ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির ৯টি প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের দেবীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা; ১১ দিনে ২৩ জনের জেল লি‌বিয়ার সঙ্গে যৌথ ব্যবসায়িক ফোরাম গঠনের প্রস্তাব বাংলাদেশের যুদ্ধের কারণে ঢাকা থেকে ৯৭২ ফ্লাইট বাতিল ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নোটিশ ‘কলকাতায় হামলা চালাবে পাকিস্তান, প্রধানমন্ত্রী চুপ কেন?’ তোপ মমতার ফেনীতে যমুনা টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দুপুরিয়া গ্রামে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আকবরশাহ থানার অভিযানে চোরাই মালসহ এক চোর গ্রেফতার আকবরশাহ থানার অভিযানে ২০ লিটার চোলাই মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

আত্রাইয়ে ‘স্নেহা দই’ ও মাঠার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে: স্বাবলম্বী হওয়ার অনন্য উদাহরণ শফিকুল

নওগাঁর আত্রাইয়ে নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন শফিকুল ইসলাম। তার প্রতিষ্ঠিত কারখানায় উৎপাদিত ‘স্নেহা দই’ ও ঘোল (মাঠা) বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মানসম্মত ও সুস্বাদু হওয়ায় এই দই ও মাঠার চাহিদা এখন আত্রাইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে নওগাঁ, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে।
​অনুসন্ধানে জানা যায়, আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন ভরতেঁতুলিয়া এলাকায় স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছোট পরিসরে দই তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন বেকার যুবক শফিকুল ইসলাম। তিনি উপজেলার বিহারীপুর গ্রামের মরহুম মজিবর রহমানের ছেলে। মূলত তার বাবা একজন সফল হোটেল ব্যবসায়ী ছিলেন, যার হাত ধরে ছোটবেলা থেকেই এই ব্যবসার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। বাবার সেই অভিজ্ঞতার সাথে নিজের আধুনিক চিন্তাধারা মিশিয়ে তিনি আজ একজন সফল ব্যবসায়ী।
​সরেজমিনে দেখা যায়, দই তৈরির পাশাপাশি শফিকুল ইসলাম একটি উন্নত জাতের দুগ্ধ খামারও গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার খামারে ৭টি উন্নত জাতের গাভী রয়েছে, যার প্রতিটি গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লিটার দুধ দেয়। খামারের এই টাটকা দুধ দিয়েই তৈরি হয় স্নেহা দই, ঘি ও মাঠা। এছাড়া তিনি সেখানে উন্নত জাতের ছাগল, দেশি ও চিনা হাঁস এবং মুরগির খামারও গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার খামারে শতাধিক মুরগি ও হাঁস রয়েছে।
​ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে শফিকুল ইসলাম পরিবেশ বান্ধব কৃষির প্রসারে গরুর গোবর ব্যবহার করে তৈরি করছেন ‘কেঁচো সার’ বা ভার্মিকম্পোস্ট। প্রতিদিন প্রায় ১ টন সার উৎপাদন হচ্ছে এই খামারে, যা ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে তিনি বাড়তি আয় করছেন। এতে একদিকে যেমন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা পাচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকরা সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত মানের জৈব সার পাচ্ছেন।
​শফিকুল ইসলামের এই বহুমুখী উদ্যোগে কেবল তিনি নিজেই স্বাবলম্বী হননি, বরং সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থানের। তার কারখানা ও খামারে বর্তমানে ৭-৮টি পরিবারের মানুষ নিয়মিত কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার তৈরি পণ্য এখন আত্রাইয়ের চাহিদা মিটিয়ে রাণীনগর, সিংড়া ও রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে।
​এ বিষয়ে উদ্যোক্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, বেকারত্ব ঘুচিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আমি কাজ শুরু করেছিলাম। প্রতিটি বেকার যুবক যদি সঠিক কর্মউদ্যোগ গ্রহণ করে এবং ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করে, তবে কাউকেই বেকারত্বের অভিশাপ বয়ে বেড়াতে হবে না। ​তার এই অভাবনীয় সাফল্য এখন এলাকার অন্য যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির ৯টি প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের

আত্রাইয়ে ‘স্নেহা দই’ ও মাঠার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে: স্বাবলম্বী হওয়ার অনন্য উদাহরণ শফিকুল

আপডেট সময় ০৩:০৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁর আত্রাইয়ে নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন শফিকুল ইসলাম। তার প্রতিষ্ঠিত কারখানায় উৎপাদিত ‘স্নেহা দই’ ও ঘোল (মাঠা) বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মানসম্মত ও সুস্বাদু হওয়ায় এই দই ও মাঠার চাহিদা এখন আত্রাইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে নওগাঁ, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে।
​অনুসন্ধানে জানা যায়, আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন ভরতেঁতুলিয়া এলাকায় স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছোট পরিসরে দই তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন বেকার যুবক শফিকুল ইসলাম। তিনি উপজেলার বিহারীপুর গ্রামের মরহুম মজিবর রহমানের ছেলে। মূলত তার বাবা একজন সফল হোটেল ব্যবসায়ী ছিলেন, যার হাত ধরে ছোটবেলা থেকেই এই ব্যবসার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। বাবার সেই অভিজ্ঞতার সাথে নিজের আধুনিক চিন্তাধারা মিশিয়ে তিনি আজ একজন সফল ব্যবসায়ী।
​সরেজমিনে দেখা যায়, দই তৈরির পাশাপাশি শফিকুল ইসলাম একটি উন্নত জাতের দুগ্ধ খামারও গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার খামারে ৭টি উন্নত জাতের গাভী রয়েছে, যার প্রতিটি গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লিটার দুধ দেয়। খামারের এই টাটকা দুধ দিয়েই তৈরি হয় স্নেহা দই, ঘি ও মাঠা। এছাড়া তিনি সেখানে উন্নত জাতের ছাগল, দেশি ও চিনা হাঁস এবং মুরগির খামারও গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার খামারে শতাধিক মুরগি ও হাঁস রয়েছে।
​ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে শফিকুল ইসলাম পরিবেশ বান্ধব কৃষির প্রসারে গরুর গোবর ব্যবহার করে তৈরি করছেন ‘কেঁচো সার’ বা ভার্মিকম্পোস্ট। প্রতিদিন প্রায় ১ টন সার উৎপাদন হচ্ছে এই খামারে, যা ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে তিনি বাড়তি আয় করছেন। এতে একদিকে যেমন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা পাচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকরা সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত মানের জৈব সার পাচ্ছেন।
​শফিকুল ইসলামের এই বহুমুখী উদ্যোগে কেবল তিনি নিজেই স্বাবলম্বী হননি, বরং সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থানের। তার কারখানা ও খামারে বর্তমানে ৭-৮টি পরিবারের মানুষ নিয়মিত কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার তৈরি পণ্য এখন আত্রাইয়ের চাহিদা মিটিয়ে রাণীনগর, সিংড়া ও রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে।
​এ বিষয়ে উদ্যোক্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, বেকারত্ব ঘুচিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আমি কাজ শুরু করেছিলাম। প্রতিটি বেকার যুবক যদি সঠিক কর্মউদ্যোগ গ্রহণ করে এবং ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করে, তবে কাউকেই বেকারত্বের অভিশাপ বয়ে বেড়াতে হবে না। ​তার এই অভাবনীয় সাফল্য এখন এলাকার অন্য যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।