ঢাকা ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যাকে নিয়ে চলছে দুদকের তদন্ত, তিনিই পেলেন বিমানের বড় পদ প্রধান প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামের সিন্ডিকেটে জিম্মি নৌপথ গণপূর্তের লাইসেন্স শাখায় চলছে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের বরখাস্তকৃত প্রকৌশলী সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রটোকল অফিসার আমিনুর’র ক্ষমতার রাজত্ব চলছে গাড়িচালক এখন কোটিপতি, নেপথ্যে ভাই ছিলেন ‘উপদেষ্টার এপিএস’ ‘চেক ডেলিভারি’ কৌশলে বাজাজ মামুন চক্রের বিস্ময়কর উত্থান ! ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ: টাকা দিলেই তালিকার শীর্ষে ফরেনসিক অডিটে মিলল প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৩ হাজার ৮৮ কোটি টাকার দুর্নীতি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

তেল বরাদ্দে অনিয়ম, যমুনার এজিএম (সেলস) সাময়িক বরখাস্ত

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ফতুল্লা ডিপো হতে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির এজিএম (সেলস) সৈয়দ সফিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে৷ যদিও তাকে রক্ষা করতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো: আমির মাসুদের বিরুদ্ধে ছলচাতুরীর অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অবশেষে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়েছেন । দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে এক অফিস আদেশে সফিকুর রহমানকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন এমডি, এমনকি তিনি অনেকটা সফলও হয়েছিলেন৷ তবে বিষয়টি বিপিসির নজরে আসলে দুই দিনের মধ্যে আরেকটি অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত বাধ্য হয় আমির মাসুদ৷ দুটোই চিঠিই দপ্তরে এসেছে ।

৫ এপ্রিল ২০২৬ এমডি প্রকৌশলী আমির মাসুদের স্বাক্ষরিত প্রথম চিঠির অফিস আদেশে বলা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নারায়নগঞ্জ সদর, এস এম ফয়েজ উদ্দিন এবং পরিচালক ( উপসচিব) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো দ্বয়ের ০৪/০৪/২০২৬ তারিখের স্বাক্ষরিত বিশেষ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সচিব, বিপিসি মহোদয়ের ০৫/০৪/২০২৬ এর বিশেষ নির্দেশনা মোতাবেক যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের এজিএম ( সেলস) সৈয়দ সফিকুর রহমানকে তার উপর অর্পিত এজিএম (সেলস) ঢাকা বিভাগীয় অফিস এর দায়িত্ব হতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো৷ এদিকে খোাজ নিয়ে জানা গেছে বিপিসির নির্দেশনা ছিল তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার, কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে আমির মাসুদ তাকে অব্যাহতি দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। তবে বিষয়টি বিপিসি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজরে আসলে ফের আরেকটি অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ।

এদিকে ৭ এপ্রিল প্রকৌশলী আমির মাসুদ স্বাক্ষরিত আরেকটি অফিস আদেশে বলা হয়, মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল পরিচালক ( উপসচিব) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো এবং নারায়নগঞ্জ সদর নির্বাহী অফিসার সাক্ষরিত ০৪/০৪/২০২৬ তারিখের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে, যমুনা ডিপো পরিদর্শনকালে রেজিস্ট্রার, বরাদ্দ পত্র ও চালান যাচাই বাছাইয়ে প্রতিময়মান হয় যে, এজিএম ( সেলস) সফিকুর রহমানের হোয়াটসএ্যাপ বার্তা এবং বিভিন্ন ফোনকলের মাধ্যমে বিভিন্ন ফিলিং ষ্টেশনে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করা হয়েছে৷ এই আদেশে কয়েকটি সিএনজি স্টেশনের নামও উল্লেখ করেছে। আগামী দশ কার্যদিবসের মধ্যে এজিএম সেলসকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে, পাশাপাশি সেই আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথাও বলা হয়েছে৷ বিষয়টি নিয়ে আমির মাসুদের সাথে যোগাযোগ করতে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি৷ এদিকে সাপ্তা খানিক আগে অবৈধ ভাবে তেল মজুদের অভিযোগে মোংলা ডিপোর ইনচার্জ আল-আমীন খানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ।

