ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ববি’তে নারী শিক্ষার্থীদের গোপনে ছবি–ভিডিও ধারণের অভিযোগ এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের তুর্য নামের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মেয়েদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারন করে মানহানি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪মার্চ) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস বরাবর সাধারণ শিক্ষার্থী ও সনাতন ধর্মালম্বী ছাত্রীরা পৃথক পৃথক দুটি অভিযোগ দিয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ স্নাতক শিক্ষাবর্ষ ৭ম ব্যাচের (স্নাতকোত্তর) এক ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে (অভিযুক্তের বক্তব্য অনুযায়ী ২০২৪ সাল থেকে) সহপাঠী নারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ছবি তার নিজ ডিভাইসে সংরক্ষণ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তার ডিভাইস জব্দ করে সেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে সম্পাদিত ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দাবি করেন, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন নয়; বরং এটি একটি সংগঠিত চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধও হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সনাতন ধর্মালম্বী ছাত্রী বলেন, আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের। পুজার সময় আমাদের একসাথে অনেক কাজ করতে হয়৷ এজন্য অনেক সময় থাকতে চায়৷ আমাদের অনেক সিঙ্গেল এবং গ্রুপ ফটো তার ফোনে আছে। এক্ষেত্রে সে আমাদের আপত্তিকর ছবি তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার যথাযথ বিচার দাবি করছি।

রসায়ন বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ মিরাজ বলেন, গতকাল রাতে ইফতারের পরে নিজের একজন মেয়ে বন্ধুর অনুমতি ছাড়াই আপত্তি
কিছু ছবি তুলেছে। মেয়েটি দেখে ওর ফোন চেক করে। এসময় ওর ফোনে আরো শতশত মেয়ের আপত্তিকর ছবি পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ওর নিজ ব্যাচের সহপাঠীরা ঘটনাস্থলে চলে আসে এসময় তারা ওর ফোন চেক করে আপত্তিকর ছবি দেখে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে যায়। পরে আটকে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর টিম,বিভাগের শিক্ষকদের খবর দেয়৷ তাদের উপস্থিতিতে রাতেই বিষয়টি নিয়ে কি পদক্ষেপ নেয়া তা নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা মাকে জানায়। সকালে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। এ সময় পুরো বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে মানববন্ধন করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন,’বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী আমাদের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল আছে তাদেরকে বলবো তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে। পাশাপাশি এ ছেলে যে ছবি তুলেছে সেগুলো বাইরে কোথাও দিয়েছে কিনা, অন্যকোনো চ্যানেলের সাথে যুক্ত কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। আমরা এখন পুলিশে মামলা দিবো এবং আইন অনুযায়ী আগাবো।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

ববি’তে নারী শিক্ষার্থীদের গোপনে ছবি–ভিডিও ধারণের অভিযোগ এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৭:০০:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের তুর্য নামের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মেয়েদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারন করে মানহানি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪মার্চ) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস বরাবর সাধারণ শিক্ষার্থী ও সনাতন ধর্মালম্বী ছাত্রীরা পৃথক পৃথক দুটি অভিযোগ দিয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ স্নাতক শিক্ষাবর্ষ ৭ম ব্যাচের (স্নাতকোত্তর) এক ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে (অভিযুক্তের বক্তব্য অনুযায়ী ২০২৪ সাল থেকে) সহপাঠী নারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ছবি তার নিজ ডিভাইসে সংরক্ষণ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তার ডিভাইস জব্দ করে সেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে সম্পাদিত ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দাবি করেন, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন নয়; বরং এটি একটি সংগঠিত চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধও হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সনাতন ধর্মালম্বী ছাত্রী বলেন, আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের। পুজার সময় আমাদের একসাথে অনেক কাজ করতে হয়৷ এজন্য অনেক সময় থাকতে চায়৷ আমাদের অনেক সিঙ্গেল এবং গ্রুপ ফটো তার ফোনে আছে। এক্ষেত্রে সে আমাদের আপত্তিকর ছবি তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার যথাযথ বিচার দাবি করছি।

রসায়ন বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ মিরাজ বলেন, গতকাল রাতে ইফতারের পরে নিজের একজন মেয়ে বন্ধুর অনুমতি ছাড়াই আপত্তি
কিছু ছবি তুলেছে। মেয়েটি দেখে ওর ফোন চেক করে। এসময় ওর ফোনে আরো শতশত মেয়ের আপত্তিকর ছবি পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ওর নিজ ব্যাচের সহপাঠীরা ঘটনাস্থলে চলে আসে এসময় তারা ওর ফোন চেক করে আপত্তিকর ছবি দেখে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে যায়। পরে আটকে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর টিম,বিভাগের শিক্ষকদের খবর দেয়৷ তাদের উপস্থিতিতে রাতেই বিষয়টি নিয়ে কি পদক্ষেপ নেয়া তা নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা মাকে জানায়। সকালে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। এ সময় পুরো বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে মানববন্ধন করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন,’বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী আমাদের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল আছে তাদেরকে বলবো তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে। পাশাপাশি এ ছেলে যে ছবি তুলেছে সেগুলো বাইরে কোথাও দিয়েছে কিনা, অন্যকোনো চ্যানেলের সাথে যুক্ত কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। আমরা এখন পুলিশে মামলা দিবো এবং আইন অনুযায়ী আগাবো।’