সংবাদ শিরোনাম ::
অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রির দায়ে জরিমানা গুনল আগোরা এমবাপেকে বর্ণবাদী আক্রমণ প্যারাগুয়ে সিনেটরের, আইনি ব্যবস্থা নেবে ফ্রান্স সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী টানা ৫ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা ঢাকাসহ সারা দেশে গ্যাস নিয়ে বড় দুঃসংবাদ আমাদের দেশে উৎপাদিত ওষুধ উচ্চমানের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরগুনায় গ্রিড সাবস্টেশনে আগুন, প্রায় ৬৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : তথ্য উপদেষ্টা সাংবাদিকের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন মেসি ইন্টারপোলের বৈশ্বিক অভিযানে ৫৯ দেশে গ্রেফতার এক হাজারের বেশি

ন্যায্য দাম না পেয়ে তামাকে আগুন: বৈশাখের দিনে রংপুরে কৃষকের হতাশা

  • শফিউল মন্ডল
  • আপডেট সময় ০৩:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৯৭ বার পড়া হয়েছে
উত্তরের মানুষের অন্যতম প্রধান অর্থকারী ফসল তামাক। সেই তামাকই এবার দাউদাউ করে জ্বলতে দেখা গেল রংপুর সদর উপজেলার হরিদেব ইউনিয়নের হরকলি বাজারে। পহেলা বৈশাখের দিনে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য স্থানীয়দেরও নাড়া দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১লা বৈশাখ) সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ কৃষকেরা তামাক পাতা বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারে আসেন। নতুন বছরের শুরুতে ভালো দাম পেয়ে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর আশায় ছিলেন তারা। কিন্তু বাজারে এসে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় নিজের উৎপাদিত তামাকে আগুন ধরিয়ে দেন কয়েকজন চাষি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই তামাক চাষের জন্য পরিচিত। বিভিন্ন কোম্পানি নিবন্ধিত চাষিদের মাধ্যমে তামাক উৎপাদন করালেও, অনেক প্রান্তিক কৃষক নিবন্ধনের বাইরে থেকেও অধিক লাভের আশায় এ ফসল চাষ করেন। তবে চলতি মৌসুমে তামাকের বাজারমূল্য আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে তামাকের ভালো দাম থাকলেও এবার উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য অত্যন্ত কম। এতে করে তারা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
একজন কৃষক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,আমরা চাষিরা খুব অসহায়। অনেক কষ্ট করে তামাক চাষ করেছি, কিন্তু বাজারে কোনো দাম নেই। আমাদের দেখার যেন কেউ নেই।
আরেকজন কৃষক বলেন,তামাক চাষে সবচেয়ে বেশি সার লাগে। চড়া দামে সার কিনেছি, মজুরির খরচও অনেক। এক মন তামাক উৎপাদনে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু বাজারে এসে সেই খরচও উঠছে না।
প্রান্তিক এক বর্গাচাষি হতাশা প্রকাশ করে বলেন,মোর নিজের জমি নাই। মানুষের জমি বর্গা নিয়ে ঋণ করে চাষ করছি। এখন তামাকের দাম নাই—মোর কবর হইয়া গেল। সংসার চালামু কেমনে, বাচ্চার পড়ালেখার খরচ দিবো কেমনে?
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কৃষকদের এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কৃষকেরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না হলে তারা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন, যা ভবিষ্যতে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রির দায়ে জরিমানা গুনল আগোরা

ন্যায্য দাম না পেয়ে তামাকে আগুন: বৈশাখের দিনে রংপুরে কৃষকের হতাশা

আপডেট সময় ০৩:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
উত্তরের মানুষের অন্যতম প্রধান অর্থকারী ফসল তামাক। সেই তামাকই এবার দাউদাউ করে জ্বলতে দেখা গেল রংপুর সদর উপজেলার হরিদেব ইউনিয়নের হরকলি বাজারে। পহেলা বৈশাখের দিনে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য স্থানীয়দেরও নাড়া দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১লা বৈশাখ) সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ কৃষকেরা তামাক পাতা বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারে আসেন। নতুন বছরের শুরুতে ভালো দাম পেয়ে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর আশায় ছিলেন তারা। কিন্তু বাজারে এসে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় নিজের উৎপাদিত তামাকে আগুন ধরিয়ে দেন কয়েকজন চাষি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই তামাক চাষের জন্য পরিচিত। বিভিন্ন কোম্পানি নিবন্ধিত চাষিদের মাধ্যমে তামাক উৎপাদন করালেও, অনেক প্রান্তিক কৃষক নিবন্ধনের বাইরে থেকেও অধিক লাভের আশায় এ ফসল চাষ করেন। তবে চলতি মৌসুমে তামাকের বাজারমূল্য আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে তামাকের ভালো দাম থাকলেও এবার উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য অত্যন্ত কম। এতে করে তারা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
একজন কৃষক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,আমরা চাষিরা খুব অসহায়। অনেক কষ্ট করে তামাক চাষ করেছি, কিন্তু বাজারে কোনো দাম নেই। আমাদের দেখার যেন কেউ নেই।
আরেকজন কৃষক বলেন,তামাক চাষে সবচেয়ে বেশি সার লাগে। চড়া দামে সার কিনেছি, মজুরির খরচও অনেক। এক মন তামাক উৎপাদনে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু বাজারে এসে সেই খরচও উঠছে না।
প্রান্তিক এক বর্গাচাষি হতাশা প্রকাশ করে বলেন,মোর নিজের জমি নাই। মানুষের জমি বর্গা নিয়ে ঋণ করে চাষ করছি। এখন তামাকের দাম নাই—মোর কবর হইয়া গেল। সংসার চালামু কেমনে, বাচ্চার পড়ালেখার খরচ দিবো কেমনে?
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কৃষকদের এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কৃষকেরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না হলে তারা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন, যা ভবিষ্যতে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।