ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলডিসি উত্তরণে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি জোরদারের আহ্বান ডিসিসিআইর পবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ভাড়া ফ্রী করল প্রশাসন উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি বিশ্বকাপের ধাক্কার পর জু’য়া খেলতে গিয়েও হারলেন নেইমার টিকটকার লিটন ও লেবু মিয়ার চুল কেটে দিল জনতা মাদলা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মোটরসাইকেল জব্দ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বন্যার্তদের পাশে ৫২ বিজিবি: ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও খাবার বিতরণ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: আরও ৫ দেশে চালু হচ্ছে এনআইডি সেবা বিএমইটিতে নূর-এ-আলমকে ঘিরে দাপুটে সিন্ডিকেটের অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রী ‘স্ট্যান্টবাজি ও টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ’ : হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজশাহীতে আম উৎপাদন কমার শঙ্কা, এক বছরে উজাড় ৫৪১ হেক্টর বাগান

রাজশাহীর বিস্তীর্ণ প্রান্তরে একসময় যতদূর চোখ যেত, দেখা মিলত সবুজে ঘেরা আমবাগানের। সেই বাগানই এখন হারিয়ে যাচ্ছে নীরবে। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার ক্ষোভে গত বছর জেলার সবচেয়ে বেশি আমবাগান উজাড় করেছেন চাষিরা। এতে কমেছে ৫৪১ হেক্টর আমবাগান, যেখানে বছরে উৎপাদন হতো প্রায় ১৪ হাজার ৪০০ টন আম। বাগান উজাড়ের এই প্রভাব পড়তে পারে চলতি মৌসুমের আমের বাজারে- কমতে পারে সরবরাহ, বাড়তে পারে দাম, আর এর মধ্যেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন আমনির্ভর কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

ইতোমধ্যে ভরা বসন্তে আমের মুকুলে সেজেছে রাজশাহীর বাগানগুলো। কোথাও স্বর্ণালী, কোথাও আবার খয়েরি ছোঁয়ায় রঙিন এমন দৃশ্য যেন প্রকৃতির নিজস্ব উৎসব। হালকা ঊষ্ণ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ, আর সেই সুবাসে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন বাগানিরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের। গেল বছর ছিল ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর। লক্ষমাত্রা ২ লাখ ৬০ হাজার টন। এক বছরে কমেছে ৫৪১ হেক্টর আম বাগান।

অপরদিকে, লিচু ৫২৮ হেক্টর বাগানে লিচুর চাষ হয়েছিল। এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৭৬৮ টন। এক বছরের ব্যাবধানে দুই হেক্টর কমেছে লিচু চাষ। তবে লিচু চাষের জমি কমলেও উৎপাদন বাড়ার আভাস দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৫ টন। আম চাষি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাগান উজাড় করার সঙ্গত কারণে কমবে আম ও লিচুর উৎপাদন। রাজশাহী জেলায় আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে আমের বাগান।

চাষিদের আম বাগান উজাড় রোধে সরকারের কোনো দপ্তরের কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ফলে জেলায় এক বছরে আমের বাগান কমেছে ৫৪১ হেক্টর। সেই হিসেবে আমের উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে ১৪ হাজার ৪০০ টন। একইভাবে বছরের ব্যবধানে দুই হেক্টর বাগান কমেছে লিচুর। তবুও উৎপাদন বাড়ার কথা বলছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ আমগাছে মুকুল এসেছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলনের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী কৃষকরা। ইতোমধ্যে মুকুল টিকিয়ে রাখতে চলছে নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যা কেউ স্প্রে করছেন কীটনাশক, কেউবা শাখা ছেঁটে দিচ্ছেন যত্নে।

গবেষকরাও বলছেন, এ বছর মুকুলের পরিমাণ ও আবহাওয়া দুটোই অনুকূলে থাকায় রাজশাহীর আমচাষিরা পাচ্ছেন সম্ভাবনাময় মৌসুম। তবে কিছুটা উদ্বেগও আছে। নানা কারণে কিছু বাগান কেটে ফেলায় গত বছরের তুলনায় এবছর কমবে আমের উৎপাদন।

