সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, যে ব্যাখ্যা দিলেন রশিদ খান

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১২:১৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৮৮ বার পড়া হয়েছে

আইসিসির বিগত কয়েকটি ইভেন্টে স্মরণীয় পারফরম্যান্স করেছিল আফগানিস্তান। সেখান থেকে তাদের পতনই হয়েছে বলা চলে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচ হেরেই রশিদ-নবিদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। ফলে গ্রুপপর্বে তাদের পরবর্তী দুটি ম্যাচ হয়ে পড়ে কেবলই নিয়মরক্ষার। মেগা টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের বিদায়ের কারণ এবং কোচ জনাথন ট্রটের সঙ্গে যাত্রাপথ শেষ হওয়ার প্রসঙ্গে কথা বলেছেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান।

২০২৪ বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ পড়েছিল আফগানিস্তান, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দুটি ম্যাচেই তারা লড়াই করে হেরেছে, বিশেষত প্রোটিয়াদের সঙ্গে দুটি সুপার ওভারের পর ম্যাচের ফল আসে। তাদের গ্রুপে কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও ছিল– তবে গ্রুপপর্বের লড়াইয়েই যে দুটি দল বাদে বাকিদের বিদায় ঘটবে তা অজানা ছিল না। প্রথম দুই ম্যাচে বড় দুটি দলকে সামলানো কঠিন চ্যালেঞ্জ বলে দাবি করলেন রশিদ। আর চারদিনের মাঝেই সেই দুটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে।

আফগান অধিনায়ক বলছেন, ‘এবারের আসরটা ভিন্ন ছিল। চারদিনের মধ্যে আমাদের নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলতে হয়েছে। ভুলের কোনো সুযোগ নেই, একটু হোঁচট খেলেই বিদায়। টি-টোয়েন্টিতে ভুল করলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন। সুপার এইটে উঠতে হলে বড় দলকে হারাতেই হবে, আর সেমিফাইনালে যেতে হলে আরও বড় দলকে। অস্ট্রেলিয়াও উঠতে পারেনি সুপার এইটে। এই ফরম্যাটে কাউকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। প্রথম দুই ম্যাচ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর শুরুতেই নিউজিল্যান্ড ও উগান্ডার বিপক্ষে জয় আমাদের গতি এনে দিয়েছিল। বড় দলের বিপক্ষে শুরু করা আলাদা চ্যালেঞ্জ, তবে এখান থেকে শিখে সামনে এগোতে হবে।’

গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছিল আফগানিস্তান। কিন্তু এবার তাদের গ্রুপপর্বেই থামতে হলো। বিপরীতে, ২০২৪ আসরে বাছাইপর্ব পেরোতে না পারা জিম্বাবুয়ে এবার সাবেক চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিদায় ঘটিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরপরই আরেকটি বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে হবে আফগানদের। দলটিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দলে পরিণত করার অন্যতম কারিগর জনাথন ট্রট তাদের কোচিং ছাড়ছেন। তার অধীনে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল এবং ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নকআউটের খুব কাছাকাছিও গিয়েছিল আফগানিস্তান।

কোচ ট্রটকে নিয়ে রশিদ বলেন, ‘আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) জনাথন ট্রটের সঙ্গে আমাদের শেষ ম্যাচ। আফগান ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। কেবল দক্ষতা নয়, মানসিক দিক থেকেও খেলোয়াড়দের উন্নত করেছেন। আমরা তাকে মিস করব। মাঠে ও মাঠের বাইরে আমাদের সঠিক পথে এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’ সামনের পথটা আফগানদের জন্য আরও চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। ট্রটের শূন্যতা পূরণ, ভিন্ন কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য। যেখানে নেতৃত্বে থেকে বড় ভূমিকা রাখতে হবে রশিদকে।

এরপর ক্রিকেটের বৈশ্বিক ইভেন্ট ২০২৭ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেদিকেও নজর রাখছেন রশিদ, এখন আর কিছুই সহজ হবে না। দলগুলো আমাদের বিপক্ষে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আসবে। দক্ষতা বাড়াতে হবে, প্রতিপক্ষের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকার পাশাপাশি চাপ সামলানো শিখতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ বড় পরীক্ষা। মানসিকতা ও দক্ষতার দিক থেকেও পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে। শুধু প্রতিভা নয়, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মানিয়ে নেওয়া ও পারফর্ম করাটাই আসল।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, যে ব্যাখ্যা দিলেন রশিদ খান

