ঢাকা ০৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোববার থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন ১০টা থেকে ২টা হামদর্দের নতুন পণ্য আমরূপালি কালোজিরা ম্যাংগো বার এবং আমরূপালি সুইট ম্যাংগো বারের লঞ্চিং অনুষ্ঠিত।  গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায় সরকার ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা ধামরাইয়ে ব্যাটারি কারখানায় ডাকাতি: মালামালসহ গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্পমেয়াদী ও উচ্চ ফলনশীল  ‘জিএইউ ধান ৪’ ধানের জাত উদ্ভাবন স্ত্রীকে মৃত দেখিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে ২০০ গ্রাম হেরোইন সহ গ্রেপ্তার ১ জন  কমলনগরে শ্রেষ্ঠ আলেম হিসাবে সম্মাননা পেলেন, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন রামগঞ্জে ভস্মিভূত দিনমজুরের বসতঘর

কুড়িগ্রামে গোপন নিলামের অভিযোগ: ২১টির বদলে কাটা হয়েছে ২৮টি গাছ

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় প্রকাশ্য নিলামের ঘোষণা থাকলেও গোপনে সরকারি গাছ বিক্রি এবং নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস চত্বরে।
নিলাম বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন, পার্কিং ও রাস্তা নির্মাণের জন্য অফিস চত্বরে থাকা ১৭টি মেহগনি ও ১টি কাঁঠালসহ ছোট-বড় মোট ২১টি গাছ কেটে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে গত ৫ মার্চ প্রকাশ্য নিলামের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিলাম কমিটির সভাপতি ছিলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সদস্য সচিব ছিলেন এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম। ২১টি গাছের নিলাম ডাক মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১ হাজার ৪১০ টাকা এবং ১৫ মার্চ ইউনিয়ন ভূমি অফিস চত্বরে নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত দিনে সেখানে কোনো নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানান আগ্রহীরা। অভিযোগ রয়েছে, পরে কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই গোপনে সদর উপজেলা ভূমি অফিসে বেনামে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। মাত্র তিনজন অংশগ্রহণকারী দেখিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার টাকায় নিলাম সম্পন্ন দেখানো হয়।
এদিকে, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত নুর আলম বলেন, তিনি নিলামে উপস্থিত ছিলেন না এবং কবে, কোথায় নিলাম হয়েছে তা তিনি জানেন না। তাঁর ভাষ্য, “আমি নিলামে অংশ নিইনি। শুনেছি, আমার নামে আমার মামা অংশ নিয়েছিলেন।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিলামে ২১টি গাছ বিক্রি দেখানো হলেও বাস্তবে ঈদের ছুটির সুযোগে ২৮টি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। গাছ কাটার সময় ভূমি অফিসের কোনো কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানা গেছে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তবে সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুল জালাল বলেন, বন বিভাগ ২১টি গাছ চিহ্নিত করলেও লে-আউটের প্রয়োজনের কারণে ১ থেকে ২টি গাছ বেশি কাটা হয়েছে এবং তা এসিল্যান্ডের অনুমতি নিয়েই করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাদেকুল ইসলাম মিলন বলেন, “বিজ্ঞপ্তিতে এক জায়গায় নিলামের কথা বলা হলেও গোপনে অন্য জায়গায় তা সম্পন্ন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অনিয়ম।” আশরাফুল হক অভিযোগ করেন, “তিন লাখাধিক টাকার গাছ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।” কাঁঠালবাড়ী বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বলেন, “২১টি গাছের নিলাম ডেকে ২৮টি কাটা হয়েছে—এটি বড় ধরনের দুর্নীতি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম বলেন, নিলাম প্রক্রিয়া সঠিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে নিলাম ডাক হয়েছে। কেউ প্রতিনিধি পাঠালে তা যাচাই করা কঠিন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অতিরিক্ত গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে নিলাম কমিটির সভাপতি ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন ছুটিতে থাকায় তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোববার থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন ১০টা থেকে ২টা

কুড়িগ্রামে গোপন নিলামের অভিযোগ: ২১টির বদলে কাটা হয়েছে ২৮টি গাছ

আপডেট সময় ০১:৩৬:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় প্রকাশ্য নিলামের ঘোষণা থাকলেও গোপনে সরকারি গাছ বিক্রি এবং নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস চত্বরে।
নিলাম বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন, পার্কিং ও রাস্তা নির্মাণের জন্য অফিস চত্বরে থাকা ১৭টি মেহগনি ও ১টি কাঁঠালসহ ছোট-বড় মোট ২১টি গাছ কেটে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে গত ৫ মার্চ প্রকাশ্য নিলামের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিলাম কমিটির সভাপতি ছিলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সদস্য সচিব ছিলেন এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম। ২১টি গাছের নিলাম ডাক মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১ হাজার ৪১০ টাকা এবং ১৫ মার্চ ইউনিয়ন ভূমি অফিস চত্বরে নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত দিনে সেখানে কোনো নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানান আগ্রহীরা। অভিযোগ রয়েছে, পরে কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই গোপনে সদর উপজেলা ভূমি অফিসে বেনামে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। মাত্র তিনজন অংশগ্রহণকারী দেখিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার টাকায় নিলাম সম্পন্ন দেখানো হয়।
এদিকে, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত নুর আলম বলেন, তিনি নিলামে উপস্থিত ছিলেন না এবং কবে, কোথায় নিলাম হয়েছে তা তিনি জানেন না। তাঁর ভাষ্য, “আমি নিলামে অংশ নিইনি। শুনেছি, আমার নামে আমার মামা অংশ নিয়েছিলেন।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিলামে ২১টি গাছ বিক্রি দেখানো হলেও বাস্তবে ঈদের ছুটির সুযোগে ২৮টি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। গাছ কাটার সময় ভূমি অফিসের কোনো কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানা গেছে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তবে সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুল জালাল বলেন, বন বিভাগ ২১টি গাছ চিহ্নিত করলেও লে-আউটের প্রয়োজনের কারণে ১ থেকে ২টি গাছ বেশি কাটা হয়েছে এবং তা এসিল্যান্ডের অনুমতি নিয়েই করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাদেকুল ইসলাম মিলন বলেন, “বিজ্ঞপ্তিতে এক জায়গায় নিলামের কথা বলা হলেও গোপনে অন্য জায়গায় তা সম্পন্ন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অনিয়ম।” আশরাফুল হক অভিযোগ করেন, “তিন লাখাধিক টাকার গাছ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।” কাঁঠালবাড়ী বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বলেন, “২১টি গাছের নিলাম ডেকে ২৮টি কাটা হয়েছে—এটি বড় ধরনের দুর্নীতি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম বলেন, নিলাম প্রক্রিয়া সঠিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে নিলাম ডাক হয়েছে। কেউ প্রতিনিধি পাঠালে তা যাচাই করা কঠিন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অতিরিক্ত গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে নিলাম কমিটির সভাপতি ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন ছুটিতে থাকায় তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।