অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার আগরওয়ালার ব্যাংক হিসাব, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার শেয়ার মালিকানা এবং কয়েকটি গাড়ির তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। দিলীপ কুমার আগরওয়ালা ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।
গত বছরের ৮ অক্টোবর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে তাকে ও তার স্ত্রী সবিতা আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
সম্প্রতি দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের পাঠানো একাধিক চিঠিতে এনআরবি, ইস্টার্ন, ঢাকা, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবের নথি চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের কাছে তার নামে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার সংক্রান্ত রেকর্ড এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও মালিকানার তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
দুদকের নথিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রাখা এবং মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ‘দুর্নীতি ও ঘুষ’ সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে।
মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা তার হিসাবের বিস্তারিত তথ্য, কেওয়াইসি, হিসাব খোলার আবেদনপত্র, জমা স্লিপ, চেক ও পে-অর্ডার এবং হিসাব খোলার তারিখ থেকে বর্তমান পর্যন্ত হালনাগাদ হিসাব বিবরণী চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের নিবন্ধকের কাছে পাঠানো চিঠিতে তার নামে থাকা শেয়ারের মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন, আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন, সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন এবং হালনাগাদ শেয়ার হস্তান্তর বা গ্রহণসংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেড, ডায়মন্ড বিডি লিমিটেড, মালাবার ডায়মন্ড লিমিটেড, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মিডিয়া লিমিটেড, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, কার্নিভ্যাল ক্রুজ লাইন লিমিটেড, অ্যালায়েন্স ট্রেড অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড, তারা দেবী শিপিং অ্যান্ড সি ট্রেড লিমিটেড, ডায়মন্ড সল্যুশন ওপিসি লিমিটেড, ব্ল্যাক স্টোন বাংলাদেশ লিমিটেড এবং মডার্ন গ্যাস বাংলাদেশ লিমিটেড।
পাশাপাশি তার নিবন্ধিত মোটরযানের তথ্যও চেয়েছে দুদক। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ কার্যালয়ের কাছে পাঠানো চিঠিতে চারটি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও মালিকানার তথ্য চাওয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























