ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আত্রাইয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের ‘করিম শরীফ’ বাহিনীর সদস্য আটক ডিএসসিসির প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জয়কে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ গোপালগঞ্জে অবৈধভাবে মজুদ ৩ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ বড়লেখায় বোরো আবাদে পানির তীব্র সংকট জয়পুরহাটে ৩২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, শত হেক্টর জমিতে জমেছে পানি বাগেরহাটে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১২ ফেনীতে টুইনসফ্টের প্রানবন্ত ইফতার ও ফ্রিল্যান্সিং সাফল্যগাথা হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি ফেনীতে টুইনসফ্টের প্রানবন্ত ইফতার ও ফ্রিল্যান্সিং সাফল্যগাথা

বনানীতে রনি-লিটনের বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশে সাংবাদিককে ‘চামড়া তুলে ফেলার’ হুমকি

রাজধানীর বনানী এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কমিটি দখল, চাঁদাবাজি, সরকারি খাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বনানী থানা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত মইনুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বনানী ১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লিটনের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল ও সংবাদকর্মীর চামড়া তুলে নিবে বলে হানিফ মাহমুদুল বি আইডি থেকে লিটনের বিশ্বস্ত কর্মী কর্মী হুমকি দেন। তথ্যসূত্র জানা যায়, মানুষকে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ ওদের বিরুদ্ধে।এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্র ও দলীয় একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে বনানী থানা যুবদলের নেতৃত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন মইনুল ইসলাম রনি। অভিযোগ রয়েছে, বনানী থানা বিএনপির আহ্বায়ক মনির বহিষ্কৃত হওয়ার পর দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও রহস্য জনকভাবে সেই দায়িত্ব চলে যায় রনির হাতে।এ যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দলের জন্য জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করা প্রকৃত কর্মীদের পাশ কাটিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র বনানীর রাজনীতিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই রনি এলাকায় তার প্রভাব বিস্তার আরও বাড়িয়ে দেন এবং বিভিন্ন জায়গায় দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে সরকারি খাল, দোকানপাট এবং বস্তি এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রভাব খাটিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে রনির ভাই জনির বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। মহাখালীর কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, জনি এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো নথি বা আদালতের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর রনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি তার ভাই জনির জামিন হওয়ার পর এলাকায় তাদের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বনানী মহিলা দলের এক নেত্রীর দোকান এবং বস্তি এলাকায় একটি সার্ভিসিং সেন্টার দখলের অভিযোগও উঠেছে রনির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি টি অ্যান্ড টি মাঠ সংলগ্ন দুটি গোডাউন ঘর দখলের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা যুব মহিলা দলের কর্মী আসমা বেগম বলেন,
“দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আমরা জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছি। তবুও আমাদের ভাগ্য বদলায়নি। এখন আমাদের পরিবারের দোকানও জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
অন্যদিকে বনানীর পশ্চিমপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে রনির ঘনিষ্ঠ কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগ রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিককে হুমকি
দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বনানী ১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লিটনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর এক সংবাদকর্মীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হানিফ মাহমুদুল নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ওই সাংবাদিককে মন্তব্য করে বলা হয়—“দেহ থেকে চামড়া তুলে ফেলা হবে।”
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হুমকি হিসেবে দেখছেন।
বিধবা নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদাবাজির অভিযোগ
এদিকে বনানী যুবদল নেতা লিটনের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী বনানী ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্যাটেলাইট এলাকার বাসিন্দা রেশমি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কিছু ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে বিকাশের মাধ্যমে তার কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
রেশমি জানান, এ সংক্রান্ত বিকাশ লেনদেনের একাধিক স্ক্রিনশট তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে আমাকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছে। এখন আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ—আমাকে সুরক্ষা দিন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন।”
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বনানী থানায় লিটনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পায়নি।
অভিযুক্তদের বক্তব্য মেলেনি
অভিযোগের বিষয়ে মইনুল ইসলাম রনি, তার ভাই জনি এবং লিটনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু স্থানীয় সংগঠন নয়, বরং দলের ভাবমূর্তি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আত্রাইয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

বনানীতে রনি-লিটনের বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশে সাংবাদিককে ‘চামড়া তুলে ফেলার’ হুমকি

আপডেট সময় ১১:৩২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর বনানী এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কমিটি দখল, চাঁদাবাজি, সরকারি খাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বনানী থানা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত মইনুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বনানী ১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লিটনের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল ও সংবাদকর্মীর চামড়া তুলে নিবে বলে হানিফ মাহমুদুল বি আইডি থেকে লিটনের বিশ্বস্ত কর্মী কর্মী হুমকি দেন। তথ্যসূত্র জানা যায়, মানুষকে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ ওদের বিরুদ্ধে।এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্র ও দলীয় একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে বনানী থানা যুবদলের নেতৃত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন মইনুল ইসলাম রনি। অভিযোগ রয়েছে, বনানী থানা বিএনপির আহ্বায়ক মনির বহিষ্কৃত হওয়ার পর দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও রহস্য জনকভাবে সেই দায়িত্ব চলে যায় রনির হাতে।এ যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দলের জন্য জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করা প্রকৃত কর্মীদের পাশ কাটিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র বনানীর রাজনীতিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই রনি এলাকায় তার প্রভাব বিস্তার আরও বাড়িয়ে দেন এবং বিভিন্ন জায়গায় দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে সরকারি খাল, দোকানপাট এবং বস্তি এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রভাব খাটিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে রনির ভাই জনির বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। মহাখালীর কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, জনি এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো নথি বা আদালতের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর রনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি তার ভাই জনির জামিন হওয়ার পর এলাকায় তাদের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বনানী মহিলা দলের এক নেত্রীর দোকান এবং বস্তি এলাকায় একটি সার্ভিসিং সেন্টার দখলের অভিযোগও উঠেছে রনির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি টি অ্যান্ড টি মাঠ সংলগ্ন দুটি গোডাউন ঘর দখলের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা যুব মহিলা দলের কর্মী আসমা বেগম বলেন,
“দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আমরা জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছি। তবুও আমাদের ভাগ্য বদলায়নি। এখন আমাদের পরিবারের দোকানও জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
অন্যদিকে বনানীর পশ্চিমপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে রনির ঘনিষ্ঠ কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগ রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিককে হুমকি
দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বনানী ১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লিটনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর এক সংবাদকর্মীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হানিফ মাহমুদুল নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ওই সাংবাদিককে মন্তব্য করে বলা হয়—“দেহ থেকে চামড়া তুলে ফেলা হবে।”
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হুমকি হিসেবে দেখছেন।
বিধবা নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদাবাজির অভিযোগ
এদিকে বনানী যুবদল নেতা লিটনের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী বনানী ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্যাটেলাইট এলাকার বাসিন্দা রেশমি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কিছু ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে বিকাশের মাধ্যমে তার কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
রেশমি জানান, এ সংক্রান্ত বিকাশ লেনদেনের একাধিক স্ক্রিনশট তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে আমাকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছে। এখন আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ—আমাকে সুরক্ষা দিন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন।”
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বনানী থানায় লিটনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পায়নি।
অভিযুক্তদের বক্তব্য মেলেনি
অভিযোগের বিষয়ে মইনুল ইসলাম রনি, তার ভাই জনি এবং লিটনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু স্থানীয় সংগঠন নয়, বরং দলের ভাবমূর্তি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।