মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ কার্যালয়ের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর রইছ উদ্দিন শ্যামল বাবু ও তার স্ত্রী হাসিনা খাতুনের রয়েছে বিপুল সম্পদ। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ময়মনসিংহ কার্যালয় কর্তৃক জ্ঞাত আয়ে বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় দাখিল করা চার্জশিট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি কমিশনে দুইজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
যত সম্পদ:
শ্যামল বাবুর ময়মনসিংহ নগরীতে সাততলা, একতলার দুটি আলিশান বাড়িসহ আরও অনেক সম্পত্তি রয়েছে। ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে প্রথম স্ত্রী হাসিনা খাতুনকে ময়মনসিংহ নগরের গোহাইলকান্দি এলাকায় পাঁচতলার আলিশান বাড়ি নির্মাণ করে দেন রইছ উদ্দিন শ্যামল ওরফে বাবু। ৩ শতাংশ জায়গার ওপর বাড়িটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় প্রায় দুই কোটি টাকা। এ ছাড়া বাদেকল্পা এলাকায় ৬ শতাংশ জায়গায় আলিশান সাততলা ভবনের তৃতীয় তলায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন বাবু। এর পাশেই ১৩ শতাংশ জায়গায় রয়েছে একতলা আরেকটি বাড়ি। এই এলাকায় আরও দুটি জায়গা রয়েছে বাবুর।
দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে হাসিনা খাতুন ৪৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেন। সেই সঙ্গে ২ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৮ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগদখলে রাখেন।
২০০৪ সালে সরকারি বিদ্যালয়ে পিয়ন পদে চাকরিতে যোগদান করেন তিনি। পরে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের হিসাবরক্ষক হন। রইছ উদ্দিন শ্যামল সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে বদলি হয়েছেন।
তার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, শ্যামল বাবু ও তার স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এলে অনুসন্ধান শেষে এর সত্যতা মেলে। দুর্নীতি দমন কমিশন ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয় হাসিনা খাতুনের সম্পদ বিবরণের আদেশ জারি করলে ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি তা দাখিল করেন। তারপর প্রধান কার্যালয় ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি সম্পদ যাচাইয়ের নির্দেশ দিলে যাচাই শেষে ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি কমিশন রইছ উদ্দিন শ্যামল এবং তাঁর স্ত্রী হাসিনা খাতুনের নামে এজাহারের অনুমতি দেয়। তদন্ত শেষে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অসম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চারসিট দাখিল করা হয়।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে হাসিনা খাতুন একজন গৃহিণী। তাঁর স্বামী একজন সরকারি কর্মচারী। হাসিনার নিজস্ব কোনো আয় না থাকলেও তাঁর স্বামীর ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ বৈধ করার লক্ষ্যে আয়কর নথি খুলে ব্যবসাসহ বিভিন্ন আয় প্রদর্শন করেছেন। যেসবের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক রনজিৎ কুমার কর্মকার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘ তদন্তের পর রইছ উদ্দিন শ্যামল এবং তাঁর স্ত্রী হাসিনা খাতুনের নামে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক শাহাদাত হোসেন। তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























