ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপূর্তের অজেয় সিন্ডিকেট প্রধান লতিফুল

স্বৈরাচার হাসিনা পালালেও তা দোসররা রয়ে গেছে ধরাছোয়ার বাহিরে রয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুর্নীতির এক অবিশ্বাস্য সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ধূসর বা দোসর হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা ক্ষমতার পালাবদলের পরও নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘদিন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তিনি দুর্নীতির পাহাড় গড়েছেন। যার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে প্রমোশন ও পোস্টিং বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে তিনি তত্বাবধায়ক পদে প্রমোশন বাগিয়ে নিয়েছেন এবং বর্তমানে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং নিশ্চিত করেছেন। এ সংক্রন্ত একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লতিফুল ইসলাম শেরেবাংলা নগরে কর্মরত থাকাকালীন ওই জোনকে নিজের ব্যক্তিগত ‘জমিদারি’তে পরিণত করেছিলেন। সংসদ ভবন এলাকা, সচিবালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের শত শত কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৫ আগস্টের পর অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা পলাতক থাকলেও লতিফুল ইসলাম তার অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে নীতিনির্ধারক মহলে প্রভাব বিস্তার করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট দোসর হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে তিনি তদন্ত ছাড়াই প্রমোশন পান, তা প্রশাসনের সততাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের একজন বলেন, “আমরা যখন মেধা ও সততার ভিত্তিতে প্রশাসন সংস্কারের লড়াই করছি, তখন লতিফুল ইসলামের মতো বিতর্কিত কর্মকর্তারা কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে প্রমোশন কিনে নিচ্ছেন। শেরেবাংলা নগরে তিনি যে সিন্ডিকেট চালিয়েছেন, এখন চট্টগ্রামে গিয়েও একই কাজ শুরু করেছেন। এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।”
অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত সতর্কভাবে প্রতিক্রিয়া জানান। প্রধান প্রকৌশলী বলেন, শেরেবাংলা নগরে থাকাকালীন তার আমলের প্রকল্পগুলোর অডিট রিপোর্ট আমরা খতিয়ে দেখছি। পোস্টিং বা প্রমোশনের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়, তবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধান প্রকৌশলীর এই আশ্বাসে অবশ্য সাধারণ প্রকৌশলীরা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাদের দাবি, তদন্তের নাম করে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে যাতে লতিফুল ইসলাম চট্টগ্রামে তার শিকড় গেড়ে বসতে পারেন।
এদিকে, লতিফুলের প্রমোশন ও পোস্টিং নিয়ে সচিবালয় পাড়ায় তোলপাড় চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এই বদলির পেছনে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক চক্র কাজ করেছে যারা মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছে। চট্টগ্রামের স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যেও চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাদের মতে, লতিফুল ইসলামের মতো সিন্ডিকেট প্রধানরা এলাকায় এলে সাধারণ ও ছোট ঠিকাদাররা কোনো কাজ পাবেন না, বরং কাজগুলো তার পছন্দের সার্কেলে বন্দি হয়ে পড়বে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, লতিফুল ইসলামের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। দুদকের একজন উপ-পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “লতিফুলের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। শেরেবাংলা নগরের ফাইলগুলো আমাদের অনুসন্ধানে বড় ধরনের গরমিল নির্দেশ করছে।”
সর্বোপরি, লতিফুল ইসলামের এই ‘পোস্টিং বাণিজ্যের’ বিষয়টি এখন সরকারের স্বচ্ছতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের সৎ কর্মকর্তারা দাবি তুলেছেন—অবিলম্বে তার এই রহস্যজনক প্রমোশন বাতিল করতে হবে এবং চট্টগ্রামে তার কার্যক্রম স্থগিত করে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। লতিফুল ইসলামের মতো ‘আলাদিনের চেরাগ পাওয়া কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে প্রশাসনে দুর্নীতি দমন করা কখনোই সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে দুদকে দায়েরকৃত অভিযোগের কপি থেকে জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে লতিফুল ইসলাম অনিয়ম ও ঘুষের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংস্কারকাজে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে টেন্ডারের গোপন দর ফাঁস এবং অতিরিক্ত মূল্যে মালামাল কেনার মাধ্যমে তিনি সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছেন। অধীনস্থ কর্মকর্তাদের জোরপূর্বক প্রাক্কলনে সই করাতে বাধ্য করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগ রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা দমনে আর্থিক সহায়তা ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপূর্তের অজেয় সিন্ডিকেট প্রধান লতিফুল

