ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামদর্দের নতুন পণ্য আমরূপালি কালোজিরা ম্যাংগো বার এবং আমরূপালি সুইট ম্যাংগো বারের লঞ্চিং অনুষ্ঠিত।  গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায় সরকার ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা ধামরাইয়ে ব্যাটারি কারখানায় ডাকাতি: মালামালসহ গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্পমেয়াদী ও উচ্চ ফলনশীল  ‘জিএইউ ধান ৪’ ধানের জাত উদ্ভাবন স্ত্রীকে মৃত দেখিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে ২০০ গ্রাম হেরোইন সহ গ্রেপ্তার ১ জন  কমলনগরে শ্রেষ্ঠ আলেম হিসাবে সম্মাননা পেলেন, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন রামগঞ্জে ভস্মিভূত দিনমজুরের বসতঘর কুঞ্জেরহাটে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ময়লা অপসারণ শুরু : ২ হাজার শিক্ষার্থীর মুখে স্বস্তির হাসি

বন কর্মকর্তা দেলোয়ার ও আবিরের বিরুদ্ধে সরকারি কাঠ পাচারে মাসে অর্ধ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে

দক্ষিণ চট্টগ্রামে অবৈধ কাঠ পাচার এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সংগঠিত ও নিয়মিত ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আসবাবপত্র তৈরির পাশাপাশি এবার নির্বিচারে এই কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ বনবিভাগের কতিপয় কর্মকর্তার অনৈতিক সহায়তায় চকরিয়া, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ এলাকার বহু ইটভাটায় বনের কাঠই প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সূত্রমতে, চুনতি রেঞ্জসহ দুইটি রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনকে একটি মৌসুমের জন্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করেছেন কাঠ পাচারকারী ও ইটভাটা মালিকদের একটি সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, চুনতি রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা রেঞ্জ অফিসার আবির হোসেন এই সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে প্রতিদিন শতশত ট্রাক কাঠ চকরিয়া, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বিভিন্ন ইটভাটায় প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে।
পদুয়া ফরেস্ট চেক স্টেশন থাকলেও সেটি কার্যত ‘আইওয়াশে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বন উজাড় করে কাঠ পাচার ঠেকাতে চেক স্টেশনটি কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী এই জনপদের সব বনাঞ্চলে গাছ কাটা, জোত বিক্রি ও পারমিট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে রেঞ্জ অফিসার আবির হোসেন ও সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন এই অবৈধ পাচারে সহযোগিতা করে আসছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের চুনতি রেঞ্জের ফরেস্ট চেক স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার কাঠ অবাধে পাচার হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, রেঞ্জ অফিসার, চেক স্টেশনের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেটের যোগসাজশে দিনরাত এই কার্যক্রম চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কাঠ পাচারে দৈনিক অবৈধ লেনদেনের পরিমাণ প্রায় এক লাখ টাকা, যা মাসে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, মাসিক ‘মাসোহারার’ বিনিময়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।
চুনতি চেক পোস্ট দিয়ে প্রতিদিন বাঁশ, গাছ, কাঠ ও ফার্নিচার বোঝাই অন্তত অর্ধশতাধিক যানবাহন চলাচল করে বলে জানা গেছে। এসব যানবাহন পার করতে গাড়ি প্রতি এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পদুয়া রেঞ্জের আওতাধীন এলাকার ফার্নিচার দোকান সমিতি থেকেও প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে চুনতি রেঞ্জ অফিসার আবির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন দুর্নীতিতে জড়িত কি না—এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, এই আবির হোসেনকেই সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন দুর্নীতির ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ পেলেও, রহস্যজনকভাবে চুনতি রেঞ্জ অফিসার আবির হোসেন বরাবরই আড়ালে থেকে যান বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে পাঠানো ক্ষুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন একই সঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সদর ও একাধিক রেঞ্জের দায়িত্বে থাকায় তার জন্য অনিয়ম করা সহজ হয়েছে বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বিভাগের এক কর্মকর্তা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হামদর্দের নতুন পণ্য আমরূপালি কালোজিরা ম্যাংগো বার এবং আমরূপালি সুইট ম্যাংগো বারের লঞ্চিং অনুষ্ঠিত। 

বন কর্মকর্তা দেলোয়ার ও আবিরের বিরুদ্ধে সরকারি কাঠ পাচারে মাসে অর্ধ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে

আপডেট সময় ০১:৩১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

দক্ষিণ চট্টগ্রামে অবৈধ কাঠ পাচার এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সংগঠিত ও নিয়মিত ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আসবাবপত্র তৈরির পাশাপাশি এবার নির্বিচারে এই কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ বনবিভাগের কতিপয় কর্মকর্তার অনৈতিক সহায়তায় চকরিয়া, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ এলাকার বহু ইটভাটায় বনের কাঠই প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সূত্রমতে, চুনতি রেঞ্জসহ দুইটি রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনকে একটি মৌসুমের জন্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করেছেন কাঠ পাচারকারী ও ইটভাটা মালিকদের একটি সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, চুনতি রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা রেঞ্জ অফিসার আবির হোসেন এই সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে প্রতিদিন শতশত ট্রাক কাঠ চকরিয়া, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বিভিন্ন ইটভাটায় প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে।
পদুয়া ফরেস্ট চেক স্টেশন থাকলেও সেটি কার্যত ‘আইওয়াশে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বন উজাড় করে কাঠ পাচার ঠেকাতে চেক স্টেশনটি কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী এই জনপদের সব বনাঞ্চলে গাছ কাটা, জোত বিক্রি ও পারমিট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে রেঞ্জ অফিসার আবির হোসেন ও সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন এই অবৈধ পাচারে সহযোগিতা করে আসছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের চুনতি রেঞ্জের ফরেস্ট চেক স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার কাঠ অবাধে পাচার হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, রেঞ্জ অফিসার, চেক স্টেশনের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেটের যোগসাজশে দিনরাত এই কার্যক্রম চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কাঠ পাচারে দৈনিক অবৈধ লেনদেনের পরিমাণ প্রায় এক লাখ টাকা, যা মাসে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, মাসিক ‘মাসোহারার’ বিনিময়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।
চুনতি চেক পোস্ট দিয়ে প্রতিদিন বাঁশ, গাছ, কাঠ ও ফার্নিচার বোঝাই অন্তত অর্ধশতাধিক যানবাহন চলাচল করে বলে জানা গেছে। এসব যানবাহন পার করতে গাড়ি প্রতি এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পদুয়া রেঞ্জের আওতাধীন এলাকার ফার্নিচার দোকান সমিতি থেকেও প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে চুনতি রেঞ্জ অফিসার আবির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন দুর্নীতিতে জড়িত কি না—এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, এই আবির হোসেনকেই সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন দুর্নীতির ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ পেলেও, রহস্যজনকভাবে চুনতি রেঞ্জ অফিসার আবির হোসেন বরাবরই আড়ালে থেকে যান বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে পাঠানো ক্ষুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন একই সঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সদর ও একাধিক রেঞ্জের দায়িত্বে থাকায় তার জন্য অনিয়ম করা সহজ হয়েছে বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বিভাগের এক কর্মকর্তা।