ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যাকে নিয়ে চলছে দুদকের তদন্ত, তিনিই পেলেন বিমানের বড় পদ প্রধান প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামের সিন্ডিকেটে জিম্মি নৌপথ গণপূর্তের লাইসেন্স শাখায় চলছে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের বরখাস্তকৃত প্রকৌশলী সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রটোকল অফিসার আমিনুর’র ক্ষমতার রাজত্ব চলছে গাড়িচালক এখন কোটিপতি, নেপথ্যে ভাই ছিলেন ‘উপদেষ্টার এপিএস’ ‘চেক ডেলিভারি’ কৌশলে বাজাজ মামুন চক্রের বিস্ময়কর উত্থান ! ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ: টাকা দিলেই তালিকার শীর্ষে ফরেনসিক অডিটে মিলল প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৩ হাজার ৮৮ কোটি টাকার দুর্নীতি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ
নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ জড়িত রয়েছে দালালের বিশাল সিন্ডিকেট

গণপূর্তের লাইসেন্স শাখায় চলছে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য

গণপূর্ত অধিদপ্তর এর বিষয়ে নানা অবৈধ কার্যক্রমসহ ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিত্যনৈমিতিক ব্যাপার। পূর্ত ভবনের ইট পাথর বালুকণা থেকে শুরু করে সকলেই যেন এই অবৈধ কাজ ও চক্রের সাথে জড়িত। এর ব্যতিক্রম হয়নি লাইসেন্স শাখার কাজকর্মে। অবৈধ পন্থায় ঘুষ বাণিজ্য, বিধি বহির্ভূত কার্যক্রমসহ নানা অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাইসেন্স শাখার বিরুদ্ধে। গণপূর্ত অধিদপ্তর লাইসেন্স শাখা যেন ঘুষ বাণিজ্যের নতুন সাম্রাজ্য। নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিলা ইসলাম (ওএন্ডএম) সহ বিশাল এক সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে লাইসেন্স শাখায়। অধিদপ্তরের বিধি-বিধান কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে চলছে নতুন ঠিকাদার লাইসেন্স প্রদান।