আপডেট সময় ১২:১৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আইসিসির বিগত কয়েকটি ইভেন্টে স্মরণীয় পারফরম্যান্স করেছিল আফগানিস্তান। সেখান থেকে তাদের পতনই হয়েছে বলা চলে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচ হেরেই রশিদ-নবিদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। ফলে গ্রুপপর্বে তাদের পরবর্তী দুটি ম্যাচ হয়ে পড়ে কেবলই নিয়মরক্ষার। মেগা টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের বিদায়ের কারণ এবং কোচ জনাথন ট্রটের সঙ্গে যাত্রাপথ শেষ হওয়ার প্রসঙ্গে কথা বলেছেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান।

২০২৪ বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ পড়েছিল আফগানিস্তান, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দুটি ম্যাচেই তারা লড়াই করে হেরেছে, বিশেষত প্রোটিয়াদের সঙ্গে দুটি সুপার ওভারের পর ম্যাচের ফল আসে। তাদের গ্রুপে কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও ছিল– তবে গ্রুপপর্বের লড়াইয়েই যে দুটি দল বাদে বাকিদের বিদায় ঘটবে তা অজানা ছিল না। প্রথম দুই ম্যাচে বড় দুটি দলকে সামলানো কঠিন চ্যালেঞ্জ বলে দাবি করলেন রশিদ। আর চারদিনের মাঝেই সেই দুটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে।

আফগান অধিনায়ক বলছেন, ‘এবারের আসরটা ভিন্ন ছিল। চারদিনের মধ্যে আমাদের নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলতে হয়েছে। ভুলের কোনো সুযোগ নেই, একটু হোঁচট খেলেই বিদায়। টি-টোয়েন্টিতে ভুল করলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন। সুপার এইটে উঠতে হলে বড় দলকে হারাতেই হবে, আর সেমিফাইনালে যেতে হলে আরও বড় দলকে। অস্ট্রেলিয়াও উঠতে পারেনি সুপার এইটে। এই ফরম্যাটে কাউকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। প্রথম দুই ম্যাচ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর শুরুতেই নিউজিল্যান্ড ও উগান্ডার বিপক্ষে জয় আমাদের গতি এনে দিয়েছিল। বড় দলের বিপক্ষে শুরু করা আলাদা চ্যালেঞ্জ, তবে এখান থেকে শিখে সামনে এগোতে হবে।’

গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছিল আফগানিস্তান। কিন্তু এবার তাদের গ্রুপপর্বেই থামতে হলো। বিপরীতে, ২০২৪ আসরে বাছাইপর্ব পেরোতে না পারা জিম্বাবুয়ে এবার সাবেক চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিদায় ঘটিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরপরই আরেকটি বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে হবে আফগানদের। দলটিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দলে পরিণত করার অন্যতম কারিগর জনাথন ট্রট তাদের কোচিং ছাড়ছেন। তার অধীনে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল এবং ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নকআউটের খুব কাছাকাছিও গিয়েছিল আফগানিস্তান।

কোচ ট্রটকে নিয়ে রশিদ বলেন, ‘আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) জনাথন ট্রটের সঙ্গে আমাদের শেষ ম্যাচ। আফগান ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। কেবল দক্ষতা নয়, মানসিক দিক থেকেও খেলোয়াড়দের উন্নত করেছেন। আমরা তাকে মিস করব। মাঠে ও মাঠের বাইরে আমাদের সঠিক পথে এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’ সামনের পথটা আফগানদের জন্য আরও চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। ট্রটের শূন্যতা পূরণ, ভিন্ন কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য। যেখানে নেতৃত্বে থেকে বড় ভূমিকা রাখতে হবে রশিদকে।

এরপর ক্রিকেটের বৈশ্বিক ইভেন্ট ২০২৭ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেদিকেও নজর রাখছেন রশিদ, এখন আর কিছুই সহজ হবে না। দলগুলো আমাদের বিপক্ষে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আসবে। দক্ষতা বাড়াতে হবে, প্রতিপক্ষের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকার পাশাপাশি চাপ সামলানো শিখতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ বড় পরীক্ষা। মানসিকতা ও দক্ষতার দিক থেকেও পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে। শুধু প্রতিভা নয়, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মানিয়ে নেওয়া ও পারফর্ম করাটাই আসল।’