ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১৫ রোগীকে হত্যা, জার্মান চিকিৎসকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কুয়েত, বাহরাইনে ফের হামলা চালাল ইরান বড়লেখায় ৩০ বছরের পুরনো রাস্তা অবরুদ্ধ করে হামলা ও নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ফিফা থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার নিয়ে দেশে ফিরছে মিশর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ খাতে ‘ঐতিহাসিক’ অংশীদারত্বের আহ্বান মোদির সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ঢাকাসহ ২০ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা বান্দরবানে পাহাড়ধস, ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুসহ ৫ জনের প্রাণহানি আর্জেন্টাইন রেফারিরা দায়িত্বে, অস্বস্তিতে এমবাপ্পে? অস্তিত্বহীন অফিসে গণপূর্তের ৩১১ কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে উঠেছে অভিযোগ

গংগাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঔষধ কোম্পানির দৌরাত্ম্য : সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে

‎গংগাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে রোগীর চেয়ে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সংখ্যা বেশি। তারা প্রতিটি প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে নিচ্ছে এবং নিজেদের কোম্পানির ঔষধ লিখে দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের বিভিন্ন উপহার দিচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

‎হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী খাদিজা বেগম বলেন, “ডাক্তার দেখানোর জন্য লাইনে দাঁড়াই, কিন্তু দেখি চারপাশে ঔষধ কোম্পানির লোকজন ঘুরঘুর করছে। ডাক্তারের রুমের সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকে। আমাদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি করে। এদের জ্বালায় হাসপাতালে আসতেই ইচ্ছে করে না।”

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “গরীব মানুষ আমরা, সরকারি হাসপাতালে আসি একটু কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার আশায়। কিন্তু এখানে এসেও শান্তি নেই। ঔষধ কোম্পানির লোকেরা ডাক্তারদের পেছনে লেগে থাকে, যাতে তাদের কোম্পানির ঔষধ লেখে। এতে করে ডাক্তাররা আমাদের কথা ভালো করে শোনেন না।”

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী জানান, “প্রতিদিন ২০-২৫ জন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি হাসপাতালে আসে। তারা ডাক্তারদের সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করে। অনেক সময় তারা ডাক্তারদের বিভিন্ন গিফট দিয়ে থাকে, যাতে তাদের কোম্পানির ঔষধ বেশি লেখা হয়। এতে করে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।”

‎এ বিষয়ে গংগাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলেমুল বাসার বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। চিকিৎসকদেরও বলা হয়েছে, তারা যেন কোনো প্রকার উপহার গ্রহণ না করেন। আমরা চেষ্টা করছি হাসপাতালের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে।”
‎‎‎
‎এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর হতে হবে। ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে এবং চিকিৎসকদেরও নৈতিকতা বজায় রেখে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই দৌরাত্ম্য বন্ধ করা জরুরি।

‎ ১) কোম্পানির লোক হাসপাতালে অবস্থান নিয়ে
‎২) প্রতেক রোগীর পেসক্রিপশন এর ছবি তোলা হচ্ছে
‎ ৩) ডাক্তার কে উপহার দেওয়া
‎৪)হুট হাট করে ডাক্তার এর রুমে প্রবেশ?

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ রোগীকে হত্যা, জার্মান চিকিৎসকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

গংগাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঔষধ কোম্পানির দৌরাত্ম্য : সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে

আপডেট সময় ১২:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

‎গংগাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে রোগীর চেয়ে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সংখ্যা বেশি। তারা প্রতিটি প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে নিচ্ছে এবং নিজেদের কোম্পানির ঔষধ লিখে দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের বিভিন্ন উপহার দিচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

‎হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী খাদিজা বেগম বলেন, “ডাক্তার দেখানোর জন্য লাইনে দাঁড়াই, কিন্তু দেখি চারপাশে ঔষধ কোম্পানির লোকজন ঘুরঘুর করছে। ডাক্তারের রুমের সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকে। আমাদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি করে। এদের জ্বালায় হাসপাতালে আসতেই ইচ্ছে করে না।”

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “গরীব মানুষ আমরা, সরকারি হাসপাতালে আসি একটু কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার আশায়। কিন্তু এখানে এসেও শান্তি নেই। ঔষধ কোম্পানির লোকেরা ডাক্তারদের পেছনে লেগে থাকে, যাতে তাদের কোম্পানির ঔষধ লেখে। এতে করে ডাক্তাররা আমাদের কথা ভালো করে শোনেন না।”

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী জানান, “প্রতিদিন ২০-২৫ জন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি হাসপাতালে আসে। তারা ডাক্তারদের সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করে। অনেক সময় তারা ডাক্তারদের বিভিন্ন গিফট দিয়ে থাকে, যাতে তাদের কোম্পানির ঔষধ বেশি লেখা হয়। এতে করে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।”

‎এ বিষয়ে গংগাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলেমুল বাসার বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। চিকিৎসকদেরও বলা হয়েছে, তারা যেন কোনো প্রকার উপহার গ্রহণ না করেন। আমরা চেষ্টা করছি হাসপাতালের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে।”
‎‎‎
‎এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর হতে হবে। ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে এবং চিকিৎসকদেরও নৈতিকতা বজায় রেখে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই দৌরাত্ম্য বন্ধ করা জরুরি।

‎ ১) কোম্পানির লোক হাসপাতালে অবস্থান নিয়ে
‎২) প্রতেক রোগীর পেসক্রিপশন এর ছবি তোলা হচ্ছে
‎ ৩) ডাক্তার কে উপহার দেওয়া
‎৪)হুট হাট করে ডাক্তার এর রুমে প্রবেশ?