অনুসন্ধানে উঠে আসে,নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিলা ইসলাম (ওএন্ডএম) সহ উক্ত লাইসেন্স বাণিজ্যের সিন্ডিকেটে রয়েছে শিপন মিয়া-অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, মো: আল-আমিন- অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, মো: অহিদুল ইসলাম-উচ্চমান সহকারী ও মো: আমিনুল ইসলাম-(সুপার) গণপূর্ত অধিদপ্তর। এ ছাড়াও উল্লেখ্য যে, মোঃ হান্নান -অফিস সহায়ক (অবসর) ঢাকা গণপূর্ত জোন তিনি সাকিলা ইসলামের চাকরির শুরু থেকে অবৈধ লেনদেনের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন অদ্যাবধি পর্যন্ত। অবসরে  থেকেও গণপূর্ত অধিদপ্তরের এ লাইসেন্স শাখায় নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিলা ইসলামের ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন হান্নান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান সাকিলা ইসলামের বৈধ ও অবৈধ কাজের একমাত্র কারিগর মোঃ হান্নান। তথ্যে উঠে আসে , লাইসেন্সভেদে প্রতিটি কাজে ৫০হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। এ অবৈধ টাকা বন্টন প্রক্রিয়া নিয়ে যে তথ্য উঠে আসে আজকের সংবাদের হাতে তাতে জানা যায়, ঘুষের একটি  বড় অংশ যায়  নির্বাহী প্রকৌশলী (ওএন্ডএম) এর কাছে। বাকি টাকা সুপার,আল-আমিন, শিপন, অহিদুল ইসলামসহ সিন্ডিকেটের অন্যদের মধ্যে বন্টন হয়। অধিদপ্তরের ঘুষ বাণিজ্যের বাইরেও সাকিলা ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে  একাধিক অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ যা অধিদপ্তরের সুনাম ক্ষুন্ন করছে বলেই প্রতীয়মান হয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিধি বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই সিন্ডিকেটের হাত ধরে সাকিলা ইসলামসহ অনেকেই বনে গেছেন কোটিপতি । আজকের সংবাদের অনুসন্ধানে উঠে আসে, নির্বাহী প্রকৌশলী (ওএন্ডএম) সহ একটি সিন্ডিকেট মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঈদের ছুটির আগের দিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (সিভিল)/(সম্মিলিত) লাইসেন্স প্রদান করেছে। বিশেষ করে-১৫৬১ ও ১৫৬২ স্মারকে যে লাইসেন্স গুলো প্রদান করা হয়েছে ।বিধি মোতাবেক উক্ত লাইসেন্স গুলো নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের গঠিত কমিটি কর্তৃক সুপারিশ ও সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধাক প্রকৌশলী কর্তৃক অনুমোদন হওয়া কথা। কিন্তু  কোন এক অদৃশ্য শক্তি বা ক্ষমতা বলে অবৈধ ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে বলে জানা যায় । যা মাঠ পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর অনেকেই জানেন না। গত ১৩-১০-২০২৫ ইং তারিখ কাজী মোহাম্মদ ফিরোজ হাসান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী  গণপূর্ত অধিদপ্তর ঢাকা কর্তৃক স্বাক্ষরিত ৮৫২ স্বারকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২৫ এবং ২০২৬ সনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় আগ্রহী ঠিকাদার/ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবেদন ফি এক হাজার টাকা এবং অন্যান্য কাগজপত্রাদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ফরমের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র  সংশ্লিষ্ট নির্বাহী দপ্তরে জমা দিতে হবে। আবেদনের সকল তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে নির্বাহী প্রকৌশলী সহ  তিন সদস্য বিশিষ্ট  যাচাই-বাছাই কমিটি উক্ত আবেদনের পক্ষে  প্রস্তাব প্রেরণ করার কথা থাকলেও  তা করা হয়নি। সকল বিভাগ এবং জোনে  একই চিত্র ফুটে উঠেছে । অনুসন্ধানে উঠে আসে ,মানি রিসিট টেম্পারিং, নির্দিষ্ট সময়ের পরেও  আবেদন জমা নেয়া,নির্দিষ্ট কোম্পানির প্যাডে লাইসেন্স শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাক্ষর  না থাকা, মাঠ পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সুপারিশ ব্যাতিরেকে অবৈধ পন্থায় দেওয়া হচ্ছে নতুন ঠিকাদারি লাইসেন্স ।মাঠ পর্যায়ে একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় উপরে উল্লেখিত ব্যক্তি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টাকা না দিলে লাইসেন্স পাওয়ার সম্ভব নয়। টাকা ছাড়া কোন লাইসেন্স  গণপূর্ত অধিদপ্তরে করা সম্ভব নয় বলেও জানান কর্মচারীরা।

একাধিক সূত্রে উঠে আসে, লাইসেন্স শাখার চেয়ার টেবিল থেকে শুরু করে সকলকেই ঘুষ  দিয়ে কাজ করাতে হয়। ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়ন সহ নতুন  লাইসেন্সের বেলায় লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ দিতে হচ্ছে শাখাকে। গত ২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন  শাখার প্রায় তিন হাজার নতুন লাইসেন্সের আবেদন জমা হয়। এই আবেদন কে কেন্দ্র করে টাকার অংকের ভিত্তিতে নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে দরকষাকষির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে নতুন ঠিকাদারি  লাইসেন্স।

একাধিক ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে পোস্টিং নিয়েছেন এই শাখায়। জানা যায় লাইসেন্স শাখায় এক বছর কাজ করলেই হয়ে যাচ্ছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। উক্ত শাখার অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা  রাজধানী ঢাকাসহ নিজ এলাকায় আয় বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তথ্য আরো উঠে আসে এই অবৈধ কার্যক্রমের জন্য কিছু কিছু কর্মচারী গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনস্থ বিভিন্ন নির্বাহী অফিসের সিল অবৈধভাবে বানিয়ে স্বাক্ষর জাল করে এই অভিনব পদ্ধতিতে চালাচ্ছে অবৈধ কার্যক্রম। উপরে উর্লেখিত সংবাদের সকল তথ্য প্রমান সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও দৃশ্যত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রতিবিদনে আনীত অভিযোগের বিষয়ে অনেকের সাথেমোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। অনেক কর্মচারী ফোন ধরেছেন এবং এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যাকে নিয়ে চলছে দুদকের তদন্ত, তিনিই পেলেন বিমানের বড় পদ

নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ জড়িত রয়েছে দালালের বিশাল সিন্ডিকেট

গণপূর্তের লাইসেন্স শাখায় চলছে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য

আপডেট সময় ০৯:০৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

গণপূর্ত অধিদপ্তর এর বিষয়ে নানা অবৈধ কার্যক্রমসহ ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিত্যনৈমিতিক ব্যাপার। পূর্ত ভবনের ইট পাথর বালুকণা থেকে শুরু করে সকলেই যেন এই অবৈধ কাজ ও চক্রের সাথে জড়িত। এর ব্যতিক্রম হয়নি লাইসেন্স শাখার কাজকর্মে। অবৈধ পন্থায় ঘুষ বাণিজ্য, বিধি বহির্ভূত কার্যক্রমসহ নানা অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাইসেন্স শাখার বিরুদ্ধে। গণপূর্ত অধিদপ্তর লাইসেন্স শাখা যেন ঘুষ বাণিজ্যের নতুন সাম্রাজ্য। নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিলা ইসলাম (ওএন্ডএম) সহ বিশাল এক সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে লাইসেন্স শাখায়। অধিদপ্তরের বিধি-বিধান কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে চলছে নতুন ঠিকাদার লাইসেন্স প্রদান।

অনুসন্ধানে উঠে আসে,নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিলা ইসলাম (ওএন্ডএম) সহ উক্ত লাইসেন্স বাণিজ্যের সিন্ডিকেটে রয়েছে শিপন মিয়া-অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, মো: আল-আমিন- অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, মো: অহিদুল ইসলাম-উচ্চমান সহকারী ও মো: আমিনুল ইসলাম-(সুপার) গণপূর্ত অধিদপ্তর। এ ছাড়াও উল্লেখ্য যে, মোঃ হান্নান -অফিস সহায়ক (অবসর) ঢাকা গণপূর্ত জোন তিনি সাকিলা ইসলামের চাকরির শুরু থেকে অবৈধ লেনদেনের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন অদ্যাবধি পর্যন্ত। অবসরে  থেকেও গণপূর্ত অধিদপ্তরের এ লাইসেন্স শাখায় নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিলা ইসলামের ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন হান্নান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান সাকিলা ইসলামের বৈধ ও অবৈধ কাজের একমাত্র কারিগর মোঃ হান্নান। তথ্যে উঠে আসে , লাইসেন্সভেদে প্রতিটি কাজে ৫০হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। এ অবৈধ টাকা বন্টন প্রক্রিয়া নিয়ে যে তথ্য উঠে আসে আজকের সংবাদের হাতে তাতে জানা যায়, ঘুষের একটি  বড় অংশ যায়  নির্বাহী প্রকৌশলী (ওএন্ডএম) এর কাছে। বাকি টাকা সুপার,আল-আমিন, শিপন, অহিদুল ইসলামসহ সিন্ডিকেটের অন্যদের মধ্যে বন্টন হয়। অধিদপ্তরের ঘুষ বাণিজ্যের বাইরেও সাকিলা ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে  একাধিক অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ যা অধিদপ্তরের সুনাম ক্ষুন্ন করছে বলেই প্রতীয়মান হয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিধি বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই সিন্ডিকেটের হাত ধরে সাকিলা ইসলামসহ অনেকেই বনে গেছেন কোটিপতি । আজকের সংবাদের অনুসন্ধানে উঠে আসে, নির্বাহী প্রকৌশলী (ওএন্ডএম) সহ একটি সিন্ডিকেট মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঈদের ছুটির আগের দিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (সিভিল)/(সম্মিলিত) লাইসেন্স প্রদান করেছে। বিশেষ করে-১৫৬১ ও ১৫৬২ স্মারকে যে লাইসেন্স গুলো প্রদান করা হয়েছে ।