ঢাকা ০৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মেসি বনাম সালাহ: লড়াই নাকি অসহায় আত্মসমর্পণ? ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে মাঠেই নাচ বেলজিয়াম ফুটবলারদের পানির নিচে রেললাইন, আটকে আছে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রামেবির জাওয়াদুল হক শ্বেতহস্তী কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে অপচয় ও অনিয়মের অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জে অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ অতিবৃষ্টিতে সড়কে উপড়ে পড়া গাছ অপসারণে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রির দায়ে জরিমানা গুনল আগোরা এমবাপেকে বর্ণবাদী আক্রমণ প্যারাগুয়ে সিনেটরের, আইনি ব্যবস্থা নেবে ফ্রান্স সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি, গলে যাচ্ছে রাস্তার পিচ

তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি চুয়াডাঙ্গার জনজীবনকে অস্থির করে তুলেছে। এক লাফে তাপমাত্রা বেড়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ, যা গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগে গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হঠাৎ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও মোটরসাইকেল চালকরা। বিশেষ করে জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এদিকে তীব্র গরমে সড়কের পিচ গলে উঠে যেতে দেখা গেছে। শহরে পৌরসভার সামনে এই চিত্র দেখা গেছে।

চুয়াডাঙ্গা শহরের মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, এই গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর। মাথা ঘুরে যায়। তেল নিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এর মধ্যে গরমে শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে।

আরেক চালক সুমন হোসেন বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য যেমন কষ্ট, তার ওপর এই গরম— দুটো মিলে অবস্থা খুব খারাপ।

শুধু চালকরাই নয়, দিনমজুরদের অবস্থাও করুণ হয়ে উঠেছে। তীব্র রোদে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

দিনমজুর আব্দুল মালেক বলেন, রোদ এত বেশি যে কাজ করতে পারি না ঠিকমতো। তবুও পেটের দায়ে কাজ করতে হচ্ছে। দুপুরের রোদে শরীর জ্বলতে থাকে।

আরেক দিনমজুর হাবিবুর রহমান বলেন, এই গরমে কাজ করা খুব কষ্ট। একটু পরপরই বিশ্রাম নিতে হয়। কিন্তু বেশি বিশ্রাম নিলে আয় কমে যায়, তাই বাধ্য হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি অতিক্রম করেছে। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসি বনাম সালাহ: লড়াই নাকি অসহায় আত্মসমর্পণ?

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি, গলে যাচ্ছে রাস্তার পিচ

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি চুয়াডাঙ্গার জনজীবনকে অস্থির করে তুলেছে। এক লাফে তাপমাত্রা বেড়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ, যা গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগে গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হঠাৎ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও মোটরসাইকেল চালকরা। বিশেষ করে জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এদিকে তীব্র গরমে সড়কের পিচ গলে উঠে যেতে দেখা গেছে। শহরে পৌরসভার সামনে এই চিত্র দেখা গেছে।

চুয়াডাঙ্গা শহরের মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, এই গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর। মাথা ঘুরে যায়। তেল নিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এর মধ্যে গরমে শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে।

আরেক চালক সুমন হোসেন বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য যেমন কষ্ট, তার ওপর এই গরম— দুটো মিলে অবস্থা খুব খারাপ।

শুধু চালকরাই নয়, দিনমজুরদের অবস্থাও করুণ হয়ে উঠেছে। তীব্র রোদে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

দিনমজুর আব্দুল মালেক বলেন, রোদ এত বেশি যে কাজ করতে পারি না ঠিকমতো। তবুও পেটের দায়ে কাজ করতে হচ্ছে। দুপুরের রোদে শরীর জ্বলতে থাকে।

আরেক দিনমজুর হাবিবুর রহমান বলেন, এই গরমে কাজ করা খুব কষ্ট। একটু পরপরই বিশ্রাম নিতে হয়। কিন্তু বেশি বিশ্রাম নিলে আয় কমে যায়, তাই বাধ্য হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি অতিক্রম করেছে। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।