বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-তে এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ৪৬ ঘণ্টার ব্যবধানে এক উপপরিচালকের দেওয়া বদলি আদেশ অন্য উপপরিচালকের স্বাক্ষরে বাতিল করার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার নেপথ্যে ‘মোটা অংকের লেনদেন’ এবং প্রশাসনের ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রভাব রয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
গত ৭ই মার্চ বিআরটিএ-র উপপরিচালক (প্রশাসন) তানভীর আহমেদ সিদ্দিকি স্বাক্ষরিত এক আদেশে (স্মারক নম্বর: ৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০১০৮.২৫.৪৯৮) সংস্থার বিতর্কিত কর্মচারী রফিককে বদলি করা হয়। প্রশাসনিক শৃঙ্খলার স্বার্থে এই বদলি করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মাত্র ১ দিন পর আদেশ বাতিল:
আদেশ জারির মাত্র এক দিন পর অর্থাৎ ৯ই মার্চ সেই বদলি আদেশ রহস্যজনকভাবে স্থগিত বা বাতিল করা হয়। নতুন এই আদেশে (স্মারক নম্বর: ৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০১০৮.২৫-৫২৫) স্বাক্ষর করেন বিআরটিএ-র আরেক উপপরিচালক (প্রশাসন) হেমায়েত উদ্দিন।
অভিযোগের তীর যেদিকে:
বিআরটিএ কার্যালয়ে এখন প্রধান আলোচনার বিষয়—কিভাবে একজন কর্মকর্তার দেওয়া আদেশ অন্য কর্মকর্তা এত দ্রুত বাতিল করলেন? অভিযোগ উঠেছে, তথাকথিত ‘দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে পরিচিত রফিক তার খুঁটির জোরে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে এই আদেশ বাতিল করিয়েছেন। সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে যে, যদি এভাবেই অনিয়ম চলতে থাকে তবে সৎ কর্মকর্তাদের কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বিআরটিএ’র বক্তব্য:
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, একই পদে থাকা দুইজন কর্মকর্তার ভিন্ন ভিন্ন আদেশে সংস্থার চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ বদলি প্রক্রিয়ায় এমন ‘ইউ-টার্ন’ সাধারণ কোনো ঘটনা নয়, এর পেছনে নিশ্চিতভাবেই বিশেষ কোনো স্বার্থ কাজ করেছে। এই চাঞ্চল্যকর বদলি বাতিলের ঘটনায় বিআরটিএ-র উচ্চপর্যায় থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
উল্লেখ্য, আলোচিত বি আর টি এ কর্মকর্তা রফিক কখনও ম্যানেজ মাষ্টার কখনো ভাতিজা। সু-চতুর এরই ব্যক্তি চতুরতাকে হার মানিয়েছেন তিনি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেকেও মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। তার নাম রফিক ওরফে ভাতিজা রফিক।জানা গেছে, দেশের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা বিআরটিএ প্রকৌশললী রফিকুল ইসলাম ওরফে ভাতিজা রফিক। বহাল তবিয়তেই ঘুরে ফিরে এই জায়গায় থাকছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ঘুষ দূর্নীতি করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।
বিআরটিএ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফিক ওরফে ভাতিজা রফিক একজন ধুরন্ধর প্রকৌশলী। শুধু তাই নয়, ম্যানেজ মাষ্টার নামে খ্যাত রফিক পতিত সরকারের প্রভাব খাটিয়ে এহেন কাজ নেই যে তিনি করেন নি। যার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেত না বিআরটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া সামনে রফিকের প্রশংসা করলেও আড়লে ছিল ভিন্নতা।এরই কর্মকর্তার উপর বিআরটিএ’ তটস্থ থাকত। প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে বিআরটিএ এর বরিশাবিভাগীয় কার্যালয়ে বদলী করার হয়। সেখানে মাত্র ৯ মাস দায়িত্ব পালনের ক্ষমতার দাপটে আবার তাকে ঢাকা সদর কার্যালয়ে বিআরটিএ এর রোড সেফটি ও বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো সার্কে-৪ এর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে। যিনি এক সময় পরিচয় দিতেন সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তার চাচা। তার অন্যতম সহযোগিদের মধ্যেচট্টহ্রাসের দেওয়াহাট, সুপারি ওয়ালা পাড়ার রাজা মিয়া এন্ড সন্স, দিলু মিয়া এন্ড সন্স, চট্টগ্রামের ডাবল মুড়িং থানার দেওয়ানহাট মিস্ত্রিপাড়া।
আবার চট্টগ্রামের পুলিশ লাইন্স এর ছোট পোল এলাকারইমাম ডেন্টিং, জাফর এন্ড কোম্পানি চট্টগ্রামের বাদুরতলা। গাউছিয়া মোটরস, বাদুরতলা চট্টগ্রাম। চট্ট্রগ্রামের বাদুরতলার মঞ্জু এন্ড কোম্পানি। আর চট্টগ্রামের সিএনজি অটোরিক্সার রেজিস্ট্রেশন দিবে বলে রফিক শোরুম গুলার মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বিভিন্ন সূত্র অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাছাড়া, ঢাকা জেলার সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশনের একেকটা হইতে কমপক্ষে এক লক্ষ টাকা করে নিয়েছেন। যদি তিনি ৫ হাজার রেজিস্ট্রেশন দিয়ে থাকেন কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দিগন্ত অটো সেন্টার, মগবাজার রেলগেট মালিক কমল কুমার রায় গৌতম এর কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
বর্তমান সরকার এই চাঞ্চল্যকর বদলি বাতিলের ঘটনায় বিআরটিএ-র উচ্চপর্যায় থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেয় কিনা এখন সেটিই দেখার বিষয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























