ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বরগুনার আমতলীতে বস্তাবন্দি মরদেহ সনাক্ত, স্কুলছাত্র হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন ​ব্রাহ্মণপাড়ায় ১০ কেজি গাঁজাসহ কারবারি গ্রেপ্তার ইউজিসির ৪ সদস্য ও সচিব এর সাথে পবিপ্রবির ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার এর সৌজন্য সাক্ষাৎ ভালোবাসার সম্পর্কের পর বিয়ে, অনাগত সন্তানের বাবা কারাগারে-পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ম্যানেজ করে আবারও মাঠে মিঠু সিন্ডিকেট! কাজী জেসিনের নিয়োগে আইনি জটিলতা, সংশোধন করবে সরকার মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর! হত্যা মামলার আসামি ও সাময়িক বরখাস্ত মহিউদ্দীন ববি সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে প্রাণহানি ১, আহত ৪

পতেঙ্গা মাঝিরপাড়ায় অননুমোদিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগ!

চট্টগ্রাম মহানগরের পতেঙ্গা মাঝিরপাড়া এলাকায় একটি আইসক্রিম কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের পাশেই অবস্থিত ‘এইচ আর ফুড পার্ক’ নামের এই কারখানাটি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, কারখানাটিতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের কোনো বালাই নেই এবং নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার করে আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ—বিশেষ করে শিশুদের জন্য।

অভিযোগ অনুযায়ী, কারখানাটির কোনো BSTI সনদ, ট্রেড লাইসেন্স বা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। তবুও উৎপাদিত আইসক্রিম চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় বাজারজাত করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কারখানার ভেতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি করা হয়। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নোংরা এবং স্বাস্থ্যবিধির কোনো মানদণ্ড মানা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো. জামালের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তার সব ধরনের কাগজপত্র রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে এবং তাদেরকে নিয়মিত অর্থ প্রদান করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসক্রিম তৈরিতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করলে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং অনুমোদনসাপেক্ষ।

খাদ্য নিরাপত্তা আইন, ২০১৩ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী—অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে জরিমানা, কারাদণ্ড এবং প্রতিষ্ঠান সিলগালা করার বিধান রয়েছে।

চট্টগ্রাম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই কার্যক্রম বন্ধ করা যায়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

পতেঙ্গা মাঝিরপাড়ায় অননুমোদিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগ!

আপডেট সময় ০১:৫২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগরের পতেঙ্গা মাঝিরপাড়া এলাকায় একটি আইসক্রিম কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের পাশেই অবস্থিত ‘এইচ আর ফুড পার্ক’ নামের এই কারখানাটি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, কারখানাটিতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের কোনো বালাই নেই এবং নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার করে আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ—বিশেষ করে শিশুদের জন্য।

অভিযোগ অনুযায়ী, কারখানাটির কোনো BSTI সনদ, ট্রেড লাইসেন্স বা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। তবুও উৎপাদিত আইসক্রিম চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় বাজারজাত করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কারখানার ভেতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি করা হয়। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নোংরা এবং স্বাস্থ্যবিধির কোনো মানদণ্ড মানা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো. জামালের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তার সব ধরনের কাগজপত্র রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে এবং তাদেরকে নিয়মিত অর্থ প্রদান করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসক্রিম তৈরিতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করলে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং অনুমোদনসাপেক্ষ।

খাদ্য নিরাপত্তা আইন, ২০১৩ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী—অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে জরিমানা, কারাদণ্ড এবং প্রতিষ্ঠান সিলগালা করার বিধান রয়েছে।

চট্টগ্রাম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই কার্যক্রম বন্ধ করা যায়।