন। এমনকি নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে।
​জবাবদিহিতার অভাব: স্থানীয়দের দাবি, প্রধান শিক্ষক কারো তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমতো প্রতিষ্ঠানটি চালাচ্ছেন

​রহস্যজনক অনুপস্থিতি ​গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলছে। অথচ ওই দিনই বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সমস্যা নিয়ে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা ছিল। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন ব্যস্ততার অজুহাতে বৈঠকে আসতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন।
​প্রশাসনের বক্তব্য ও প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

​উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেলায়েত হোসেন জানান, অভিযোগগুলো নতুন নয়। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই এসব অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে এবং তদন্তে অনেক অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।”​তবে প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? কেন একটি সাজানো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে?

​এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের জোরালো দাবি, অবিলম্বে ওই প্রধান শিক্ষকের অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে রেনেসাঁ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।