ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজস্ব বাড়াতে তামাক খাতে নতুন কর কাঠামোর আভাস এনবিআর চেয়ারম্যানের

রাজস্ব বাড়াতে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সচেতনতা বাড়াতে একই সঙ্গে চোরাচালানকৃত ও জাল স্ট্যাম্প জব্দ করে জনসমক্ষে ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে এনবিআরের সম্মেলনকক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

এদিন অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ সংগঠনের নেতারা ৩৭টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের দেশে তামাকের দাম আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় কম। সে কারণেই আমরা চেষ্টা করব এখান থেকে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য ও নতুন করে কোনো কর কাঠামো করা যায় কি না। এত দিন পর্যন্ত চারটা লেয়ারে (স্তর) দাম নির্ধারিত ছিল, সেটাকে পুনর্বিন্যাস করার চিন্তা করছি।’

তিনি আরও বলেন, বিড়ি এবং গুলে ব্যাপক রাজস্ব ফাঁকি হয়। বিড়ি শ্রমিকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই খাতকে যৌক্তিক করতে গেলেই নানা প্রতিবন্ধকতা আসে। এ ক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

আবদুর রহমান খান বলেন, তামাক ও বিড়িতে প্রতিবছরই অ্যাডজাস্টমেন্ট করা হয়। বিড়িতে কর কাঠামো যৌক্তিক করার কাজ চলছে। ট্যাক্স বাড়লে জাল-জালিয়াতি বাড়ে– এমন ধারণা থাকলেও কম ট্যাক্সেও জালিয়াতি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এনবিআর এখন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিগারেটের প্যাকেটের স্ট্যাম্প যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, শিগগিরই সিগারেটে কিউআর কোড চালু করা হবে। স্ট্যাম্প জালিয়াতির কারণে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নকল রোধে আমরা কিউআর কোড ব্যবহার করব। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ হিসেবে কাজে লাগানো হবে। কেউ নকল কিছু পেয়ে অ্যাপের মাধ্যমে জানালে তাঁকে পুরস্কৃত করা হবে। আমরা এভাবে ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ মেকানিজম নিয়ে কাজ করতে চাই।”

তিনি আরও জানান, নিয়মিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এনবিআর এখন থেকে জব্দকৃত জাল সিগারেট গণমাধ্যম ও জনসমক্ষে ধ্বংস করবে, যাতে জনসচেতনতা তৈরি হয়। তামাক ও বিড়িতে এবারও দাম বাড়িয়ে এবং কর কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজস্ব বাড়াতে তামাক খাতে নতুন কর কাঠামোর আভাস এনবিআর চেয়ারম্যানের

আপডেট সময় ০৯:০০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

রাজস্ব বাড়াতে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সচেতনতা বাড়াতে একই সঙ্গে চোরাচালানকৃত ও জাল স্ট্যাম্প জব্দ করে জনসমক্ষে ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে এনবিআরের সম্মেলনকক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

এদিন অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ সংগঠনের নেতারা ৩৭টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের দেশে তামাকের দাম আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় কম। সে কারণেই আমরা চেষ্টা করব এখান থেকে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য ও নতুন করে কোনো কর কাঠামো করা যায় কি না। এত দিন পর্যন্ত চারটা লেয়ারে (স্তর) দাম নির্ধারিত ছিল, সেটাকে পুনর্বিন্যাস করার চিন্তা করছি।’

তিনি আরও বলেন, বিড়ি এবং গুলে ব্যাপক রাজস্ব ফাঁকি হয়। বিড়ি শ্রমিকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই খাতকে যৌক্তিক করতে গেলেই নানা প্রতিবন্ধকতা আসে। এ ক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

আবদুর রহমান খান বলেন, তামাক ও বিড়িতে প্রতিবছরই অ্যাডজাস্টমেন্ট করা হয়। বিড়িতে কর কাঠামো যৌক্তিক করার কাজ চলছে। ট্যাক্স বাড়লে জাল-জালিয়াতি বাড়ে– এমন ধারণা থাকলেও কম ট্যাক্সেও জালিয়াতি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এনবিআর এখন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিগারেটের প্যাকেটের স্ট্যাম্প যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, শিগগিরই সিগারেটে কিউআর কোড চালু করা হবে। স্ট্যাম্প জালিয়াতির কারণে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নকল রোধে আমরা কিউআর কোড ব্যবহার করব। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ হিসেবে কাজে লাগানো হবে। কেউ নকল কিছু পেয়ে অ্যাপের মাধ্যমে জানালে তাঁকে পুরস্কৃত করা হবে। আমরা এভাবে ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ মেকানিজম নিয়ে কাজ করতে চাই।”

তিনি আরও জানান, নিয়মিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এনবিআর এখন থেকে জব্দকৃত জাল সিগারেট গণমাধ্যম ও জনসমক্ষে ধ্বংস করবে, যাতে জনসচেতনতা তৈরি হয়। তামাক ও বিড়িতে এবারও দাম বাড়িয়ে এবং কর কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।