আম চাষি শামিম হোসেন বলেন, গাছে আমের মুকুল ভালোই এসেছে। পরিচর্যা করা হচ্ছে। আশা করছি এইরকম আবহাওয়া থাকলে আমের মুকুল থেকে দ্রুত গুটি বাঁধবে, তাহলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এবার কুয়াশা কম, বৃষ্টিপাত হয়নি। সব মিলে আমের ভালো মৌসুম ধরা হচ্ছে।

বাঘার আম চাষি সুমন আহমেদ বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমের ভালো দাম না পাওয়ার কারণে আমরাও গাছ কেটে ফেলেছিলাম। একই কারণে আমাদের মতো অনেকেই আমের বাগান উজাড় করেছে। এখন দেখার বিষয় চাষিরা দাম টিক মতো পায় কিনা। আবহাওয়া আম চাষের জন্য উপযোগী রয়েছে এ বছর।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর শীতের সময় কম ছিল। তাই জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে গাছে মুকুল আসতে শুরু করে। মুকুল পর্যায়ে এই ধরনের আবহাওয়া থাকলে ফলধারণ ভালো হবে। সেই ফলগুলো যদি টিকে তাহলে আশা করা যায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।

জেলার বাঘায় সবচেয়ে বেশি আমের বাগান উজাড় করা হয়েছে। এতে উৎপাদনে প্রভাবের বিষয়ে কথা হয় আমের ব্যবসায়ী আতিকুলের সঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু অনেক আমের বাগান উজাড় করা হয়েছে। তাই আমের উৎপাদন কম হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে আম গাছগুলো কাটা রোধে প্রশাসনিকভাবে চাষিদের বোঝানো বা বাধা দেওয়া হয়নি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) ড. আব্দুল মজিদ বলেন, কৃষকের লাভের বিষয়টি নির্ভর করছে আমের দামের ওপরে। এ বছর কুয়াশা ও অসময়ে বৃষ্টি হয়নি। ফলন ভালো হবে আশা করা যাচ্ছে।

গেল বছর ৫৪১ হেক্টর আমের বাগান কেটে উজাড় করা হয়েছে। এতে আমের বাজারে প্রভাব পড়তে পারে কিনা এমন কথার উত্তরে তিনি বলেন, যে আমবাগান কমেছে যদি ফলন ভালো হয় তাহলে অতটা ইফেক্ট পরবে না। তবে গত বছর যেহেতু আম পাকার সময়ে ছুটি পড়েছিল, এর ফলে অনেকে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। তখন আম খায়নি অনেকে। তবে এবার সেইরকম পরিস্থিতি হবে না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী জুলফিকার আলী বলেন, চাষিরা আম গাছ কাটছেন, এর মূল কারণ লাভ কমে গেছে। আমের উৎপাদন কমে গেছে। মার্কেটে দাম তেমন পাচ্ছে না। আগে রাজশাহী অঞ্চলে প্রচুর আম হতো। এখন নওগাঁ সেই জায়গাটা দখল করেছে। সাতক্ষীরা এখন বান্দরবানের কিছু এলাকায় আমের চাষ হচ্ছে। রাজশাহীতে এক সময় ধানের চাষ বেশি হতো। চাষিরা মনে করেছিলেন ধানের থেকে আম চাষ লাভজনক। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে চালের দাম বেশি ও ডিমান্ডও বেশি। তার কারণে এখন দেখা যাচ্ছে, চাষিরা মনে করছেন আম বাদ দিয়ে আমাদের ধানচাষে চলে যাওয়া ভালো। এটা একটা বড় কারণ।

তিনি বলেন, আমাদের রাজশাহীর আমগুলো লেট ভেরাইটির। সাতক্ষীরার আমগুলো বাজারে আগে আসে। তারা কিছু ভালো দাম পায়। রাজশাহী, নওগাঁ ও রংপুর অঞ্চলের আমগুলো বেশিরভাগই লেট ভেরাইটিস। এসব আমগুলো একই সময়ে বাজারজাতকরণ হয়। এই কারণে প্রচুর আম বাজারে সরবরাহ চলে আসে। সঙ্গত কারণে দাম কমে যায়। আম যেহেতু একটি প্রচনশীল দ্রব্য, ইচ্ছা করলেই চাষিরা আলু বা অন্য ফসলের মতো রেখে দিতে পারেন না। সংরক্ষণের উপায় নেই। যার কারণে দাম না পেয়ে তার পরের বছর আর চাষিরা এটা চাষ করতে চান না।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলডিসি উত্তরণে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি জোরদারের আহ্বান ডিসিসিআইর

রাজশাহীতে আম উৎপাদন কমার শঙ্কা, এক বছরে উজাড় ৫৪১ হেক্টর বাগান

আপডেট সময় ১২:০২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর বিস্তীর্ণ প্রান্তরে একসময় যতদূর চোখ যেত, দেখা মিলত সবুজে ঘেরা আমবাগানের। সেই বাগানই এখন হারিয়ে যাচ্ছে নীরবে। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার ক্ষোভে গত বছর জেলার সবচেয়ে বেশি আমবাগান উজাড় করেছেন চাষিরা। এতে কমেছে ৫৪১ হেক্টর আমবাগান, যেখানে বছরে উৎপাদন হতো প্রায় ১৪ হাজার ৪০০ টন আম। বাগান উজাড়ের এই প্রভাব পড়তে পারে চলতি মৌসুমের আমের বাজারে- কমতে পারে সরবরাহ, বাড়তে পারে দাম, আর এর মধ্যেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন আমনির্ভর কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

ইতোমধ্যে ভরা বসন্তে আমের মুকুলে সেজেছে রাজশাহীর বাগানগুলো। কোথাও স্বর্ণালী, কোথাও আবার খয়েরি ছোঁয়ায় রঙিন এমন দৃশ্য যেন প্রকৃতির নিজস্ব উৎসব। হালকা ঊষ্ণ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ, আর সেই সুবাসে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন বাগানিরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের। গেল বছর ছিল ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর। লক্ষমাত্রা ২ লাখ ৬০ হাজার টন। এক বছরে কমেছে ৫৪১ হেক্টর আম বাগান।

অপরদিকে, লিচু ৫২৮ হেক্টর বাগানে লিচুর চাষ হয়েছিল। এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৭৬৮ টন। এক বছরের ব্যাবধানে দুই হেক্টর কমেছে লিচু চাষ। তবে লিচু চাষের জমি কমলেও উৎপাদন বাড়ার আভাস দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৫ টন। আম চাষি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাগান উজাড় করার সঙ্গত কারণে কমবে আম ও লিচুর উৎপাদন। রাজশাহী জেলায় আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে আমের বাগান।

চাষিদের আম বাগান উজাড় রোধে সরকারের কোনো দপ্তরের কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ফলে জেলায় এক বছরে আমের বাগান কমেছে ৫৪১ হেক্টর। সেই হিসেবে আমের উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে ১৪ হাজার ৪০০ টন। একইভাবে বছরের ব্যবধানে দুই হেক্টর বাগান কমেছে লিচুর। তবুও উৎপাদন বাড়ার কথা বলছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ আমগাছে মুকুল এসেছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলনের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী কৃষকরা। ইতোমধ্যে মুকুল টিকিয়ে রাখতে চলছে নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যা কেউ স্প্রে করছেন কীটনাশক, কেউবা শাখা ছেঁটে দিচ্ছেন যত্নে।

গবেষকরাও বলছেন, এ বছর মুকুলের পরিমাণ ও আবহাওয়া দুটোই অনুকূলে থাকায় রাজশাহীর আমচাষিরা পাচ্ছেন সম্ভাবনাময় মৌসুম। তবে কিছুটা উদ্বেগও আছে। নানা কারণে কিছু বাগান কেটে ফেলায় গত বছরের তুলনায় এবছর কমবে আমের উৎপাদন।

আম চাষি শামিম হোসেন বলেন, গাছে আমের মুকুল ভালোই এসেছে। পরিচর্যা করা হচ্ছে। আশা করছি এইরকম আবহাওয়া থাকলে আমের মুকুল থেকে দ্রুত গুটি বাঁধবে, তাহলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এবার কুয়াশা কম, বৃষ্টিপাত হয়নি। সব মিলে আমের ভালো মৌসুম ধরা হচ্ছে।

বাঘার আম চাষি সুমন আহমেদ বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমের ভালো দাম না পাওয়ার কারণে আমরাও গাছ কেটে ফেলেছিলাম। একই কারণে আমাদের মতো অনেকেই আমের বাগান উজাড় করেছে। এখন দেখার বিষয় চাষিরা দাম টিক মতো পায় কিনা। আবহাওয়া আম চাষের জন্য উপযোগী রয়েছে এ বছর।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর শীতের সময় কম ছিল। তাই জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে গাছে মুকুল আসতে শুরু করে। মুকুল পর্যায়ে এই ধরনের আবহাওয়া থাকলে ফলধারণ ভালো হবে। সেই ফলগুলো যদি টিকে তাহলে আশা করা যায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।

জেলার বাঘায় সবচেয়ে বেশি আমের বাগান উজাড় করা হয়েছে। এতে উৎপাদনে প্রভাবের বিষয়ে কথা হয় আমের ব্যবসায়ী আতিকুলের সঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু অনেক আমের বাগান উজাড় করা হয়েছে। তাই আমের উৎপাদন কম হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে আম গাছগুলো কাটা রোধে প্রশাসনিকভাবে চাষিদের বোঝানো বা বাধা দেওয়া হয়নি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) ড. আব্দুল মজিদ বলেন, কৃষকের লাভের বিষয়টি নির্ভর করছে আমের দামের ওপরে। এ বছর কুয়াশা ও অসময়ে বৃষ্টি হয়নি। ফলন ভালো হবে আশা করা যাচ্ছে।

গেল বছর ৫৪১ হেক্টর আমের বাগান কেটে উজাড় করা হয়েছে। এতে আমের বাজারে প্রভাব পড়তে পারে কিনা এমন কথার উত্তরে তিনি বলেন, যে আমবাগান কমেছে যদি ফলন ভালো হয় তাহলে অতটা ইফেক্ট পরবে না। তবে গত বছর যেহেতু আম পাকার সময়ে ছুটি পড়েছিল, এর ফলে অনেকে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। তখন আম খায়নি অনেকে। তবে এবার সেইরকম পরিস্থিতি হবে না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী জুলফিকার আলী বলেন, চাষিরা আম গাছ কাটছেন, এর মূল কারণ লাভ কমে গেছে। আমের উৎপাদন কমে গেছে। মার্কেটে দাম তেমন পাচ্ছে না। আগে রাজশাহী অঞ্চলে প্রচুর আম হতো। এখন নওগাঁ সেই জায়গাটা দখল করেছে। সাতক্ষীরা এখন বান্দরবানের কিছু এলাকায় আমের চাষ হচ্ছে। রাজশাহীতে এক সময় ধানের চাষ বেশি হতো। চাষিরা মনে করেছিলেন ধানের থেকে আম চাষ লাভজনক। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে চালের দাম বেশি ও ডিমান্ডও বেশি। তার কারণে এখন দেখা যাচ্ছে, চাষিরা মনে করছেন আম বাদ দিয়ে আমাদের ধানচাষে চলে যাওয়া ভালো। এটা একটা বড় কারণ।

তিনি বলেন, আমাদের রাজশাহীর আমগুলো লেট ভেরাইটির। সাতক্ষীরার আমগুলো বাজারে আগে আসে। তারা কিছু ভালো দাম পায়। রাজশাহী, নওগাঁ ও রংপুর অঞ্চলের আমগুলো বেশিরভাগই লেট ভেরাইটিস। এসব আমগুলো একই সময়ে বাজারজাতকরণ হয়। এই কারণে প্রচুর আম বাজারে সরবরাহ চলে আসে। সঙ্গত কারণে দাম কমে যায়। আম যেহেতু একটি প্রচনশীল দ্রব্য, ইচ্ছা করলেই চাষিরা আলু বা অন্য ফসলের মতো রেখে দিতে পারেন না। সংরক্ষণের উপায় নেই। যার কারণে দাম না পেয়ে তার পরের বছর আর চাষিরা এটা চাষ করতে চান না।