আপডেট সময় ০৭:০৪:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

স্বৈরাচার হাসিনা পালালেও তা দোসররা রয়ে গেছে ধরাছোয়ার বাহিরে রয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুর্নীতির এক অবিশ্বাস্য সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ধূসর বা দোসর হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা ক্ষমতার পালাবদলের পরও নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘদিন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তিনি দুর্নীতির পাহাড় গড়েছেন। যার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে প্রমোশন ও পোস্টিং বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে তিনি তত্বাবধায়ক পদে প্রমোশন বাগিয়ে নিয়েছেন এবং বর্তমানে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং নিশ্চিত করেছেন। এ সংক্রন্ত একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লতিফুল ইসলাম শেরেবাংলা নগরে কর্মরত থাকাকালীন ওই জোনকে নিজের ব্যক্তিগত ‘জমিদারি’তে পরিণত করেছিলেন। সংসদ ভবন এলাকা, সচিবালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের শত শত কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৫ আগস্টের পর অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা পলাতক থাকলেও লতিফুল ইসলাম তার অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে নীতিনির্ধারক মহলে প্রভাব বিস্তার করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট দোসর হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে তিনি তদন্ত ছাড়াই প্রমোশন পান, তা প্রশাসনের সততাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের একজন বলেন, “আমরা যখন মেধা ও সততার ভিত্তিতে প্রশাসন সংস্কারের লড়াই করছি, তখন লতিফুল ইসলামের মতো বিতর্কিত কর্মকর্তারা কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে প্রমোশন কিনে নিচ্ছেন। শেরেবাংলা নগরে তিনি যে সিন্ডিকেট চালিয়েছেন, এখন চট্টগ্রামে গিয়েও একই কাজ শুরু করেছেন। এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।”
অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত সতর্কভাবে প্রতিক্রিয়া জানান। প্রধান প্রকৌশলী বলেন, শেরেবাংলা নগরে থাকাকালীন তার আমলের প্রকল্পগুলোর অডিট রিপোর্ট আমরা খতিয়ে দেখছি। পোস্টিং বা প্রমোশনের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়, তবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধান প্রকৌশলীর এই আশ্বাসে অবশ্য সাধারণ প্রকৌশলীরা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাদের দাবি, তদন্তের নাম করে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে যাতে লতিফুল ইসলাম চট্টগ্রামে তার শিকড় গেড়ে বসতে পারেন।
এদিকে, লতিফুলের প্রমোশন ও পোস্টিং নিয়ে সচিবালয় পাড়ায় তোলপাড় চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এই বদলির পেছনে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক চক্র কাজ করেছে যারা মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছে। চট্টগ্রামের স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যেও চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাদের মতে, লতিফুল ইসলামের মতো সিন্ডিকেট প্রধানরা এলাকায় এলে সাধারণ ও ছোট ঠিকাদাররা কোনো কাজ পাবেন না, বরং কাজগুলো তার পছন্দের সার্কেলে বন্দি হয়ে পড়বে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, লতিফুল ইসলামের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। দুদকের একজন উপ-পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “লতিফুলের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। শেরেবাংলা নগরের ফাইলগুলো আমাদের অনুসন্ধানে বড় ধরনের গরমিল নির্দেশ করছে।”
সর্বোপরি, লতিফুল ইসলামের এই ‘পোস্টিং বাণিজ্যের’ বিষয়টি এখন সরকারের স্বচ্ছতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের সৎ কর্মকর্তারা দাবি তুলেছেন—অবিলম্বে তার এই রহস্যজনক প্রমোশন বাতিল করতে হবে এবং চট্টগ্রামে তার কার্যক্রম স্থগিত করে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। লতিফুল ইসলামের মতো ‘আলাদিনের চেরাগ পাওয়া কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে প্রশাসনে দুর্নীতি দমন করা কখনোই সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে দুদকে দায়েরকৃত অভিযোগের কপি থেকে জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে লতিফুল ইসলাম অনিয়ম ও ঘুষের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংস্কারকাজে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে টেন্ডারের গোপন দর ফাঁস এবং অতিরিক্ত মূল্যে মালামাল কেনার মাধ্যমে তিনি সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছেন। অধীনস্থ কর্মকর্তাদের জোরপূর্বক প্রাক্কলনে সই করাতে বাধ্য করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগ রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা দমনে আর্থিক সহায়তা ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।