সংবাদ শিরোনাম ::
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী আড়াল ভেঙে ফিরছেন বুবলী মাদক কারবারিদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এলাকাবাসী ‘আমার সঙ্গী তো আর্জেন্টিনারই’ স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে রোনালদোর রসিকতা জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৩ গ্রামের সংঘর্ষ খেলা শেষ, খোদা হাফেজ : মাহফুজ আলম

১ মাসের ভুলও ঢাকায়! এনআইডি সংশোধনে অসহায় দেশের মানুষ

মৌলভীবাজার জেলাসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা নির্বাচন অফিসে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আশায় ছুটে আসছেন। কেউ নাম পরিবর্তন, কেউ বা বয়স সংশোধনের আবেদন নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন—এই ধরনের সংশোধনের কাজ এখন আর উপজেলা বা জেলা পর্যায়ে করা সম্ভব নয়; এর জন্য ঢাকার নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পূর্বে বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সংশোধন ‘ক’ ক্যাটেগরিতে পড়ে উপজেলা পর্যায়ে সম্পন্ন হতো এবং ১ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত সংশোধন জেলা পর্যায়ে করা যেত। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন সামান্য—এমনকি ১ মাস বয়স সংশোধনের আবেদনও ‘ঢাকা ঘ’ ক্যাটেগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সব ধরনের সংশোধন কার্যক্রম এখন কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

এই নিয়মটি নির্বাচনের আগে প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেকেই ঢাকা যাওয়াকে ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য মনে করছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষদের জন্য এটি এক ধরনের অতিরিক্ত চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন—আগের নিয়মে ফিরে গিয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়েই এনআইডি সংশোধনের কার্যক্রম চালু করা হোক। এতে জনগণের সময়, অর্থ ও দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হচ্ছে—জনসেবার স্বার্থে দ্রুত এই জটিলতা নিরসন করে আগের ন্যায় সহজ ও বিকেন্দ্রীকৃত পদ্ধতিতে এনআইডি সংশোধনের সুযোগ পুনর্বহাল করা হোক। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে, যা একটি জনবান্ধব প্রশাসনের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

১ মাসের ভুলও ঢাকায়! এনআইডি সংশোধনে অসহায় দেশের মানুষ

আপডেট সময় ০৯:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলাসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা নির্বাচন অফিসে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আশায় ছুটে আসছেন। কেউ নাম পরিবর্তন, কেউ বা বয়স সংশোধনের আবেদন নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন—এই ধরনের সংশোধনের কাজ এখন আর উপজেলা বা জেলা পর্যায়ে করা সম্ভব নয়; এর জন্য ঢাকার নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পূর্বে বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সংশোধন ‘ক’ ক্যাটেগরিতে পড়ে উপজেলা পর্যায়ে সম্পন্ন হতো এবং ১ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত সংশোধন জেলা পর্যায়ে করা যেত। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন সামান্য—এমনকি ১ মাস বয়স সংশোধনের আবেদনও ‘ঢাকা ঘ’ ক্যাটেগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সব ধরনের সংশোধন কার্যক্রম এখন কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

এই নিয়মটি নির্বাচনের আগে প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেকেই ঢাকা যাওয়াকে ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য মনে করছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষদের জন্য এটি এক ধরনের অতিরিক্ত চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন—আগের নিয়মে ফিরে গিয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়েই এনআইডি সংশোধনের কার্যক্রম চালু করা হোক। এতে জনগণের সময়, অর্থ ও দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হচ্ছে—জনসেবার স্বার্থে দ্রুত এই জটিলতা নিরসন করে আগের ন্যায় সহজ ও বিকেন্দ্রীকৃত পদ্ধতিতে এনআইডি সংশোধনের সুযোগ পুনর্বহাল করা হোক। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে, যা একটি জনবান্ধব প্রশাসনের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।