প্রতিষ্ঠানটির জিএম মার্কেটিং মাসুদুল ইসলামের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহোযোগিতায় যমুনা অয়েলে তেল নয় ছয়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু বরখাস্ত হয় চুনোপুটিরা, বহাল তবিয়তে থেকে যায় মাসুদুল ইসলামের মতো ক্ষমতাধর কর্মকর্তারা৷

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যাকে নিয়ে চলছে দুদকের তদন্ত, তিনিই পেলেন বিমানের বড় পদ

তেল বরাদ্দে অনিয়ম, যমুনার এজিএম (সেলস) সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট সময় ০৮:৪৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ফতুল্লা ডিপো হতে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির এজিএম (সেলস) সৈয়দ সফিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে৷ যদিও তাকে রক্ষা করতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো: আমির মাসুদের বিরুদ্ধে ছলচাতুরীর অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অবশেষে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়েছেন । দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে এক অফিস আদেশে সফিকুর রহমানকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন এমডি, এমনকি তিনি অনেকটা সফলও হয়েছিলেন৷ তবে বিষয়টি বিপিসির নজরে আসলে দুই দিনের মধ্যে আরেকটি অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত বাধ্য হয় আমির মাসুদ৷ দুটোই চিঠিই দপ্তরে এসেছে ।

৫ এপ্রিল ২০২৬ এমডি প্রকৌশলী আমির মাসুদের স্বাক্ষরিত প্রথম চিঠির অফিস আদেশে বলা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নারায়নগঞ্জ সদর, এস এম ফয়েজ উদ্দিন এবং পরিচালক ( উপসচিব) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো দ্বয়ের ০৪/০৪/২০২৬ তারিখের স্বাক্ষরিত বিশেষ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সচিব, বিপিসি মহোদয়ের ০৫/০৪/২০২৬ এর বিশেষ নির্দেশনা মোতাবেক যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের এজিএম ( সেলস) সৈয়দ সফিকুর রহমানকে তার উপর অর্পিত এজিএম (সেলস) ঢাকা বিভাগীয় অফিস এর দায়িত্ব হতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো৷ এদিকে খোাজ নিয়ে জানা গেছে বিপিসির নির্দেশনা ছিল তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার, কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে আমির মাসুদ তাকে অব্যাহতি দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। তবে বিষয়টি বিপিসি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজরে আসলে ফের আরেকটি অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ।

এদিকে ৭ এপ্রিল প্রকৌশলী আমির মাসুদ স্বাক্ষরিত আরেকটি অফিস আদেশে বলা হয়, মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল পরিচালক ( উপসচিব) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো এবং নারায়নগঞ্জ সদর নির্বাহী অফিসার সাক্ষরিত ০৪/০৪/২০২৬ তারিখের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে, যমুনা ডিপো পরিদর্শনকালে রেজিস্ট্রার, বরাদ্দ পত্র ও চালান যাচাই বাছাইয়ে প্রতিময়মান হয় যে, এজিএম ( সেলস) সফিকুর রহমানের হোয়াটসএ্যাপ বার্তা এবং বিভিন্ন ফোনকলের মাধ্যমে বিভিন্ন ফিলিং ষ্টেশনে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করা হয়েছে৷ এই আদেশে কয়েকটি সিএনজি স্টেশনের নামও উল্লেখ করেছে। আগামী দশ কার্যদিবসের মধ্যে এজিএম সেলসকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে, পাশাপাশি সেই আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথাও বলা হয়েছে৷ বিষয়টি নিয়ে আমির মাসুদের সাথে যোগাযোগ করতে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি৷ এদিকে সাপ্তা খানিক আগে অবৈধ ভাবে তেল মজুদের অভিযোগে মোংলা ডিপোর ইনচার্জ আল-আমীন খানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ।

প্রতিষ্ঠানটির জিএম মার্কেটিং মাসুদুল ইসলামের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহোযোগিতায় যমুনা অয়েলে তেল নয় ছয়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু বরখাস্ত হয় চুনোপুটিরা, বহাল তবিয়তে থেকে যায় মাসুদুল ইসলামের মতো ক্ষমতাধর কর্মকর্তারা৷