ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী অনেককেই এখন চেনেন না ইলিয়াস কাঞ্চন, মনেও রাখতে পারেন না কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার গুনাহ মাফ হবে: জামায়াত আমির  তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে : তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর ‘সাংবাদিকের লেখায় কিছু যায় আসে না!’ বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেতন-টিএ-ডিএ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শরীয়তপুরে কু’প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদে নি’র্যা’তন, গ্রে’প্তার ২ কুমিল্লায় মোহনা টেলিভিশন অফিসে লুট: দুই আসামি গ্রেপ্তার সোনামসজিদ বন্দরে অবকাঠামো সংকট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, সরকারের দৃষ্টি কামনা” আব্দুল ওয়াহেদর

রাজউক এর ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোমিনের সম্পদের পাহাড়

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আলোচনা যেন থামছেই না। একের পর একের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে। একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। বলছি রাজউকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মচারী ডাটা এন্ট্রি অপরেটর আব্দুল মোমিনের কথা। রাজউকের এই কর্মচারী ভাদাইল মৌজার হোসেন প্লাজার পূর্ব পাশের দেড় বিঘা জমি কিনে টিনশেড করে ভাড়া দিয়েছেন। প্রতি মাসে লাখ টাকা নিচ্ছেন।

এছাড়া আব্দুল মোমিন এবং তার স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে শত শত কোটি টাকা জমা আছে। আরো জানা গেছে, মান্ডা মদিনা টাওয়ারের পাশে সাততলা ভবন নির্মাণ করছেন তিনি। মতিঝিলের জসিম উদ্দিন রোডে ১৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কিনেছেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এই বিষয়ে দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, এটির তদন্ত এখনো চলমান আছে, শেষ হয়নি। শুধু রাজউকের আব্দুল মমিন সাহেব নন, তার মতো আরো একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। তারাও অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। আমরা অচিরেই তাদের ধরব। একটি কথা মনে রাখবেন, সরকারি চাকরি মানে জনগণের সেবক। আর সেই সেবা দেয়ার নামে যারা নিজেদের সুবিধা নিচ্ছেন, দুদক বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। জনগণকে সেবা দেয়াই হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ।

রাজউকে চাকরি করার কারণে সবার সাথেই আব্দুল মোমিনের একটি ভালো সম্পর্ক হয়েছে। সম্প্রতি পূর্বাচলে জনৈক এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৭৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। ২০২০-২১ সালে নিজের (মোমিন) অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ লাখ টাকা ওঠানো হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডাটা এন্ট্রি অপরেটর আব্দুল মোমিন রাজউকের কাজে ফাঁকি দিয়ে বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া অর্থের বিনিময়ে প্ল্যান পাস, প্লট হস্তান্তর, প্লট বিক্রির দালালি, আবাসিক ভবনকে অনাবাসিক বা বাণিজ্যে রূপান্তর ইত্যাদি কাজ চুক্তির মাধ্যমে করে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) একাধিক কর্মকর্তা জানান, তার নামে (আব্দুল মোমিন) কোনো সম্পত্তিই রাখেন না। যা আছে সবকিছুই তার আত্মীয়স্বজনের নামে রাখেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও আব্দুল মোমিনকে পাওয়া যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজউক এর ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোমিনের সম্পদের পাহাড়

আপডেট সময় ০২:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আলোচনা যেন থামছেই না। একের পর একের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে। একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। বলছি রাজউকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মচারী ডাটা এন্ট্রি অপরেটর আব্দুল মোমিনের কথা। রাজউকের এই কর্মচারী ভাদাইল মৌজার হোসেন প্লাজার পূর্ব পাশের দেড় বিঘা জমি কিনে টিনশেড করে ভাড়া দিয়েছেন। প্রতি মাসে লাখ টাকা নিচ্ছেন।

এছাড়া আব্দুল মোমিন এবং তার স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে শত শত কোটি টাকা জমা আছে। আরো জানা গেছে, মান্ডা মদিনা টাওয়ারের পাশে সাততলা ভবন নির্মাণ করছেন তিনি। মতিঝিলের জসিম উদ্দিন রোডে ১৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কিনেছেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এই বিষয়ে দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, এটির তদন্ত এখনো চলমান আছে, শেষ হয়নি। শুধু রাজউকের আব্দুল মমিন সাহেব নন, তার মতো আরো একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। তারাও অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। আমরা অচিরেই তাদের ধরব। একটি কথা মনে রাখবেন, সরকারি চাকরি মানে জনগণের সেবক। আর সেই সেবা দেয়ার নামে যারা নিজেদের সুবিধা নিচ্ছেন, দুদক বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। জনগণকে সেবা দেয়াই হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ।

রাজউকে চাকরি করার কারণে সবার সাথেই আব্দুল মোমিনের একটি ভালো সম্পর্ক হয়েছে। সম্প্রতি পূর্বাচলে জনৈক এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৭৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। ২০২০-২১ সালে নিজের (মোমিন) অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ লাখ টাকা ওঠানো হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডাটা এন্ট্রি অপরেটর আব্দুল মোমিন রাজউকের কাজে ফাঁকি দিয়ে বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া অর্থের বিনিময়ে প্ল্যান পাস, প্লট হস্তান্তর, প্লট বিক্রির দালালি, আবাসিক ভবনকে অনাবাসিক বা বাণিজ্যে রূপান্তর ইত্যাদি কাজ চুক্তির মাধ্যমে করে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) একাধিক কর্মকর্তা জানান, তার নামে (আব্দুল মোমিন) কোনো সম্পত্তিই রাখেন না। যা আছে সবকিছুই তার আত্মীয়স্বজনের নামে রাখেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও আব্দুল মোমিনকে পাওয়া যায়নি।