বিধি মোতাবেক উক্ত লাইসেন্স গুলো নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের গঠিত কমিটি কর্তৃক সুপারিশ ও সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধাক প্রকৌশলী কর্তৃক অনুমোদন হওয়া কথা। কিন্তু  কোন এক অদৃশ্য শক্তি বা ক্ষমতা বলে অবৈধ ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে বলে জানা যায় । যা মাঠ পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর অনেকেই জানেন না। গত ১৩-১০-২০২৫ ইং তারিখ কাজী মোহাম্মদ ফিরোজ হাসান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী  গণপূর্ত অধিদপ্তর ঢাকা কর্তৃক স্বাক্ষরিত ৮৫২ স্বারকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২৫ এবং ২০২৬ সনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় আগ্রহী ঠিকাদার/ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবেদন ফি এক হাজার টাকা এবং অন্যান্য কাগজপত্রাদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ফরমের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র  সংশ্লিষ্ট নির্বাহী দপ্তরে জমা দিতে হবে। আবেদনের সকল তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে নির্বাহী প্রকৌশলী সহ  তিন সদস্য বিশিষ্ট  যাচাই-বাছাই কমিটি উক্ত আবেদনের পক্ষে  প্রস্তাব প্রেরণ করার কথা থাকলেও  তা করা হয়নি। সকল বিভাগ এবং জোনে  একই চিত্র ফুটে উঠেছে । অনুসন্ধানে উঠে আসে ,মানি রিসিট টেম্পারিং, নির্দিষ্ট সময়ের পরেও  আবেদন জমা নেয়া,নির্দিষ্ট কোম্পানির প্যাডে লাইসেন্স শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাক্ষর  না থাকা, মাঠ পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সুপারিশ ব্যাতিরেকে অবৈধ পন্থায় দেওয়া হচ্ছে নতুন ঠিকাদারি লাইসেন্স ।মাঠ পর্যায়ে একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় উপরে উল্লেখিত ব্যক্তি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টাকা না দিলে লাইসেন্স পাওয়ার সম্ভব নয়। টাকা ছাড়া কোন লাইসেন্স  গণপূর্ত অধিদপ্তরে করা সম্ভব নয় বলেও জানান কর্মচারীরা।

একাধিক সূত্রে উঠে আসে, লাইসেন্স শাখার চেয়ার টেবিল থেকে শুরু করে সকলকেই ঘুষ  দিয়ে কাজ করাতে হয়। ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়ন সহ নতুন  লাইসেন্সের বেলায় লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ দিতে হচ্ছে শাখাকে। গত ২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন  শাখার প্রায় তিন হাজার নতুন লাইসেন্সের আবেদন জমা হয়। এই আবেদন কে কেন্দ্র করে টাকার অংকের ভিত্তিতে নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে দরকষাকষির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে নতুন ঠিকাদারি  লাইসেন্স।

একাধিক ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে পোস্টিং নিয়েছেন এই শাখায়। জানা যায় লাইসেন্স শাখায় এক বছর কাজ করলেই হয়ে যাচ্ছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। উক্ত শাখার অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা  রাজধানী ঢাকাসহ নিজ এলাকায় আয় বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তথ্য আরো উঠে আসে এই অবৈধ কার্যক্রমের জন্য কিছু কিছু কর্মচারী গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনস্থ বিভিন্ন নির্বাহী অফিসের সিল অবৈধভাবে বানিয়ে স্বাক্ষর জাল করে এই অভিনব পদ্ধতিতে চালাচ্ছে অবৈধ কার্যক্রম। উপরে উর্লেখিত সংবাদের সকল তথ্য প্রমান সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও দৃশ্যত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রতিবিদনে আনীত অভিযোগের বিষয়ে অনেকের সাথেমোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। অনেক কর্মচারী ফোন ধরেছেন এবং এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন।