পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত বনের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় যেখানে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের অতন্দ্র প্রহরী হওয়ার কথা, সেখানে রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে শতবর্ষী প্রাচীন মাতৃবৃক্ষ উজাড়ের এক ভয়াবহ মহোৎসবে মেতে উঠেছেন খাগড়াছড়ির ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের জামতলী বন শুল্ক ও পরীক্ষণ ফাঁড়ির বিতর্কিত স্টেশন কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার মোঃ তমিজ উদ্দিন।
বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার এবং বন মন্ত্রণালয়ে পিআরএল-এ থাকা প্রভাবশালী ভাই রমিজ উদ্দিনের ছত্রছায়ায় তমিজ উদ্দিন দীর্ঘকাল ধরে বন বিভাগকে নিজের ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন। তৎকালীন বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার যে দীর্ঘ ইতিহাস তার রয়েছে, তা খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা হয়ে কুমিল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত।
২০১৯ সালে রামগড় চেক স্টেশন থেকে শুরু করে পানছড়ি রেঞ্জ এবং পরবর্তীতে ঢাকার বন অঞ্চলে মাত্র আট মাস অবস্থান করেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কুমিল্লায় বদলি হওয়া—এই প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল তার পরিকল্পিত ও প্রভাবপুষ্ট। এছাড়াও পুনরায় ২০২৫ সালে বর্তমানে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যাওয়ার আগে অবশিষ্ট ১০ মাস সময়কে তিনি পাহাড়ের সম্পদ লুটের শেষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এই সময়ে তিনি অতীতের চেয়েও আরও বেশি হিংস্র ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
নিয়মনীতি বা আইনি বাধ্যবাধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তার একমাত্র লক্ষ্য এখন অবৈধ অর্থ উপার্জন, যার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ ও ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের অধীনস্থ নাড়াইছড়ি, বাঘাইহাট, মেরুং, উল্টাছড়ি এবং হাজাছড়ি রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে। অত্যন্ত চতুরতার সাথে জামতলী চেক স্টেশনটি দখলে নিয়ে তিনি রাতের আঁধারে অদৃশ্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মদদে এবং নাড়াইছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা জাহেদ হোসেন ও বাঘাইহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আক্তারুজ্জামানের প্রত্যক্ষ সহায়তায় পাচারকারী সিন্ডিকেটের সাথে গড়ে তুলেছেন এক দুর্ভেদ্য নেটওয়ার্ক।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য যে, ট্রাক প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে তমিজ উদ্দিন সংরক্ষিত বনের শতবর্ষী বৃক্ষভর্তি গাড়িগুলোকে নির্বিঘ্নে পার হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। এই দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ মিলেছে গত ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে, যখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দিঘীনালা জোন বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ কাঠবোঝাই তিনটি ট্রাক জব্দ করে মামলা দায়ের করে।
জানা গেছে, তমিজ উদ্দিন এই তিনটি ট্রাককেও লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে ‘লাইন’ দিয়ে পাচারের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এই অসাধু কর্মকর্তার কারণে একদিকে যেমন দেশের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। তমিজ উদ্দিনের মতো চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও বন খেকো কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অপসারণসহ তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং কঠোর আইনগত শাস্তি নিশ্চিত করতে দিঘীনালা উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এখন রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, কারণ এই সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের বুক থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে শতবর্ষী এসব অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ
সংবাদ শিরোনাম ::
পিআরএলকে সামনে রেখে সংরক্ষিত বন উজাড়ে বেপরোয়া দুর্নীতি অভিযোগ উঠেছে
খাগড়াছড়িতে শতবর্ষী মাতৃবৃক্ষ পাচারের মহোৎসবে মেতেছে জামতলী চেক স্টেশন কর্মকর্তা তমিজ উদ্দিন
-
মোঃ মামুন হোসেন - আপডেট সময় ০১:১৪:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
- ৫১৪ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ





















