সংবাদ শিরোনাম ::
এবার আনিস আলমগীর, সোমা ও পিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে জিডি বরগুনায় হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টার্ন  চিকিৎসকদের সনদ বিতরন ও বিদায় সংবর্ধনা ব্রাজিল ম্যাচের আগে নরওয়ে শিবিরে বড় ধাক্কা সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ আগে ২৫-২৬ দেশ থেকে জ্বালানি কিনতো ভারত, এখন কেনে ৪০ দেশ থেকে: মোদি ঢাকাসহ ১৪ জেলার জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের দুঃসংবাদ প্রান্তিক পর্যায়ের রোগী এখনো সঠিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত, শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকেট উদ্বোধন করদাতাদের সতর্ক করে এনবিআরের ৪ নির্দেশনা

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের চালু থাকা সর্বশেষ ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৮ জেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বয়লারের পাইপ লিকেস হয়ে যাওয়া এবং কুলিং ফ্যান ভেঙে যাওয়ার কারণে রাত ১০টা ১০ মিনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, “মেরামত কাজ চলছে। উৎপাদন পুনরায় চালু করতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে।”
এর আগে দীর্ঘদিন ধরে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট বন্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে, যার সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটি ও সংস্কার কাজের কারণে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এরপর থেকে মূলত ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট দিয়ে উৎপাদন চালানো হচ্ছিল।
তবে এই ইউনিটগুলোও বিভিন্ন সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে পড়ে। গত বছর (২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও অক্টোবর) বয়লার লিকেজ, টিউব ফেটে যাওয়া এবং টারবাইন সেন্সর নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যায় উৎপাদন বন্ধ হয়েছিল।
বারবার এমন ত্রুটির কারণে পুরোনো এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী তা পাওয়া যাচ্ছে না। চলমান ভ্যাপসা গরমে (৩৫–৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। দিন-রাত বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার আনিস আলমগীর, সোমা ও পিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে জিডি

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

আপডেট সময় ০৭:৫০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের চালু থাকা সর্বশেষ ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৮ জেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বয়লারের পাইপ লিকেস হয়ে যাওয়া এবং কুলিং ফ্যান ভেঙে যাওয়ার কারণে রাত ১০টা ১০ মিনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, “মেরামত কাজ চলছে। উৎপাদন পুনরায় চালু করতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে।”
এর আগে দীর্ঘদিন ধরে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট বন্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে, যার সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটি ও সংস্কার কাজের কারণে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এরপর থেকে মূলত ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট দিয়ে উৎপাদন চালানো হচ্ছিল।
তবে এই ইউনিটগুলোও বিভিন্ন সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে পড়ে। গত বছর (২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও অক্টোবর) বয়লার লিকেজ, টিউব ফেটে যাওয়া এবং টারবাইন সেন্সর নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যায় উৎপাদন বন্ধ হয়েছিল।
বারবার এমন ত্রুটির কারণে পুরোনো এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী তা পাওয়া যাচ্ছে না। চলমান ভ্যাপসা গরমে (৩৫–৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। দিন-রাত বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।