ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ অনির্দিষ্টকালে জন্য বন্ধ ব্রাহ্মণপাড়ায় রহস্যজনক মৃত্যু: আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা? জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরও থামেনি প্যারাবন নিধন—প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে সরব জনমত মোহনপুরে কৃষক লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা জনস্বাস্থের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব:জেফরি এপস্টেইনের নতুন সংস্করণ ! যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ সরকারি রাস্তার বরাদ্দের ইট দিয়ে নিজ বাড়ির রাস্তা করলেন ইউপি সদস্য দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়ককে হাইওয়ে করার দাবি হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠানে প্রিয়াঙ্কাকে উপেক্ষা হলিউড তারকাদের, নানা বিতর্ক! কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম আটক

জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরও থামেনি প্যারাবন নিধন—প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে সরব জনমত

মহেশখালীর উপকূলীয় পরিবেশের প্রধান প্রতিরক্ষাব্যূহ ম্যানগ্রোভ ও প্যারাবন রক্ষায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অব্যাহতভাবে প্যারাবন নিধন চলছেই, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিদিনই ২ থেকে ৩টি স্কেভেটর দিয়ে প্যারাবন কেটে ফেলা হচ্ছে এবং সেই জায়গায় গড়ে তোলা হচ্ছে চিংড়ি ঘের। মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কিছু যন্ত্র জব্দ করলেও পরবর্তীতে আবারও একই কার্যক্রম দৃশ্যমান হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ নির্বাচনী ইশতিহারে প্যারাবন রক্ষার অঙ্গীকার করেছিলেন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে বলেন, একটি বাইন গাছ কাটলেও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত,এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
আমাদের এমপি মহোদয় জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর প্রয়োগ আমরা দেখছি না। প্রতিনিয়ত প্যারাবন কাটা হচ্ছে, পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা চাই দ্রুত এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হোক এবং মহেশখালী তার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পাক।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও তা নিয়ে রয়েছে জনমনে সংশয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন,
প্যারাবন নিধনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি। যারা অবৈধভাবে প্যারাবন কাটছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। খুব শিগগিরই ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হবে, যেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কোনো প্রভাবশালী মহল বা ব্যক্তি এই ক্ষেত্রে ছাড় পাবে না।
তিনি আরও বলেন,
“মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রশাসনিকভাবে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থাকবো। শুধু প্রতিরোধ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনরায় ম্যানগ্রোভ ও প্যারাবন গড়ে তুলা হবে।
পরিবেশবিদদের মতে, প্যারাবন ধ্বংস হলে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, বাড়বে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি। তাই অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মহেশখালীর পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের একটাই দাবি,ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নে কঠোরতা দেখিয়ে প্যারাবন নিধন চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ অনির্দিষ্টকালে জন্য বন্ধ

জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরও থামেনি প্যারাবন নিধন—প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে সরব জনমত

আপডেট সময় ০৮:৩২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

মহেশখালীর উপকূলীয় পরিবেশের প্রধান প্রতিরক্ষাব্যূহ ম্যানগ্রোভ ও প্যারাবন রক্ষায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অব্যাহতভাবে প্যারাবন নিধন চলছেই, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিদিনই ২ থেকে ৩টি স্কেভেটর দিয়ে প্যারাবন কেটে ফেলা হচ্ছে এবং সেই জায়গায় গড়ে তোলা হচ্ছে চিংড়ি ঘের। মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কিছু যন্ত্র জব্দ করলেও পরবর্তীতে আবারও একই কার্যক্রম দৃশ্যমান হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ নির্বাচনী ইশতিহারে প্যারাবন রক্ষার অঙ্গীকার করেছিলেন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে বলেন, একটি বাইন গাছ কাটলেও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত,এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
আমাদের এমপি মহোদয় জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর প্রয়োগ আমরা দেখছি না। প্রতিনিয়ত প্যারাবন কাটা হচ্ছে, পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা চাই দ্রুত এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হোক এবং মহেশখালী তার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পাক।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও তা নিয়ে রয়েছে জনমনে সংশয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন,
প্যারাবন নিধনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি। যারা অবৈধভাবে প্যারাবন কাটছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। খুব শিগগিরই ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হবে, যেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কোনো প্রভাবশালী মহল বা ব্যক্তি এই ক্ষেত্রে ছাড় পাবে না।
তিনি আরও বলেন,
“মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রশাসনিকভাবে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থাকবো। শুধু প্রতিরোধ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনরায় ম্যানগ্রোভ ও প্যারাবন গড়ে তুলা হবে।
পরিবেশবিদদের মতে, প্যারাবন ধ্বংস হলে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, বাড়বে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি। তাই অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মহেশখালীর পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের একটাই দাবি,ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নে কঠোরতা দেখিয়ে প্যারাবন নিধন চিরতরে বন্ধ করতে হবে।