ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী অনেককেই এখন চেনেন না ইলিয়াস কাঞ্চন, মনেও রাখতে পারেন না কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার গুনাহ মাফ হবে: জামায়াত আমির  তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে : তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর ‘সাংবাদিকের লেখায় কিছু যায় আসে না!’ বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেতন-টিএ-ডিএ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শরীয়তপুরে কু’প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদে নি’র্যা’তন, গ্রে’প্তার ২ কুমিল্লায় মোহনা টেলিভিশন অফিসে লুট: দুই আসামি গ্রেপ্তার সোনামসজিদ বন্দরে অবকাঠামো সংকট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, সরকারের দৃষ্টি কামনা” আব্দুল ওয়াহেদর

যাকে নিয়ে চলছে দুদকের তদন্ত, তিনিই পেলেন বিমানের বড় পদ

সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখে পড়েছিলেন মো. মিজানুর রশীদ। যদিও তিনি সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে দাবি করেন, তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে এসবের মাঝেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাকে প্রশাসন, মানবসম্পদ ও অর্থ বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় গত ৪ মার্চ মিজানুর রশীদকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিন আবার তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যা মহাব্যবস্থাপকের চেয়ে উচ্চপদ।

বিমানের কর্মকর্তাদের অনেকেই বলছেন, দুর্নীতির অভিযোগের মুখে থাকা একজন কর্মকর্তাকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় তারা বিস্মিত।

অভিযোগ রয়েছে, বিমানের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী পক্ষের তদবিরেই মিজানুর রশীদ এসব দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে একজন অবসরপ্রাপ্ত পরিচালকের নামও আলোচনায় এসেছে, যিনি নিজেকে একজন মন্ত্রীর আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দেন বলে বিমানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, মিজানুর রশীদের পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে বিমানের সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা এবং এক ভাইও বিমানে চাকরি করতেন। তার বড় ভাই মো. হারুন অর রশীদ ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতার (টিএ/ডিএ) ভুয়া ভাউচার তৈরি করে ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১৮ সালে ঢাকার মহানগর বিশেষ জজ আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা দেন। বর্তমানে তিনি পলাতক।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. মিজানুর রশীদ। তিনি বলেন, বিভাগীয় মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং দুদকও তাকে অব্যাহতি দিয়েছে।

এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম। তিনি জানান, মিজানুর রশীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান এখনো চলমান এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি কমিশন থেকে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সফটওয়্যার কেনা, অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিভাগীয় মামলার তথ্য চাওয়া হয়। গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট তথ্য দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদের কাছে পৌছেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

যাকে নিয়ে চলছে দুদকের তদন্ত, তিনিই পেলেন বিমানের বড় পদ

আপডেট সময় ০৯:২১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখে পড়েছিলেন মো. মিজানুর রশীদ। যদিও তিনি সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে দাবি করেন, তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে এসবের মাঝেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাকে প্রশাসন, মানবসম্পদ ও অর্থ বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় গত ৪ মার্চ মিজানুর রশীদকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিন আবার তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যা মহাব্যবস্থাপকের চেয়ে উচ্চপদ।

বিমানের কর্মকর্তাদের অনেকেই বলছেন, দুর্নীতির অভিযোগের মুখে থাকা একজন কর্মকর্তাকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় তারা বিস্মিত।

অভিযোগ রয়েছে, বিমানের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী পক্ষের তদবিরেই মিজানুর রশীদ এসব দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে একজন অবসরপ্রাপ্ত পরিচালকের নামও আলোচনায় এসেছে, যিনি নিজেকে একজন মন্ত্রীর আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দেন বলে বিমানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, মিজানুর রশীদের পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে বিমানের সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা এবং এক ভাইও বিমানে চাকরি করতেন। তার বড় ভাই মো. হারুন অর রশীদ ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতার (টিএ/ডিএ) ভুয়া ভাউচার তৈরি করে ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১৮ সালে ঢাকার মহানগর বিশেষ জজ আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা দেন। বর্তমানে তিনি পলাতক।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. মিজানুর রশীদ। তিনি বলেন, বিভাগীয় মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং দুদকও তাকে অব্যাহতি দিয়েছে।

এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম। তিনি জানান, মিজানুর রশীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান এখনো চলমান এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি কমিশন থেকে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সফটওয়্যার কেনা, অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিভাগীয় মামলার তথ্য চাওয়া হয়। গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট তথ্য দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদের কাছে পৌছেছে।